• Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850

২০ বছরে এমন প্রশান্তি পাইনি !

নতুন ফেনী
প্রকাশ : মার্চ ১, ২০১৬ | সময় : ৭:৩৪ অপরাহ্ণ

মাষ্টার আবুল কালাম চৌধুরী। বয়স ৩৫। ফেনীর স্বনামধন্য একটি হাইস্কুলের সিনিয়র শিক্ষক। মেয়ের ক্রনিক সর্দ্দির জন্য আমাদের নিকট এসেছিল। মেয়ের চিকিৎসায় চৌধুরী সাহেব বেশ সন্তুষ্ট। তার পর একদিন বললেন আইবিএস ( ইরিটেবল ভাওয়েল সিনড্রম ) এর হোমিওপ্যাথিক কোন চিকিৎস আছে কিনা। আমি বিগত ২০ বছর ধরে এই রোগে কষ্ট পাচ্ছি। এই পর্যন্ত ঢাকা চট্টগ্রামে অনেক গ্যাষ্টোলিভারের প্রফেসার দেখিয়াছি। লক্ষ লক্ষ টাকার ঔষধ খেয়েছি। তেমন উপকার পাইনি। চিকিৎসকবৃন্দও বলেছেন আপনার এ রোগ সহজে ভাল হওয়ার নয়। আজীবন ঔষধ খেয়ে যেতে হবে। বর্তমানে ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া জনিত বিভিন্ন জটিলতা ও দুর্বলতা এসে গেছে।

চৌধুরী সাহেব কে বললাম হোমিওপ্যাথিতে আইবিএস রোগ ধরে নির্দিষ্ট কোন ঔষধ হয়না। হোমিওপ্যাথি সিম্পটোমেটিক্যাল চিকিৎসা। অর্থাৎ লক্ষণ ভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি। আপনার কষ্টকর রোগ লক্ষনের সাথে হোমিওপ্যাথিক ঔষধের লক্ষনের মিল হলেই আপনার আইবিএস এর চিকিৎসা সম্ভব এবং তা স্থায়ীভাব। স্বল্প সসময়ে। বিনাকষ্টে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ভাবে। তবে রোগ অনুসন্ধানের জন্য আমাকে সময় দিতে হবে কমপক্ষে আধা ঘন্টা।

মাষ্টার সাহেব বললেন কষ্ট ভোগ করতে করতে যেখানে ২০ বছর পার করেছি সেখানে ৩০ মিনিট সময়তো কিছুনা। প্রয়োজনে আমি কয়েক ঘন্টা সময় দিতে রাজি।

জিজ্ঞাসাবাদে রোগী জানালেন দীর্ঘ ২০ বছর ধরে দুরারোগ্য পেটের পীড়ায় কষ্ট পাচ্ছি। তৈলাক্ত, চর্বি, মাংস, শাকসবজি, জলজ খাবারের কোন কিছুই হজম হয়না। খাবার পর পেট ব্যাথা করে। সকালে ঘুম থেকে উঠার পর থেকে স্কুলে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ৩/৪ বার নরম পায়খানা হয়।এছাড়া সারা দিনেও ২/৩ বার পায়খানা হয়। পায়খানার পর খুব দুর্বল হয়ে যাই। এতে করে কোন অনুষ্ঠানে যাওয়া, দুরে কোথাও বেড়াতে যাওয়া সম্ভব হয়না। বাসা থেকে বের হলে দুঃচিন্তায় থাকি আবার কখন পায়খার বেগ হয়। তাৎক্ষণিক টয়লেট পাওয়া না গেলে কি যে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয় তা ভাষায় প্রকাশ করা যায়না। এভাবে দিন, মাস, বছর, যুগ পার করছি বহু কষ্টে।

আর কি কষ্ট জানতে চাইলে রোগী জানালেন গ্যাষ্টাইটিস আছে। পেট ফাপা আছে। জিহ্বা সব সময় তিতা থাকে। পায়খানার সাথে মিউকাস যায়। পেটে টন টন ব্যাথা করে। বুটবাট শব্দ করে। খাবার হজম হয়না। মাথাব্যথা আছে। শব্দে বৃদ্ধি। অতি ঠান্ডা অতি গরম অসহ্য। ঘাম স্বাভাবিক। ঘুম কম। বন্যা, পানিতে সাতারকাটা স্বপ্ন দেখি। হাত পায়ের তালুতে জ্বালাপোড়া আছে। ঠান্ডা পানিতে আরাম লাগে। মিষ্টি প্রিয়।মাছ পছন্দ কিন্তু অসহ্য। মাংস, ডিম, দুধ অসহ্য। পিপাসা কম। ক্ষুধা রুচি স্বাভাবিক।

জিজ্ঞাসাবাদে রোগী আরো জানালেন বর্তমানে মেজাজ খিটখিটে। শব্দ, বেশী লোকজন অসহ্য। নিরিবিলি পচন্দ। ফিস্টুলার সমস্যা আছে। সব কষ্ট ভোর রাতে, সকালে বাড়ে।

রোগীর পূর্ণাঙ্গ রোগীলিপি নেওয়ার পর নিখুঁত ঔষধ নির্বাচনের স্বার্থে রোগী থেকে ২ দিন সময় নিয়ে বললাম ২ দিন পর ঔষধ দিব। এতে রোগী খুবই আশ্বস্ত হলেন। আমরা পূর্ণ পেশাধারীত্বের সাথে রোগীর বর্তমান প্রধান লক্ষন, মানসিক লক্ষন, সার্বদৈহিক লক্ষন, আঙ্গিক লক্ষন, হ্রাস-বৃদ্ধি, কাতরতা, ইচ্ছা অনিচ্ছা সবকিছু মূল্যায়ন করে ঔষধ নির্বাচন করলাম সোডিয়াম সালফেট।

রোগী যথানিয়মে ২ দিন পর ঔষধের জন্য আসলেন। আমরা ১৫ দিনের ঔষধ দিলাম। ১৫ দিন পর রোগী এসে জানালো ঔষধ সেবনের পরদিন থেকে যে প্রশান্তি পেয়েছি বিগত ২০ বছরে আমি তা অনুভব করিনি। এখন আমি অনেক সুস্থ। ৩ মাসের চিকিৎসায় রোগী পূর্বেকার হারানো স্বাস্থ্য ফিরে পেয়ে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। চৌধুরী সাহেব এখনও মাঝেমাঝে শারীরিক অন্যান্য সমস্যার জন্য চিকিৎসা নিয়ে থাকেন।

লেখক: ডাঃ ছরওয়ার আলম
সেবা হোমিও ক্লিনিক, এসএসকে সড়ক, ফেনী।

আপনার মতামত দিন

error: Content is protected !!