Cheap Jerseys Wholesale Jerseys Cheap Jerseys Wholesale Jerseys Cheap Jerseys Cheap NFL Jerseys Wholesale Jerseys Wholesale Football Jerseys Wholesale Jerseys Wholesale NFL Jerseys Cheap NFL Jerseys Wholesale NFL Jerseys Cheap NHL Jerseys Wholesale NHL Jerseys Cheap NBA Jerseys Wholesale NBA Jerseys Cheap MLB Jerseys Wholesale MLB Jerseys Cheap College Jerseys Cheap NCAA Jerseys Wholesale College Jerseys Wholesale NCAA Jerseys Cheap Soccer Jerseys Wholesale Soccer Jerseys Cheap Soccer Jerseys Wholesale Soccer Jerseys
  • Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850

‘ভয় পাই দায়িত্ববোধ থেকে কতটুকু সরে আসলাম’

নতুন ফেনী
প্রকাশ : | সময় : ১:৩২ অপরাহ্ণ

অসম্ভব সৎ, সাহসি, মেধাবী ও স্বপ্নবাজ মানুষ সোহেল রানা। ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন গণমানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখার। সিডর আক্রান্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন; বন্ধুদের নিয়ে একইভাবে সাভারের রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের জন্য কাজ করেছেন, তৈরী করেছেন ক্ষতিগ্রস্থদের সর্ববৃহৎ ডাটাবেজ। ২০১৪ সালে প্রশাসন ক্যাডারে সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে চাকুরী জীবন শুরু করেন। জীবনের মায়া উপেক্ষা করে এখানেও দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে যেন সংকল্পবদ্ধ সোহেল রানা।  তরুণ এ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভালো কবিতা লিখেন। কবিতা ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে অন্যপক্ষে’র সাথে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। তার চুম্বক অংশ অনুলিখন করে এখানে প্রকাশ করা হলো।

অন্যপক্ষ: ফুলগাজীর বদরপুরে মাদক আস্তানায় অভিযানের কারণে আপনি দেশব্যাপী আলোচনায় এসেছেন বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
সোহেল রানা: ফুলগাজী বদরপুরের আগে আমি স্থানীয়ভাবে আলোচনায় ছিলাম সম্ভবত। ২০১৬ সালের রমজানে বিশেষ কিছু অভিযানে স্থানীয় গণমাধ্যমে বেশ আলোচনা হয়। বিশেষ করে ঈদের বাজারে কাপড়ের দোকানে অভিযান, ভেজালবিরোধী অভিযান, অভিনব মাদকবিরোধী অভিযান, বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযানগুলো মানুষের নজর কাড়ে। মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করে মোবাইল কোর্ট তাদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনছে। তারপর ফুলগাজী বদরপুরের ঘটনার কারণে দেশব্যাপী আলোচনা। এত সিরিয়াস মাদকবিরোধী অভিযান ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার ব্যাপারটি দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে। এই ব্যাপারে আমি যেটা বলতে পারি সেটি হল আমরা এমন একটা সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি যখন আমরা পজেটিভ নিউজের অভাবে ভুগছি। একটা সময় চলে এসেছে যখন সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযানের কথা দেশের লোক খুব কম শুনতে পায়। বদরপুর সীমান্তে যেটা হয়েছে সেটা একটা সফল অভিযান নয় নিঃসন্দেহে। কারণ আমরা আমাদের মাটির একজন সন্তানকে হারিয়েছি। কিন্তু এই অভিযানে একটা জিনিস হয়েছে, মানুষের চোখ-কান প্রচন্ড ভাবে খুলে গেছে। মানুষের কাছে সীমান্তের চারপাশ  দিয়ে কিভাবে মাদক ঢুকছে তা নগ্নভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

আমার দেশব্যাপী আলোচনায় চলে আসাটা মোটেই কাঙ্খিত এবং ইচ্ছাকৃত কিছু না। অনেকটা ঘটনা চক্রেই এভাবে আলোচনায় চলে আসা। এভাবে আলোচনায় আসতে কখনো চাইনি। কারণ আমার জীবনের ঝুঁকি ছিল, একটা জীবন চলে গেছে; আরেকটা জীবন বেশ ঝুঁকির মধ্য দিয়ে গেছে। কিন্তু যেটা আমি বলছিলাম, এ ঘটনাটা ইতিহাসের একটা অংশ হয়ে থাকবে। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে একদম দুর্গম, যেখানে যাওয়া যায়না বা যেখানে অভিযান করা যাবেনা অথচ মাদকের আড়ৎ বলে আমরা মনে করি সে রকম একটা জায়গার ভয়াবহ গল্প উন্মোচিত হয়েছে। হয়তোবা ভুলক্রমেই আমরা চলে গিয়েছিলাম। এই স্থানটি সম্মন্ধে আপনারা স্থানীয়রা জানেন যে, এই জায়গাটি মাদকের একদম মূল ট্রানজিট ও স্টোরহাউজ।

অন্যপক্ষ: বদরপুরে আসলে সেদিন কি ঘটেছিলো?
সোহেল রানা: বিষয়টি নিয়ে আপনিও আপনার অনলাইন পত্রিকা নতুন ফেনী’তে রিপোর্ট করেছিলেন। সন্ধ্যার দিকে আমরা নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে বদরপুর এলাকায় মাদক আস্তানায় অভিযান পরিচালনা করি। সেখানে কয়েকজনকে আমরা হাতে নাতে আটকও করি। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে আমাদের চারপাশ ঘেরাও করে আক্রমন করে মাদক ব্যবসায়ীদের একাধিক গ্রুপ। ওরা আমাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। আমার হাত ও পিঠে সামান্য জখম হয়। পরে আমার সাথে থাকা পুলিশ ও আনসার সদস্যরা আমাকে বাঁচাতে ঘিরে ফেলে। আমরা কয়েকটা ফাকা গুলি ছুঁড়ে সামান্য পেছনে আসি। কিন্তু তারা আমাদের সাথে থাকা একজন আনসার সদস্যকে হত্যা করে ও একজন তথ্যদাতাকে ধরে নিয়ে যায়।

অন্যপক্ষ: বদরপুর ঘটনার আগ থেকেই আপনার নাম ফেনীর মানুষের মুখে মুখে। সাহসী ও জনগুরুত্বপূর্ণ কর্মকান্ডে পূর্বের কর্মস্থানেও বেশ আলোচিত। আলোচনায় থাকতে কি ভালো লাগে?
সোহেল রানা: আলোচনার শুরুটা ছিল এখানকার স্থানীয় একটা পত্রিকায়। তাঁরা একটা শিরোনাম করেছিল ‘কাউকেই ছাড় দিচ্ছেন না সহকারী কমিশনার সোহেল রানা’। আমার প্রথম কয়েকটা  অভিযানের পরেই ঠিক এ রকম একটা শিরোনাম। আমার মনে হয়েছে আমাদের এই প্রজন্মের আমরা চাকরীটাকে আরেকটা জায়গা থেকে দেখার চেষ্টা করছি। ইয়াং জেনারেশনের অনেকেই খুব ভালো সাহসের যারা কাজ করছেন- দেশপ্রেম আর মেধার মিশেলে। আমরা চাকরিটাকে দায়িত্বের জায়গা থেকে দেখার চেষ্টা করছি। সত্যিকার অর্থে দেশের অনেক সমস্যা আন্তরিকতা থাকলে ক্ষুদ্র জায়গা থেকেও সমাধান করা যায়। যেগুলো আসলেই মানুষের সমস্যা, মানুষের জীবনকে প্রতিদিন প্রভাবিত করে। ধরুন, আপনি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন- পাটের বস্তা ব্যবহার না করে কেন ব্যবসায়ীরা পলিথিন ব্যবহার করছেন। এটি পরিবেশের জন্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এটার কেমন ইমপ্যাক্ট  মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সেটা চিন্তা করতে হবে। আপনি একটা মোবাইল কোর্ট পরিচলানা করলেন ধরেন চিংড়ির জেলির উপরে। যেখানে ব্যবসায়ীরা একদম বিষ মিশিয়ে সরাসরি মানুষকে খেতে বাধ্য করছে। এটার ইমপ্যাক্ট ভিন্ন রকম হবে। এটি মানুষকে ও দৈনন্দিন জীবনকে বেশি প্রভাবিত করবে। আপনি একটা মোবাইল কোর্ট পরিচলানা করলেন স্পেশালি যখন ঈদের সময় দোকানদাররা অতিরিক্ত দাম নেয় এ বিষয়ে। এতে ক্রেতারা ঠকছে এবং ক্রেতাদের নাভিঃশ্বাস উঠে যাচ্ছে। এতে মানুষজনের কাছে বেশি সাড়া মিলবে; কারণ দৈনন্দিন যাপনের একটি সমস্যা এটি এবং মোবাইল কোর্ট এটি সমাধানে সাহায্য করছে। আপনি জন-দূর্ভোগ লাঘব করার জন্য যদি সত্যিকার অর্থে মোবাইল কোর্ট পরিচলানা করেন। সেটি যদি আলোচনায় চলে আসে তবে সেটা আমি যে খুব মিন করে আলোচনায় থাকার জন্য করছি তা না। তবে আমি চেষ্টা করছি এমন কিছু কাজ করার জন্য যে কাজের মধ্য দিয়ে প্রকৃত অর্থে মানুষের উপকার করা সম্ভব হয় এবং মানুষ এক ধরনের প্রতিকার পায় তার সমস্যাগুলো থেকে।

অন্যপক্ষ: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনাকে নিয়ে সরব শুভাকাঙ্খিরা। মানুষের এত ভালোবাসাকে কিভাবে দেখছেন?
সোহেল রানা: আমি বাকহারা, অত্যন্ত সৌভাগ্যবান বোধ করছি। হঠাৎ করে কারো আমার পা ছুঁয়ে ফেলা, জীবনের প্রথম টিউশানির টাকা দিয়ে আমার জন্য খুব সামান্য কিন্ত অমূল্য কোন উপহার কিনে আনা, মুদি দোকানদারের যত্ম করে বানানো বাড়ির আচার- কি অদ্ভুত তাই না! হাজার হাজার বন্ধুর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা-এগুলো আমি ধারণেরই যোগ্য না। আমাকে ভীষণভাবে ছুঁয়ে গেছে-বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের রেসপন্স। কত অল্পতেই না আমাদের দেশের মানুষ খুশি হয়ে যায়। আমার মনে হয় আমি এই একটা জিনিসই পজিটিভলি পেয়েছি, আমি জীবনে কখনো ভাবি নাই যে আসলে মানুষজন এভাবে আমাকে গ্রহণ করবে বা করতে পারে। তবে এটা আমি সব সময় মনে করতাম, যদি নিষ্ঠা ও সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে একটা ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করতে পারি  মানুষ সেটাকে লুফে নিবে। কারণ খুব বেশি ইতিবাচক কাজ সমাজে এখন পাওয়া যায় না। মানুষের ভালোবাসাটাই কাজ করার মূল অনুপ্রেরণা। যদিও আমি আসলে  কোন ভাবেই এসবের যোগ্য না। আমি মনে করি মানুষ এটা বাড়িয়ে বলছে।

অন্যপক্ষ: আপনি এত দু:সাহসি কেন? দেশের প্রতি ভালোবাসা নাকি স্রেফ আলোচনা।
সোহেল রানা: দু:সাহসের বিষয়টা দুইটি জায়গা থেকে আসে। মানুষ সাহস দেখাইতে পারে প্রথমত যখন মানুষ সাহস দেখানোর ফলাফলকে ভয় পায়না। আমরা অনেক ব্যাপারেই সাহস দেখাতে পারিনা। কেননা আমরা অনেকগুলো জায়গায় সাহসের প্রতিফলকে  ভয় পাই।  আমরা আমদের অবস্থান হারাইতে ভয় পাই। আমরা অনিরাপদ হতে ভয় পাই। আমরা ¯্রােতের বিপরীতে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ভয় পাই। দেখুন কলম্বাস যদি সমুদ্রের অনিশ্চয়তা ভয় পেত তবে ইউরোপ আমেরিকাকে কলোনাইজ করতে পারত না। ইউরোপিয়ানরা গোটা বিশ্বকে জয় করতে পারত না, নিরাপদ পথ চলা নিশ্চিতভাবেই উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে আসবে না। নিশ্চিত জীবনের প্রতি আমার আকর্ষণ একটু কম। এই কারণেই আগ-পিছ না ভেবেই অনেক সময় কিছু করে ফেলি। কিন্তু আমি সাহস যতুটুকু দেখাইতে পারি এটার কারণ হচ্ছে আমি কিছু ব্যাপারে ভয় করি না। অর্থাৎ আমি আমার অবস্থান হারাইতেও ভয় করি না। আমি কতটুকু অনিরাপদ হবো সেটাও ভয় পাই না। কিন্তু অমি যেটাকে ভয় পাই সেটা হচ্ছে যে আমি আমার দায়িত্ববোধ থেকে কতটুকু সরে আসলাম? আমি আমার কাজকে কতটুকু ফাঁকি দিলাম? আমি আসলে মানুষ ও মানুষের বিশ্বাসের প্রতি কতটুকু সুবিচার করলাম?

অন্যপক্ষ: কাজের জন্য বাংলাদেশ এ্যাডমিনেস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশন ও জেলা প্রশাসন আপনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
সোহেল রানা: আমার এসোসিয়েশন আমার পাশে দাঁড়িয়েছে এটা আমার জন্য এবং এডমিন ক্যাডারে আমরা যারা চাকরী করি সবার জন্য একটি আশার দিক। আমাদের একটা এসোসিয়েশন আছে এবং আমাদের বিপদে-আপদে পাশে থাকছে বা কখনো যদি ভাল কিছু হয় তখন এসোসিয়েশন আমাদের সাহায্য করার চেষ্টা করছে। এটি নিঃসন্দেহে প্রশাসন ক্যাডারের সদস্যদের নির্ভয়ে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে। আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান সভাপতি এবং মহাসচিব দুজনই আসলে অত্যন্ত ডাইনামিক ও ইতিবাচক মানুষ। আমাদের সার্ভিসের দুই রত্ম।  আমি মনে করি তাদের সময় আমাদের সার্ভিসে যারা কাজ করছেন আরো ভাল কিছু তাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করতেই পারে।

অন্যপক্ষ: দেশের জন্য, মানুষের জন্য কি করার আছে বলে মনে করেন?
সোহেল রানা: প্রথমত, দেশের জন্য এবং দেশের মানুষের জন্য আমি কিছুই করতেই পারিনি এক বাক্যে। দ্বিতীয়ত, দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য আমার আনেক কিছু করার আছে, আছে আমার মত করে তৈরী করা অনেক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। শুধুমাত্র মোবাইল কোর্ট অভিযান মানুষের সব সমস্যা লাঘবের জন্য যথেষ্ট না। আমরা যদি বাংলাদশটাকে একটু অন্য জায়গা থেকে দেখি তাহলে আমরা আসলে ২০৪১ এ একটি জায়গায় দেশকে নিয়ে যেতে চাচ্ছি, ২০২১-এ একটি জায়গায় যেতে চাচ্ছি। আমরা যদি সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশটাকে আতসি কাঁচের মধ্যে দিয়ে দেখি তাহলে এই জার্নিতে অনেকগুলো সমস্যা চিহ্নিত করতে পারি। উন্নত দেশের অর্থ শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়। উন্নত রাষ্ট্রের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা। আমরা একটা জ্ঞান নির্ভর সমাজ তৈরী করতে পারছিনা। আমাদের শিক্ষার জায়গাটা সেরকম শক্তিশালী হচ্ছেনা। সরকারি কর্মচারী হিসেবে আমাদের সার্ভিস থেকে অনেক শিক্ষাসহ এরকম অনেক সমস্যা নিয়ে কাজ করার সুযোগ আছে। আমাদের দাপ্তরিক দায়িত্বগুলোকে রাষ্ট্রের সামগ্রিক ভিশনের সাথে সংগতিপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। এই শতাব্দীর একটা বড় চ্যালেঞ্জ হলো জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা। বাংলাদেশের পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনে এদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পরিবেশগত দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ রাষ্ট্রগুলোর একটা। দায়ী রাষ্ট্রগুলোর সাথে এ বিষয়ে বাংলাদেশের কার্যকর নেগোসিয়েশনে এর বিষয়ে কাজ করার ইচ্ছে আছে। প্রযুক্তির ব্যবহারে দুর্নীতি হ্রাস ও সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়েও কাজ করার ইচ্ছা আছে। গভর্নেন্সের অনেকগুলো সমস্যার সমাধান মূলত প্রযুক্তিতে লুকিয়ে আছে।

অন্যপক্ষ: ফেনীকে নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
সোহেল রানা: ফেনী আসলে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন কোন অংশ না। ফলে দেশের জন্য কাজ করলেই ফেনীর জন্য কাজ করা হয়; এটার জন্য আলাদা কাজ দরকার হয়না। কিন্তু ভালোবাসার একটা ছোঁয়াছুয়ি ব্যাপার আছে, প্রতিদানেরও ব্যাপার আছে। এখনো তেমন কোন পরিকল্পনা নেই। ফেনীতে আমার যেটা মনে হয়েছে, ফেনী কয়েকটা কারণে অন্যান্য জায়গা থেকে ইউনিক। একটা হচ্ছে ফেনীর ভৌগলিক অবস্থান, অপরটি বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠীর বিদেশে অবস্থান। অর্থনীতিতে তাই ফেনী গুরুত্ব হারাবে না কখনোই। দুশ্চিন্তার বিষয় হলো ফেনীর মানুষের উচ্চ শিক্ষায় ঔদাসীন্য ও সামাজিক অবক্ষয়। মানুষের অনেক টাকা পয়সা আছে কিন্তু শিক্ষা-দীক্ষায় খুব একটা বেশি অগ্রসর হতো পারে নাই। ভালো ভালো জায়গায় পড়াশুনার ক্ষেত্রে ফেনী খুব একটা অগ্রসর নয়। এটা একটা সমস্য। এ  সমস্যার ক্ষেত্রে আমি কতটুকু কাজ করতে পারবো এখন সেটা জানিনা। ভবিষ্যতে হয়তো কাজ করার সুযোগ আছে। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল জনশৃংখলা। ফেনীতে আমি যতদিন থাকবো ততোদিন একটা জিনিস প্রতিষ্ঠা করতে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশক্রমে সচেষ্ট থাকব। ফেনী কিন্তু এক ধরণের সন্ত্রাসবাদের মধ্য দিয়ে গেছে অনেক বছর ধরে। মানুষের মধ্যে রাষ্ট্রযন্ত্র ও এর সক্ষমতার উপর একটা আস্থা ধরে রাখতে হবে, আইনের উর্ধে কেউ নয়। এটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্বের জন্যই প্রয়োজন। আমি খুব ছোট্ট একজন সরকারি কর্মচারী; আমার কোন ক্ষমতা নাই। ক্ষমতা যাদের আছেন এবং  যারা এ জেলার অভিভাবক তাঁদেরকে মানুষের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে হবে যে, রাষ্ট্র সবার চেয়ে ক্ষমতাবান। ফেনীর মানুষজন নির্ভয়ে রাস্তা-ঘাটে চলাফেরা করবে। বর্তমান পরিস্থিতি বেশ ভালো। এটাকে ধরে রাখতে হবে। আমার মনে হয় যে আমাদের একটা বড় দায়িত্ব হলো ফেনীর মানুষকে এ অভয় দেয়া যে, আপনি যতি কোন সমস্যায় পড়েন, ক্ষতিগ্রস্থ হন অথবা কেউ যদি আপনার বিরুদ্ধে অপরাধ করে তাহলে আপনাকে সহযোগিতা করার জন্য এখানে প্রশাসন, পুলিশ এবং অন্যান্য ডিপার্টমেন্ট আছে। আমার ছোট্ট জায়গা থেকে এখানে শুধুমাত্র আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জননিরাপত্তা বিধানে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নেতৃত্বে কাজ করার সুযোগ আছে। আমি যতদিন আছি এ জায়গাটাতে অবদান রাখার চেষ্টা করে যাবো।

অন্যপক্ষ: আমরা জানি আপনি কবিতাও লিখেন। কখন থেকে কবিতা লেখা শুরু?
সোহেল রানা: কবিতা লেখাটা আমি খুবই পছন্দ করি। আমি ইউনিভার্সিটিতে একটা প্রতিযোগিতায় কবিতা লিখে পুরস্কার জিতেছিলাম। তখন থেকে একধরনের অনুপ্রেরণা আসে, তখন থেকেই শুরু। মাঝে মাঝে আমি লিখি। তবে আমি এগুলো প্রকাশের জন্য বা কারো জন্য লিখিনা। শুধু নিজের জন্য মাঝে মাঝে দু-একটা লিখি। তাও এগুলো কবিতা হয় কিনা আমি যথেষ্ট সন্দিহান।

অন্যপক্ষ: কবিতার কোন বই বের হয়েছে?
সোহেল রানা: এখনো কোন বই প্রকাশ হয়নি। তবে ২০১০ সালের বইমেলায় একটি কবিতা সংকলনে কয়েকটা কবিতা প্রকাশ হয়েছিলে।

অন্যপক্ষ: আধুনিক কবিতা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কেমন?
সোহেল রানা: পৃথিবীতে প্রতিটি বিষয়ই এক ধরণের বিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। আপনাদের সাংবাদিকতকাও কিন্তু এখন যেমন  ৪০ বছর আগে এমনটি ছিল না। একটা বিবর্তনের মধ্য দিয়ে আজকে একটি রূপে চলে আসছে। আমাদের সিভিল সার্ভিসও একটা সময় এমন ছিলো না। একটা সময় ডেপুটি কমিশনার ছিলেন সকল ক্ষমতার আঁধার। ব্রিটিশ আমলে ডেপুটি কমিশনারই ছিলেন সব- বিচারক, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আইনপ্রণেতা ও প্রধান নির্বাহী সেখান থেকে এখানে আসছে।  তো সার্ভিস, সাংবাদিকতা সব কিছুই যেমন বিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে, কবিতাও কিন্তু একটা বিবর্তনের  মধ্য দিয়ে গেছে; ভাঙ্গা-গড়ার মধ্য দিয়ে গেছে। একটা সময় রবিন্দ্রনাথ বা আমাদের সে সময়কার যেসব লেখক ছিলো তাদের এক ধরনের আঙ্গিক ছিলো। কিন্তু দেখা গেল পরবর্তীতে বুদ্ধদেব বসু, জীবনান্দরা ওটা গ্রহণ করেনি। তারা পুরনোকে ভেংগে নতুন একটা ট্রেন (নিয়ম) কিন্তু চালু করছে। কিন্তু সে ট্রেন্ড কিন্তু ভাঙ্গতে সময় লাগে নাই। আধুনিক কবিতা বিবর্তনের নিয়মেই পরিশোধিত, পরিশিলীত বটে কিন্তু খানিকটা জনবিচ্ছিন্নও বটে।

অন্যপক্ষ: কবিতা কি দুর্বোধ্য হয়ে যাচ্ছে? আর এ কারণেই কি মানুষ কবিতা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে?
সোহেল রানা: এখনকার কবিরা দুর্বোধ্য হয়ে যাচ্ছে এই সত্য আমি নিজেও বিশ্বাস করি। সবাই বুঝে ফেললে সেটা আর কবিতায় হয় না এমন একটা প্রবণতা কবিদের মাঝে লক্ষ্য করা যায়। আমরা ট্রেনের ফার্স্ট ক্লাস সিটে বসতে গিয়ে ভুলেই যাচ্ছি এটি বাইরে থেকে দেখায় যায় না, এখানে রেলের দরজা জানালা বন্ধ। কারণ রেলের দরজা-জানালা বন্ধ হয়ে গেলে  রেলে কি হচ্ছে মানুষ আর দেখবেনা। এটা আমার মনে হয় একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যপার হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আর এখনকার প্রজন্ম আসলে কবিতা পড়েনা এটাও সত্য এবং এখনকার জেনেরেশন কোন জিনিসে খুব ভেতরে ঢুকতে পারেনা অথবা সে সময়টা পায়না। সুতরাং আমরা যদি কবিতাকে জনিপ্রিয় করতে চাই একভাবে লিখতে হবে। আর কবিতাকে যদি আমরা সত্যিকার অর্থে একটা শিল্প যে শিল্প সবার বুঝার দরকার নাই সে হিসেবে দেখতে চাই তাহলে সে হিসেবে দেখবো। ফলে আপনার লক্ষ্যই নির্ধারণ করবে কোন পথটি সঠিক।

অন্যপক্ষ: এখন কবিরা (পুরুষ কবিরা) দেশ ও মাটির চেয়ে নারী বা নারীর শরিরকে কবিতার বিষয়বস্তু বানিয়ে ফেলেছে। আপনি বিষয়টাকে কিভাবে দেখছেন?
সোহেল রানা: কারো কাছে একজন নারীই গোটা দেশ বা পৃথিবীর সমান। নারী-পুরুষ সম্পর্ক নিয়ে আগেও কবিতা ছিল, এখনো  আছে; ভবিষ্যতেও কবিতা থাকবে। সম্পর্কগুলো সযতœ লালনও খুব জরুরী। সস্পর্কের প্রভাব আছে প্রত্যকটা মানুষের জীবনে; তা মাটি বা দেশের প্রভাবের চেয়ে কম না। আর দেশপ্রেম নিয়ে কবিতার আপনি যে সময়টার কথা বলছেন, তখন আসলে দেশপ্রেম, দেশ এ বিষয়গুলোর এক ধরনের অন্যরকম বান্তবতা ছিলো। ৫২ থেকে ৭১ এক ধরণের পরাধীনতা প্রতিনিয়ত তাড়া করেছে মানুষকে, কবিতার ভাষা প্রতিবাদ দখল করে নিয়েছে। দ্রোহ কলমের কালিতে ভিড় করেছে। কিন্তু এখন আমরা একটা স্বাধীন দেশে আছি। সে কারণে পুরুষ কবিদের চিন্তার খানিকটা চলে গেছে নারীদের প্রতি। আমি জিনিসটাকে খুব একটা নেতিবাচ ভাবে দেখিনা। আর লিখার ক্ষেত্রে কবিরা আসলে একেবারেই স্বাধীন। তারা প্রেম নিয়েও লিখতে পারেন; দেশ নিয়েও লিখতে পারেন।

অন্যপক্ষ: এখনকার তরুণরা কবিতা বা শিল্প-সাহিত্যে থেকে দূরে সরে যাওয়ার সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে যুবসমাজ। বিষয়টাকে কিভাবে দেখছেন?
সোহেল রানা: হারারি নামে একজন ইতিহাসের লেখক আছেন। তাঁর একটা লেখায় ছিল, ড্রাগের প্রতি মানুষ কেন আকৃষ্ট হচ্ছে? স্বল্প সময়েই যদি সুখী হওয়া যায় তাহলে এত কষ্ট করে সুখ উপার্জন কেন? আগে একটা মানুষ সুস্থ জীবনের দিকে আকৃষ্ট হতো এই ভেবে যে, সে তার জীবনটাকে দাঁড় করাবে, অর্থ উপার্জন করবে। তারপর সে ভালো একটা জীবন আলোকিত করবে। তার স্ত্রী থাকবে; বাচ্চা-কাচ্চা থাকবে। সুন্দর একটা বাড়ি-ঘরও থাকবে, বাড়ির সামনে একটা বাগানও থাকবে। এর মধ্যে দিয়ে মানুষ একটা জীবনে দীর্ঘ সময় ধরে সুখ উপার্জন করে। আর ড্রাগ যেটা করে সেটা হচ্ছে খুব দ্রুত। ৫ মিনিটে অনেক সুখ এনে দেয় মানুষকে। যারা ড্রাগে আসক্ত হয় ওরা আসলে এই শর্টকাটটা নেয়। কিন্তু এ ৫ মিনিটের সুখ আবার ওদের ৫ ঘন্টার অসুখের কারণ হয়ে ও দাঁড়ায়। তো হারারি বলছিলেন, যে যদি এমন হয় মানুষ ড্রাগের মধ্য দিয়ে আসলে ৫০ বছরের সুখ নিয়ে আসতে পারে। তাহলো মানুষ ড্রাগের দিকেই যাবে। উনি যেটা বুঝাতে চেয়েছেন সেটা হচ্ছে সুখী হওয়ার চেষ্টা একটা খুব বেসিক হিউম্যান টেন্ডেন্সি। এটা সবার মধ্যেই আছে। সেটা হচ্ছে আমরা কত শর্টকাটে সুখী হতে পারি। আজকে আপনাকে যদি বলা হয় যে আপনি নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদক হন। আপনি জানেন, নিউইয়র্ক টাইমসকে আপনি আপনার সক্ষমতা দিয়ে ধরে রাখতে পারবেন না। কিন্তু অপনার মনে হবে যে হয়েই দেখি না। এটা একটা খুব বেসিক হিউমেন টেন্ডেন্সি। আপনি যেটা বলছিলেন সেটি হলো, সামাজিক অবক্ষয় হচ্ছে। অবক্ষয়ের এই টেন্ডেন্সিটাকে কি আমরা জাগিয়ে রাখবো? প্রশ্ন হলো আমরা তাহলে কি করবো? আমরা যেমন মাদক বিরোধী অভিযান করতেই থাকব, আপনিও মাদক বিরোধী লিখা-লিখি করবেন। আপনি বলতেছেন সমাজ তুমি সুস্থতার দিকে আগাও। আপনার কাছে সুস্থতার একটা সংজ্ঞা আছে, আপনি মূলত সেই সংজ্ঞার দিকেই এগোতে বলছেন

অন্যপক্ষ: এটার জন্য অনেকে তথ্য-প্রযুক্তিকে দায়ী করছে আপনি কি মনে করেন?
সোহেল রানা: আপনাকে যেটা বলছিলাম। সুস্থতার দিকে মানুষকে নিয়ে যেতে হলে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারটার দিকে নজর দিতে হবে। আমরাও তো স্মার্ট ফোন ব্যবহার করি আপনিও ব্যাবহার করেন। এখন স্মাট ফোনেও কবিতা পড়া যায়। কিন্তু  অনেকেই কবিতা না পড়ে পর্ণ দেখতেছে। খুব তাড়াতাড়ি অনেকে শর্টকার্ট চ্যাটিংয়ে চলে যাচ্ছে। এক ধরনের ইলিগেল রিলেশনে জড়িয়ে যাচ্ছে তরুণ সমাজ। কারণ এটা খুব সহজ; ওয়ান টু ওয়ান কেউ দেখছেনা। আমি খুব সন্দিহান এধরণের রিলেশনশিপে তরুনরা যেভাবে জড়িয়ে পড়ছে তা বন্ধ করা তো দূরের কথা নিয়ন্ত্রন করাও দু:স্বাধ্য। মানুষ ক্রমান্বয়ে অধঃপতনের দিকে যাচ্ছে। আপনার মত রাশেদ বা আমার মত সোহেল আমরা কিন্তু এর উল্টোটা বলবো, আমরা বলবো নেমোনা-নেমোনা। আমাদের সংখ্যা কমতে থাকবে, নামার সংখ্যাটা মনে হয় বাড়তে থাকবে। তথ্য-প্রযুক্তিকে দায় দিয়ে লাভ নেই; দায় আমরা নিজের কাঁধে নিতে হবে।

অন্যপক্ষ: আসলে এর  থেকে বাঁচার উপায় কি বলে মনে করেন।
সোহেল রানা: এক্ষেত্রে ডিরেকশনটা খুব সহজ। সেটা বইপড়া থেকে শুরু করে সুন্দর চিন্তা, সুন্দর কর্মের সাথে আপনি সংযুক্ত হতে পারেন। যত সার্থকতার সাথে এটার কাছাকাছি যেতে পারবেন, ততো দ্রুত আপনি বুঝবেন আপনি আসলে ভুল করতেছেন। আপনার কি মনে হয় না যে, আপনি ঠিক যা যা পড়া-শুনা করে আসছেন আমি যা যা পড়াশুনা করছি সেরকম পড়াশুনা লোকগুলোই কিন্তু এ কাজ করতেছে। এ কারণে করছে, যে ওরা খুব শর্টটার্মে হ্যাপি হওয়ার চেষ্টা করতেছে। ওরা হ্যাপিনেসটাও বুঝতে পারছে না। আবার দেখেন কেউ মসজিদের মধ্যে সুখ খুঁজে নিচ্ছেন। একজন ঠেলাগাড়ী ওয়ালার সুখ সেখানেই তিনি ৫ ওয়াক্ত নামায পড়েন। ভালো ও পজিটিভ কাজে সুখ পাওয়ার হার বাড়লেই  কেবল আমরা রক্ষা পেতে পারি।

অন্যপক্ষ: অপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমাদের সময় দেয়ার জন্য।
সোহেল রানা: আপনিসহ অন্যপক্ষ পরিবারের সকলকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা।

 

আপনার মতামত দিন