Cheap Jerseys Wholesale Jerseys Cheap Jerseys Wholesale Jerseys Cheap Jerseys Cheap NFL Jerseys Wholesale Jerseys Wholesale Football Jerseys Wholesale Jerseys Wholesale NFL Jerseys Cheap NFL Jerseys Wholesale NFL Jerseys Cheap NHL Jerseys Wholesale NHL Jerseys Cheap NBA Jerseys Wholesale NBA Jerseys Cheap MLB Jerseys Wholesale MLB Jerseys Cheap College Jerseys Cheap NCAA Jerseys Wholesale College Jerseys Wholesale NCAA Jerseys Cheap Soccer Jerseys Wholesale Soccer Jerseys Cheap Soccer Jerseys Wholesale Soccer Jerseys
  • Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850

‘কাগজের পত্রিকার দিন প্রতি মুহুর্তে ফুরিয়ে যাচ্ছে’

নতুন ফেনী
প্রকাশ : | সময় : ১২:০২ অপরাহ্ণ

মোস্তফা জব্বার তথ্য প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের পুরোধা ব্যক্তিত্ব। কম্পিউটারে বাংলা ভাষা যুক্ত করার পথপ্রদর্শক। বিজয় বাংলা কিবোর্ড’র জনক তিনি। তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করেন তিনি। সরকারের ডিজিটাল কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রনায়ক। তথ্যপ্রযুক্তি ও সাধারণ বিষয়ের ওপর অনেকগুলো বইয়ের লেখক। পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি হিসেবে। এর আগে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন তিনিন। গত ২৩ ডিসেম্বর ফেনীর ফুলগাজীতে একটি প্রথমিক বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ল্যাব উদ্বোধনে আসেন তিনি। সেখানে কথা হয় নতুন ফেনী’র নিজস্ব প্রতিনিধি হুসাইন আরমানের সাথে। কথপোকথনের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো-

নতুন ফেনী: তথ্য প্রযুক্তির দিক থেকে বাংলাদেশ কতটুকু এগিয়েছে?
মোস্তফা জব্বার: এক কথায় যদি বলি বোধ হয় আপনারা ধারণাও করতে পারবেন না কতটুকু এগিয়েছে। একদম খাত ওয়ারি যদি বলি, সরকারী খাতে একটা উপনিবেশিক সরকার, আমলাতন্ত্র জনগণের সাথে দূরত্ব বজায় রাখতে অভ্যস্ত। জনগণকে সেবা না দিতে অভ্যস্ত। সেখাতে আমুল পরিবর্তন এসেছে। বৃহত্তর পোর্টাল হচ্ছে সরকার। এ পোর্টালে মাধ্যমে ২৫ হাজার ওয়েভ সাইট লিংক করা আছে। প্রায় ৫ হাজারের কাছাকাছি ডিজিটাল সেন্টার আছে। এসব সেন্টারের মাধ্যমে প্রায় তিনশ’ সেবা দেয়া হয়। সরকারের বাকী সেক্টরগুলো যদি দেখেন, এখন যে প্রসেস পর্যন্ত এসেছে তা হলো, আাগমী এক দুই বছরের মধ্যে কাগজ গুটিয়ে নেয়া শুরু করবে। সফটওয়ারের মাধ্যমে সব কাজ সম্পন্ন হবে। এখনো কিছু কিছু অফিসে কাগজের ব্যবহার হয়না তাঁরা ই-নথি ব্যবহার করেন। সরকারের রুপান্তর হচ্ছে, তবে তা আরো দ্রুত রুপান্তরিত হওয়া উচিত। এটি যেহেতু শত বছরের প্রাচীন একটি ব্যবস্থা তা রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাই একটুতো সময় দিতে হবে।

নতুন ফেনী: বেসকারী খাতে তথ্যপ্রযুক্তি কতটুকু এগিয়েছে?
মোস্তফা জব্বার: বেসরকারী খাতের কথা যদি বলি, ২০০৮ সালে আমদের রপ্তানি আয় ছিলো ২৬ মিলিয়ন ডলার। এখন আমাদের রপ্তানি আয় প্রায় এক বিলিয়ন ডলার। এ কয় বছরের মধ্যে এ পরিমান প্রবৃদ্ধি আমার জানামতে আর কখনো হয়নি। যদি ইন্ডাষ্ট্রিয়াল হিসাব করি, ২০০৮ সালে আমাদের এ দেশে মাত্র ২৫ হাজার ল্যাপটপ বিক্রি হতো কিন্তু এখন প্রায় ৫ লক্ষ। ফলে আপনি যে দিক থেকে দেখতে চান না কেন সে দিক থেকেই আমাদের অগ্রগতি হয়েছে। আমার এখন প্রায় ১০ হাজার কম্পিউটার প্রোগ্রাম তৈরী হয় বছরে। ৭/৯ বছর আগে তা ৮ থেকে ৯শ’ ছিলো।

নতুন ফেনী: তথ্য প্রযুক্তি খাতে কোথায় গুরুত্ব বাড়ানো দরকার বলে আপনি বলে মনে করেন?
মোস্তফা জব্বার: সরকারের রুপান্তরের ক্ষেত্রে এবং শিক্ষার রুপান্তরের ক্ষেত্রে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত। এটি খুবই ধীর গতিতে চলছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যে, শিক্ষায় রুপান্তরের জন্য অনেগুলো বিষয় দরকার। পাঠদান, কন্টেন্ট তৈরী, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া দরকার। এসব বিষয়ে আমরা বেশি এগুতে পারিনি। তারপরও আমরা ক্লাস সিক্স থেকে টেন পর্যন্ত কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে পেরেছি। আমিতো মনে করি, তা ক্লাস ওয়ান থেকে বাধ্যতামূলক করা উচিত।

নতুন ফেনী: তথ্য প্রযুক্তি খাতে সম্ভাবনা কতুটুকু। এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকারের উদ্যোগ গুলো কি কি?
মোস্তফা জব্বার: সম্ভাবনার একটা সহজ কথা বলি। ২০০৮ সালে যখন ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা দেয়া হচ্ছিলো। তখনই বলেছি ভবিষ্যৎটা হলো ডিজিটালের যুগ। কৃষি বিপ্লবের পর শিল্প বিপ্লবের তিনটি যুগ অতিক্রম করেছে। চতুর্থ যুগটাকে বলা হচ্ছে ডিজিটাল যুগ। ডিজিটাল শিল্প বিপ্লব মানে চার পাশের ব্যবসা-বাণিজ্য, কল-কারখানা, শিল্প, সরকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সবকিছু তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর হবে। সুতরাং এ জায়গাটার সম্ভাবনা বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশের নিজের ১৬ কোটি মানুষ আছে। প্রায় ১০ কোটি তরুণ আছে যারা পৃথিবীর জন্য কাজ করে। এ দুটোই আমাদের সম্ভাবনা। আমরা এ সুযোগটাকে যদি কাজে লাগাতে চাই এক নাম্বারে গুরুত্ব দিতে হবে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনাকে। মনুষ, মানষ এবং মানুষ তৈরী করতে পারলে আমরা পূরে সম্ভাবনাটাকে কাজে লাগাতে পারবো। তা যদি আমরা না পারি তাহলে এ সম্ভাবনা আমাদের নাকের ডগা দিয়ে চলে যাবে। ইতমধ্যে আমরা তিনটা শিল্প বিপ্লব মিস করেছি। কিন্তু আমি মনে করি এ সরকার ইতমধ্যে যে প্রদক্ষেপ গুলো গ্রহণ করেছে, তাঁদের মধ্যে যে সচেতনতা কাজ করছে তাতে আমি আশাবাদি।

নতুন ফেনী: আমাদের দেশে ইন্টারনেট ব্যবহার কারীর সংখ্যা বেড়েছে। এটি কতটুকু কার্যকরী ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে?
মোস্তফা জব্বার: আমাদের ইন্টারনেট ব্যবসার পরিধি অনেক বেড়েছে। কয়েক বছর আগেও কোন ইন্টরনেট ব্যবসা বলতে কিছুই ছিলো না। কিন্তু এখন কয়েক হাজার প্রতিষ্ঠান আছে যারা অনলাইন ব্যবসা করে। ফলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বেড়েছে। আমরা যদি অনলাইন মিডিয়ার কথা বলি, এক সময় অনলাইন মিডিয়া বলতে কিছুই ছিলো না। কিন্তু এখন প্রায় ১৮শ’ অনলাইন পোর্টাল রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন। ফলে আপনার ডিজিটাল রুপান্তরের জায়গা যেটা সকল ক্ষেত্রে রুপান্তরিত হচ্ছে।

নতুন ফেনী: প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ডিজিটাল শিক্ষা পদ্ধতি পৌঁছানোর জন্য কেমন পদক্ষেপ নেয়া দরকার?
মোস্তফা জব্বার: অংক সহজ। সেটা হচ্ছে পাঠ্য বিষয়কে ডিজিটাল করতে হবে। ক্লাসরুম ডিজিটাল করতে হবে। শিক্ষকদের ডিজিটাল করতে হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে ডিজিটাল যন্ত্র দিতে হবে। এর কোনটা বাদ দিয়ে ডিজিটাল করা যাবে না। আমাদের সরকার নিতীনির্ধারক, পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক ও অভিভাবক তারা যত তাড়াতাড়ি বিষয়টা বুঝতে পারবে, তত তাড়াতাড়ি আমাদের লাভ হবে। আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যাপারে আমার কোন সংকোচ নেই। আমরা যদি সঠিক গাইডলাইন দিতে পারি তারা নিজেদেরকে রুপান্তরের সাথে মানিয়ে নিতে পারবে।

নতুন ফেনী: সরকারের অনেক প্রকল্প প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলগুলোতে পৌঁছে না তার জন্য কি করা দরকার?
মোস্তফা জব্বার: সরকার এখন পর্যন্ত যত ধরণের কম্পিউটার ল্যাব চালু করেছে তা অধিকাংশই গ্রামে। আমি একটা প্রকল্প বাস্তবায়নের সাথে যুক্ত আছি। তা হচ্ছে প্রাইমারী স্কুলগুলোতে ডিজিটাল ক্লাসরুম তৈরী করা। ২০টা প্রাইমারী স্কুল নেয়া হচ্ছে। সম্ভবত দুই একটা ছাড়া বাকী সবগুলো প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নেয়া হয়েছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে সরকার এ বিষয়ে সচেতন আছে। ডিজিটাল বৈষম্য থাকবে না যদি গ্রামের স্কুলগুলোতেও সমান সুযোগ দেয়া হয়।

নতুন ফেনী: এর আগে যে অনলাইন গণমাধ্যমের কথা বলেছেন সেটার কোন স্বীকৃতি নেই, কবে নাগাদ এটির স্বীকৃতি মিলবে?
মোস্তফা জব্বার: অনলাইন গণমাধ্যমের জন্যতো আইন করা হচ্ছে। আইন প্রণয়নও শেষ পর্যায়ে আছে। সেটি হচ্ছে সম্প্রচার আইন। সম্প্রচার আইনের আওতায় একটি কমিশন গঠিত হবে। তাঁরা সেটি নিয়ন্ত্রন করবে। এটি শীতকালিন সংসদ অধিবেশনে পেশ হওয়ার কথা রয়েছে। আমি এটিতে কাজ করেছি, আইনটি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। তাহলে আমরা এ জায়গাটি কাভার করতে পারবো।

নতুন ফেনী: প্রত্যেকটি গণমাধ্যম প্রিন্ট ভার্সনের পাশাপাশি অনলাইনে প্রকাশ করছে এটিকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
মোস্তফা জব্বার: প্রথমতো কোন কাগজের পত্রিকা থাকবে না। এক কথায় উত্তর কোন দিন এটা যাবে আমরা অপেক্ষা করতে পারি। কাগজের পত্রিকার দিন প্রতি মুহুর্তে ফুরিয়ে যাচ্ছে। এটি রুপান্তরিত হবে ডিজিটাল মাধ্যমে।

নতুন ফেনী: অনলাইন পোর্টালগুলোর মান ও সংখ্যা নিয়ন্ত্রনে কি করা প্রয়োজন?
মোস্তফা জব্বার: আমি মনে করি, সম্প্রচার আইন হয়ে গেলে এটা নিয়ন্ত্রিত হয়ে যাবে। সম্প্রচার কমিশনই এটা করবে।

নতুন ফেনী: আমাদের সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ?
মোস্তফা জব্বার: তুমিসহ নতুন ফেনী’র সকল ডিজিটাল সৈনিকদের অনেক ধন্যবাদ।

আপনার মতামত দিন