Cheap Jerseys Wholesale Jerseys Cheap Jerseys Wholesale Jerseys Cheap Jerseys Cheap NFL Jerseys Wholesale Jerseys Wholesale Football Jerseys Wholesale Jerseys Wholesale NFL Jerseys Cheap NFL Jerseys Wholesale NFL Jerseys Cheap NHL Jerseys Wholesale NHL Jerseys Cheap NBA Jerseys Wholesale NBA Jerseys Cheap MLB Jerseys Wholesale MLB Jerseys Cheap College Jerseys Cheap NCAA Jerseys Wholesale College Jerseys Wholesale NCAA Jerseys Cheap Soccer Jerseys Wholesale Soccer Jerseys Cheap Soccer Jerseys Wholesale Soccer Jerseys
  • Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850

‘এ বয়সে কারো ঘর ভাঙুক তা আমি চাই না’

নতুন ফেনী
প্রকাশ : | সময় : ৫:১৮ অপরাহ্ণ

ঈদ সংখ্যা- ২০১৭

অধ্যাপক রফিক রহমান ভূঁইয়া। একাধারে কবি, গীতিকার, সাহিত্যিক, ভাষা ও সাহিত্যের কিংবদন্তিতূল্য শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসক। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। ষাটের দশকের শুরু থেকেই লেখালেখির সাথে যুক্ত। দীর্ঘ দিনের সফল অধ্যাপনা শেষে এখন অবসর জীবন যাপন করছেন। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এ সব্যসাচী ব্যক্তিত্ব তাঁর জীবনের ফেলে-আসা অতীত, জীবনাভিজ্ঞতা, সাহিত্যজীবন, ব্যক্তিজীবন, শিক্ষকতা জীবনসহ নানা প্রসংঙ্গে কথা বলেছেন ‘নতুন ফেনী’র সঙ্গে।

 

নতুন ফেনী: আপনার জন্ম ও বেড়ে ওঠা কেমন ছিলো ?
রফিক রহমান ভূঁইয়া: ধন্যবাদ। এক সাথে অনেকগুলো প্রশ্ন করেছেন আপনি। এক কথায় তার জবাব দেওয়া কঠিন। তবু আমি সংক্ষেপে কিছু বলার চেষ্টা করছি- সময়টা ছিলো তখন এ দেশে বৃটিশ শাসন কাল। অখন্ড ভূ-ভারতের চল্লিশ কোটি মানুষ স্বাধীনতা এবং স্বাধীকারের জন্য উচ্ছ্বসিত জীবন-চাঞ্চল্যে অস্থির। অসংখ্য সংগ্রামশীল মানুষের মধ্যে এ জনপদের একজন মানুষ প্রয়াত আবদুল আজিজ ভূঁইয়া, যিনি জীবনকে আজীবন লড়াই হিসেবেই দেখেছেন তাঁর এবং আমার মা আবেদা আজিজের স্বপ্নের চেরাগ হয়ে একটি সাধারণ মাটির কুটিরেই একদিন এক হিমেল কাক-ডাকা ভোরে আমি প্রথম পৃথিবীর আলো দেখেছিলাম। প্রলয়ঙ্কর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির একটি বৃহত্তর যুদ্ধঘাঁটির সন্নিকট ফেনী সদর উপজেলার বারাহিপুর গ্রামে আমার ধরনীতে আগমন। সেটা ছিলো ১৯৪৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি।

নতুন ফেনী: কেমন ছিলো ফেলে-আসা সেসব দিনগুলি ?
রফিক রহমান ভূঁইয়া: আমার শৈশবের সেই সময়টা নিয়ে অনেক আবেগ, অনেক স্মৃতি আছে। তার মধ্যে পশ্চিমা পাশবিক শক্তির সাথে ভাষার যুদ্ধের স্মৃতিই আমার হৃদয় গভীরে রক্ত ঝরিয়েছে অনেক বেশি। আমি, আমাদের কালের সবাই নিজেদের ভাষাযুদ্ধের জাতক ভাবতেই আনন্দ পাই। আমার শৈশব সে-ই ছিলো জীবনের এক দুরন্ত সকাল বেলা। সূর্যি জাগার অনন্ত উল্লাসের মতো নবীন প্রেম, পৃথিবীকে ভালো লাগার সেই পরম মধুময় দিনগুলোতে আমাকে ঘিরে ছিলো যত আনন্দ, তার মধ্যে পাখির উড়তে দেখা, একা খালের ধারে ঘুরে বেড়ানো, ‘পদুয়া’ পুকুর পাড়ে গিয়ে বসে থাকা, মুখে মুখে ছড়া কাটা এবং পাতার বাঁশি বাঁশি বাজানো এসব আজ খুবই মনে পড়ে। আমার মাতৃগর্ভে যার পিঠাপিঠি জন্মেছি আমি, তার নাম আফি আপু। তাকে নিয়ে আমার ঈদ-আনন্দের কোন স্মৃতি নেই। কারণ, আমার বুঝ হওয়ার আগেই সে চলে যায় না-ফেরার দেশে। স্মৃতি আছে আমার বৈমাত্রীয় গর্ভে জাত মরু আপু, ছালু আপু, ভাইয়া সফিক রহমান ভূঁইয়া এদের নিয়ে। ছোট্ট কবুতরের বাসার মতোই দারুণ পরিপাটি ছিলো আমাদের ঘরবাড়ি। ভাইবোনেরা সবাই মিলে বাবা মায়ের একান্তই স্বপ্নের সোনার সংসার হয়ে ছিলো আমাদের পুরো পরিবারটি।

শৈশবে আমার বেড়ে উঠার পরিবেশের কথা একটু বলি। বাড়ির উত্তর ও দক্ষিণ অংশে ছিলো আমার চাচা-জেঠাদের আরো চার শরিক। চাচাতো জেঠাতো ভাইবোনেরা ছিলো সংখ্যায় অনেক। বাড়ির সামনে পেছনে ছিলো দু’টো বড়ো পুকুর। পুকুরপাড়ে এক পায়ে দাঁড়িয়েছিলো ছিলো একটি আকাশ-ছোঁয়া তালগাছ। তার মধ্যে দৃষ্টিনন্দন বাবুই পাখিদের শিল্প-সুন্দর কয়েকটি বাসা ঝুলে থাকতো। আর এক কোণে দাঁড়িয়ে ছিলো লম্বা একটি শিমুলতুলার গাছ। বসন্ত এলেই অজস্র লাল ফুলে গাছটি ভরে যেতো। আর বাড়ির সামনে এদিকে সেদিকে ছড়িয়েছিলো কয়েকটি সুগন্ধী হাস্নাহেনার গাছ। তবে কোন হাস্নাহেনা গাছের তলায় কোনদিন কোন সাপ দেখা গিয়েছিলো কিনা আমার তেমন কোন স্মৃতি নেই। কিন্তু আমাদের পূর্ব শরিকের কাজের লোক মন্তু মিয়া বলতো একদিন নাকি দেখা গিয়েছিলো। তা কি জানি বাবা! এক সময়কার ডাকসাঁইটে এ তালুকদার পরিবারটি তখন ছিলো ক্ষয়িষ্ণু। হক সাহেবের প্রজাস্বত্ত্ব আইন পরিবারটির বিশাল তালুকদারি ব্যবসা তখন কেড়ে নিয়েছে। সবাই খাসমহলের জমিজমা চাষবাস করেই চলে। তবু সোনায় মোড়ানো ছিলো এ পরিবারের চার দিক। আমার শৈশবে উজ্জ্বল স্বর্ণ-মন্দিরের মতোই চাঁদেরহাট হয়ে ছিলো উত্তর দক্ষিণে লম্বা সেই বিশাল বাড়িটা। এমন মনোমুগ্ধকর মনোহর পরিবেশেই আমি বেড়ে উঠেছি।

নতুন ফেনী: স্যার, খুব কৌতূহল আমার, আপনার বাবা মায়ের কথা শুনতে?
রফিক রহমান ভূঁইয়া: আমার বাবা ছিলেন একজন সুজন কৃষক রাজা। তালুকদার মিয়ন ভূঁইয়ার পরিবারে উজ্জ্বল এক জ্যোতির্ময় সন্তান। মা ছিলেন সংসারের সর্বময় কত্রী। হাঁস, মোরগ, গরু, ছাগল এরাও ছিলো আমাদের সংসারের নিবিড় সদস্য হয়ে। আমাদের পোষা একটা সাদা বিড়াল এবং একটা কালো কুকুরও ছিলো। ভাইয়ার ছিলো কয়েক জোড়া রঙ বে-রঙের কবুতর এবং একটি তোতা পাখি। এ ছাড়া আমার মনে পড়ে শৈশবে আমাদের পরিবারের আরো এক অমৃতদায়ী সদস্য ছিলো। তার নাম ছিলো নয়ন। পরম দয়ালু দুধেল গাভী। ওর এ নাম দিয়েছিলেন আমার থুত্থুরে দাদীমা। ওটা নাকি আমার জন্মের পরদিনই আমার বাবা তখনকার তেরো টাকা দিয়ে পাঁচগাছিয়া বাজার থেকে কিনে এনেছিলেন। ওই গাভীটার তিন প্রজন্মই আমাদের পরিবারের সদস্য হয়ে ছিলো।

নতুন ফেনী: এ বয়সে এসে জীবনকে কিভাবে দেখছেন ? কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন পুরো জীবনকে ?
রফিক রহমান ভূঁইয়া: এ বয়সে এসে জীবনকে কিভাবে দেখছি তা জানতে চেয়েছেন। স্থিতি, সুখ-দুঃখের আবিরল কলস্বর, কলহাস্য, তার গতি এবং নিরবচ্ছিন্নতার নাম জীবন। জীবন সম্পর্কে আমার দৃষ্টিভঙ্গি নান্দনিক। এবং জীবন মানে পৃথিবীতে কেবল সময় কাটানো নয়। হিন্দু পুরাণে আছে, শ্রীভগবান নিজের আহ্লাদের স্বরূপকে আগেই পৃথিবীতে পাঠিয়ে নিজে শ্রীকৃষ্ণ হয়ে তার সঙ্গে লীলা করার জন্য মর্তে আগমন করেছেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ‘মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে’। মানুষের জীবনতো একটাই। আর মানুষের জন্য সুন্দর পৃথিবীও একটাই। তাই ফুলের ফোটায়, নদীর ধাওয়ায় আর চাঁদের চাওয়ায় কর্মানন্দের ভেতর দিয়ে অনন্ত পৃথিবীর বুকে বুক মিলিয়ে বাঁচার নামই জীবন। যত দিন বেঁচে থাকি সত্যি ও সুন্দরের ছবি দেখে দেখে স্বপ্ন নিয়েই এ জীবন কাটাতে চাই। নিজের অনুভূতি দিয়ে অপর হৃদয়ের অনুভূতিকে ধারণ করে তার মধ্যে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার নামই সত্যিকারের মানবজীবন।

নতুন ফেনী: কোন স্মৃতি বা ঘটনা যা আপনাকে নাড়া দেয় এবং লেখক হিসেবে প্রভাবিত করে?
রফিক রহমান ভূঁইয়া: স্মৃতি সুখ, আনন্দ, বেদনা যাই বলি না কেন, স্মৃতি জীবন মাত্ররই মূল্যবান সঞ্চয়। এটি স্নায়ূকেন্দ্রের অক্সিপিটাল আর টেমপোরাল লোবের লি¤িœক সিস্টেমের নিচে জমতে থাকা এক উজ্জ্বল স্বর্ণ-বিন্দু। জীবনব্যাপী অনুভূতি আর অভিজ্ঞতা স্মৃতি নামে এখানে জমে জমে পাহাড় হয়। প্রকৃতি অসম্ভব শক্তিধর এক চেতনা দিয়ে সে পাহাড় তৈরি করে। তাই এটি সম্পদ। এ সম্পদকে অন্যের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারার ক্ষমতা অনন্য। এবং সেখানেই একজন মানুষ লেখক, শিল্পী কিংবা সাহিত্যিক। একজন নগন্য লেখক হিসেবে আমাকে তেমন কোন স্মৃতি নাড়া দেয় কিনা জানতে চেয়েছো। আমি তা বলবো না। তা বলতে আমার যে একটু অসুবিধে আছে। আমার স্মৃতির যন্ত্রণা এ বয়সে কারো ঘর ভাঙ্গুক, তা আমি চাই না।

নতুন ফেনী: সাহিত্যের প্রায় অনেক শাখাতেই আপনার বিচরণ দেখতে পাই। শিল্পের এতগুলো শাখায় কাজ করলেন। কি বলতে চেয়েছেন এসবের মধ্য দিয়ে ?
রফিক রহমান ভূঁইয়া: জীবন, প্রকৃতি, প্রেম এবং মানুষের কথা। তবে সত্যি বলতে কি, যা বলতে চেয়েছি, তা কখনো বলতে পেরেছি বা পারবো কিনা তা জানিনে।

নতুন ফেনী: কেন লিখছেন, কি লিখছেন, এর কোন উত্তর খুঁজে পেয়েছেন কি ?
রফিক রহমান ভূঁইয়া: কেন লিখছি এর উত্তর কি দিতে পারবো? আমার মনে হয় কোন লেখকই নিশ্চিত করে দিতে পারবেন না। জীবনের সুখ, দুঃখ, ভালোবাসার অনুভূতি বা যা চাই তা না পাওয়ার যন্ত্রণা হৃদয়ে তীব্র দহন সৃষ্টি করে। তা থেকে মুক্তি যাওয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম লেখা। বাস্তবে মানুষ যা পায় না, তা পাওয়ার উপায় করে দেয় অবচেতন মনের খেয়াল। যার নাম স্বপ্ন। স্বপ্ন রূপায়নের অনাবিল মাধ্যমের নামই শিল্প। জীবনকে ক্ষণকাল থেকে চিরন্তন মহাকালে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমও হচ্ছে এই লেখা। এতকাল লিখে তেমন কিছু করতে পেরেছি বলেতো মনে হয় না। তাই উত্তর খুঁজে কি পাবো! উত্তরের অপেক্ষায় আছি বলতে পারেন।

নতুন ফেনী: আপনিতো মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পরে আমরা জাতি হিসেবে কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে ? আগালাম না পিছালাম ?
রফিক রহমান ভূঁইয়া: একটু আগে থেকেই বলতে হয়। আমি কখনো কোন সক্রিয় রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিলাম না, আজো নেই। ছাত্রজীবনে একটি প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের সিটি লেভেলের নেতৃপদে আসীন ছিলাম মাত্র। আমার পরম সৌভাগ্য যে, সে সময়ে আমি শতাব্দীর কিংবদন্তি মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর স্নেহ-স্পর্শ লাভ করেছিলাম। একজন বাঙালি হিসেবে আমি পরম ভাগ্যবান যে, আমি বাঙালি জাতিসত্তার লড়াই মহান মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছি। এটি ছিলো হাজার বছরের ইতিহাসে বাঙালি জাতির জীবনের শ্রেষ্ঠতম ঘটনা। তখন আমি দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার একটি ঐতিহ্যশীল প্রাচীনতম কলেজের বাংলা ও সাহিত্যের অধ্যাপক ছিলাম। এবং ষাটের দশকের স্বাধীনতা, স্বাধীকার আন্দোলনের অগ্নিস্ফুলিংগের ধারাবাহিকতায় স্বভাবত:ই অসহযোগ এবং মহান স্বাধীনতা আন্দোলন এবং যুদ্ধের সাথে আমি সম্পৃক্ত হয়ে পড়ি। আমাদের এখানকার নেতা ছিলেন তখন জননেতা প্রয়াত খাজা আহম্মদ। মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে আমি অন্যান্যদের সাথে তাঁর নির্দেশেই কাজ করে ধন্য হয়েছি।

আর আগালাম না পিছালাম সে সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলতে চাই, এগিয়েছি। সার্বভৌম একটি মানচিত্র পেয়েছি আর পেয়েছি সূর্য-হসিত একটি স্বাধীন পতাকা। সারা পৃথিবীতে সবার সাথে, সবার মাঝেই মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পেরেছি। তবে জাতির অর্থনৈতিক স্বাধীনতা আজো এসেছে বলা যায় না। সীমাহীন দূর্নীতি, ঘুষ, অর্থপাচার, হত্যা, গুম, ধর্ষণ, অপরাজনীতি, গণতন্ত্রহীনতা জাতিকে কুরে খাচ্ছে।

নতুন ফেনী: বর্তমান সময়ের কবিদের কবিতা পড়া হয়। এখনকার কবি কবিতা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কি ?
রফিক রহমান ভূঁইয়া: অবশ্যি পড়া হয়। কবিতা হৃদয়ের সবচেয়ে গভীরতম বাণী, অনির্বচনীয় কথা। কবিতা না পড়ে কোন সুজন মানুষেরই বাঁচার উপায় নেই। তবে আজকাল অনেক অকবি কবিতা লিখছেন। একুশ এলেই অনেক অকবিতা বই আকারে বেরুতেও দেখি। তবে যে যাই লিখুন না কেন, আমি বলি, কোন অনুভূতির বহি:প্রকাশই মূল্যহীন নয়। প্রত্যেক কবিই তার নিজের মতো শ্রেষ্ঠ।

নতুন ফেনী: এখন কবিতার পাঠ তুলনামূলকভাবে কমে যাচ্ছে। কবিরাই কবিদের পাঠক হয়ে উঠছেন। কি কারণে এমন হয়ে উঠছে বলে মনে হয় ?
রফিক রহমান ভূঁইয়া: পৃথিবীর যে কোন সাহিত্যে কবিতার প্রধান গুণ ‘অবস্কিউরিটি’। তাই তুলনামূলকভাবে সমকালে কবিতা অপেক্ষাকৃত দুর্বোধ্য। রসবেত্তা, পরিশ্রমী পাঠক ছাড়া কবিতার মর্ম উদ্ধার দুরূহ। এ কালের পাঠকেরা সময় নিয়ে কোন কিছু পড়তে চায় না। তাছাড়া আধুনিক কালের কবিতা আগের মতো ছন্দ ও আবেগনির্ভর নয়, মননমুখী। তাই কবিতার পাঠ মনে হয় কমছে। ‘কবিরাই কবিদের পাঠক’ কথাটা আমি কবি শামসুর রাহমানের মুখে শুনেছি। ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে একুশের বইমেলায় আমায় নয়টা কবিতার বই একসাথে ছেপে বের হয়। বইগুলো তাঁকে দিতে গেলে তিনি বলেছিলেন, এত বই একসাথে কেন ছেপেছো ? পাঠক কই ? আজকালতো ‘কবিরাই কবিদের পাঠক’।

নতুন ফেনী: প্রকাশিত প্রথম লেখার স্মৃতি ?
রফিক রহমান ভূঁইয়া: সে স্মৃতি আজো সুখকর। সেই অনুভূতির ব্যাপ্তি বিশাল বহুদুর।

নতুন ফেনী: লেখক হিসেবে আপনি নিজেকে তৃপ্ত মনে হয় ?
রফিক রহমান ভূঁইয়া: কোন লেখকই তাঁর তৃপ্তির শেষ লেখাটি লিখে যেতে পারেন না। লোবেল প্রাইজপ্রাপ্ত বাংলার কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এত কবিতার কবি হয়েও বলেছিলেন, যে কবিতা তিনি লিখে যেতে পারেননি, অনাগত দিনের কোন কবির কন্ঠে তা শুনার জন্য তিনি মাটির কাছাকাছি কান পেতেছিলেন।

নতুন ফেনী: তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে কবিতা, গল্প, উপন্যাস এগুলো কি হারিয়ে যাবে ? বা নেগেটিভ কোন প্রভাব পড়বে বলে কি মনে হয়?
রফিক রহমান ভূঁইয়া: প্রতি বছর একুশের বই মেলা দেখে কি মনে হয় ? কবিতা, গল্প, উপন্যাসের সংখ্যা বাড়ছে না কমছে ? প্রযুক্তি এসবের প্রকাশ প্রসারকে আরো সহজতর করেছে।

নতুন ফেনী: আপনার প্রিয় লেখক কারা কারা ?
রফিক রহমান ভূঁইয়া: লিউ টলস্টয়, রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল ইসলাম, শরৎচন্দ্র, তারাশংকর, যাযাবর প্রমুখ।

নতুন ফেনী: আপনার প্রিয় গান ?
রফিক রহমান ভূঁইয়া: ‘আমার সোনার বাংলা…’

নতুন ফেনী: যে বই কিংবা কবিতা বারবার পড়তে ইচ্ছে করে ? কোন কবিতা বারবার শুনতে ইচ্ছে করে ?
রফিক রহমান ভূঁইয়া: যাযাবরের ‘দৃষ্টিপাত’। ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’।

নতুন ফেনী: তরুণদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।
রফিক রহমান ভূঁইয়া: আমার প্রিয় তরুণেরা, সবাই স্বপ্ন দেখো। স্বপ্ন জীবনকে সুন্দর, সুদূরাভিলাশী করে।

নতুন ফেনী: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
রফিক রহমান ভূঁইয়া: ধন্যবাদ তোমাদের। নুতন ফেনীর আরো প্রসারিত হোক। এ কামনা।

আপনার মতামত দিন