• Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850

‘আ’লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে শিল্প প্রতিষ্ঠানের দিকে নজর দিবো’

মোঃ কামরুল হাসান
প্রকাশ : নভেম্বর ১৩, ২০১৮ | সময় : ৫:৩১ অপরাহ্ণ

মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল। ফেনীর রাজনৈতিক অঙ্গণে অবিচ্ছেদ্য একটি নাম। ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে অদ্যবদি মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে চলছেন। জেলা-যুলুম ও নির্যাতন ডিঙিয়ে একটি সফল রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গঠন করেন তিনি। সর্বশেষ ছাগলনাইয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। রাজনীতির মতোই সফলা স্পর্শ করেছেন জনপ্রতিনিধি হিসেবেও। আসছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হতে চান এ রাজনৈতিক। সম্প্রতি তাঁর সাথে কথা হয় নতুন ফেনী’র নিজস্ব প্রতিনিধি মো. কামরুল হসান’র। তারই চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো…

নতুন ফেনী: আমরা জানি নানা উত্থান-পতনের মধ্যদিয়ে দিয়ে আপনার রাজনীতি শুরু। এ সম্পর্কে জানতে চাই।
সোহেল চৌধুরী: আমি যখন হরিপুর আলী আকবর উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ি তখন স্কুল ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হই। এরপর ফেনী সরকারি কলেজে ১৯৯১ সালে একাদশ শ্রেণী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি, ১৯৯৩ সালে আমি কলেজ ছাত্রলীগের জয়েন্ট সেক্রেটারি নির্বাচিত হই। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে ফেনী কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে আমি জিএস পদে প্রার্থী ছিলাম। কিন্তু তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকার ভোটের দিন ভোট বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে আমি ফেনী জেলা ছাত্রলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও পরে জয়েন্ট সেক্রেটারি নির্বাচিত হই।

নতুন ফেনী: বিদেশেও আওয়ামীলীগের রাজনীতির করেছেন, সেটা কিভাবে?
সোহেল চৌধুরী: আ’লীগ সরকার ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর ২০০৩ সালে আমি সাউথ আফ্রিকা গমন করি। ২০০৫ সালে আমি সাউথ আফ্রিকা বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং ২০০৬ সালে সাউথ আফ্রিকা আ’লীগের সভাপতি নির্বাচিত হই। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আ’লীগ সরকার গঠন করে তখন আমি নেত্রীর সাথে দেখা করে আবার বাংলাদেশে ফিরে আসি। তৎকালীন সময়ে আমার নামে বিভিন্ন মামলা ছিলো, বিভিন্ন মামলায় আমাকে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছিলো। ফেনী জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম মাসুদের ডিল মেশিনের একটি মামলায় আমাকে দশ বছরের সাজা করে দিয়েছিলো। অনেকগুলো মিথ্যা এবং হত্যা দিয়ে আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংসের যে নীল নকশা তারা তৈরি করেছিলো পরবর্তীতে আমি দেশে ফিরে এসে সারেন্ডার করে সকল মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পাই।

নতুন ফেনী: আবার কিভাবে নিজেকে গুছিয়ে নেন?
সোহেল চৌধুরী: আমাদের প্রিয় অভিভাবক আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ভাইয়ের দিকনির্দেশনায় ফেনী জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফেনীর গণমানুষের নেতা নিজাম উদ্দিন হাজারী ভাইয়ের নেতৃত্বে আমাকে ছাগলনাইয়া উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। এরপর আমি ছাগলনাইয়া উপজেলার সাংগঠনিকভাবে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, কৃষকলীগ, শ্রমিকলীগ সর্বোপরি বাংলাদেশ আ’লীগ ছাগলনাইয়া উপজেলা শাখাকে ঢেলে সাজানোর পরে আমার কার্যক্রমে সন্তুষ্ট হয়ে আমাদের জেলা আ’লীগ তথাপি আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ভাইয়ের পরামর্শে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নির্বাচন করার জন্য ২০১৪ সালে নমিনেশন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ছাগলনাইয়া উপজেলার সাড়ে তিনলক্ষ মানুষের দোয়ায় ও আপনাদের সহযোগীতায় আমি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই।

নতুন ফেনী: বর্তমান সময়ে আপনি একজন সফল রাজনীতিবিদ অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন নেতা। এ সফলতার পেছনে রহস্য কি?
সোহেল চৌধুরী: আসলে সত্য কথা বলতে একসময় আমাদের জীবন বিপন্ন হয়ে গিয়েছিলো। পরবর্তীতে জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পরে আপনাদের দোয়ায় আমরা নতুন জীবন ফিরে পাই। যেখানে একটা মানুষকে মামলা হামলা দিয়ে জর্জরিত করা হয়। মিথ্যা মামলা দিয়ে খালেদা জিয়া তৎকালীন সময়ে আমাকে পদদলিত করেছিলো যেনো জীবনে আর কখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলতে না পারি। ঠিক তখনই বাংলাদেশে এসে সারেন্ডার করার মধ্যদিয়ে তখন সব মামলাগুলো থেকে খালাস পাই। তারপর আমি নিজের সাথে শপথ করি যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের জন্য আমার এই জীবনটা আত্মত্যাগ করবো। মূলত মানুষকে ও জনগনকে ভালোবেসে সেবা করতে গিয়ে আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া। সেক্ষেত্রে আমি মনে করি, আমরা যারা রাজনীতি করি সেই রাজনীতি যদি মানুষের কল্যাণের জন্য না হয় তাহলে রাজনীতি করে কোন লাভ নেই। আপনার রাজনীতি কর্মদক্ষতা ও কর্মপাজ্ঞতার মধ্যদিয়ে মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন না হয় সাধারণ মানুষের যদি ভাগ্য উন্নয়নের মধ্যদিয়ে যদি সুফল না পায় তাহলে সেই রাজনীতি একজন রাজনীতিবিদের জন্য কোন কাজে আসেনা। তাই মূলত মানুষকে ভালোবাসতে ও মানুষের সেবা করতে গিয়ে রাজনীতিতে পরিপক্ক হয়ে আসা। এবং সেই ক্ষেত্রে মানুষের কাছ থেকে অনেক ভালোবাসা, উৎসাহ, উদ্দীপনা ও আন্তরিকতা পেয়েছি।

নতুন ফেনী: ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর জনগণের প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ করতে পেরেছেন?
সোহেল চৌধুরী: আমি উপজেলা নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পরে জনগণের প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ করতে পেরেছি তা একমাত্র জনগণই ভালো জানেন। কিন্তু আমার যেটা ইচ্ছা ছিলো এখানে রাজনীতি করে মানুষের কল্যাণে সর্বদা নিজেকে আত্মত্যাগ করা। সেটার কাছাকাছি আমি পৌঁছে গিয়েছি এবং দ্বিতীয়ত আমার উদ্দেশ্য ছিলো ছাগলনাইয়া উপজেলার মানুষ যুগ-যুগ ধরে নির্যাতিত, নীপিড়িত ও বঞ্চিত ছিলো। এখানে সাধারণ মানুষের কথা বলার কোন অধিকার ছিলোনা। মুষ্টিমেয় কিছু সমাজপতিদের কারণে তারা জিম্মি হয়েছিলো। শুধু আ’লীগ নয় সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষ তাদের কাছে জিম্মি ছিলো। সেই সমাজপতিদের কাছ থেকে সাধারণ মানুষ যাতে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে তাদেরকে মুক্ত করতেই মূলত আমার রাজনীতিতে আসা। আমি বিশ্বাস করি আজকে ছাগলনাইয়াতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ছাগলনাইয়া উপজেলায় চুরি, ডাকাতি বন্ধ হয়েছে। আমার বোনেরা স্কুল কলেজে যেতে ইভটিজিং থেকে মুক্তি পাচ্ছে। উপজেলার ব্যবসায়ীরা মাথা উঁচু করে চলাফেরা করছে। ব্যবসায়ীরা কাউকে চাঁদা দিতে হয়না, চোর ডাকাতের মাধ্যমে কোন লাঞ্ছিত হচ্ছেনা। আমার মা-বোনেরা যখন রাস্তায় বের হয় তখন অক্ষত অবস্থায় আবার ইজ্জত সম্মান নিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে পারে। উপজেলার সর্বক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের কথা বলার অধিকার আছে। এখানে মূলত আ’লীগ বিএনপির বিচার হয়না। এই ছাগলনাইয়া উপজেলায় আমরা ক্ষমতায় আসার পর থেকে অতীতের ন্যায় সাদাকে সাদা বলি, এবং কালোকে কালো বলি। আমরা দেখেছি যদি আ’লীগের কোন নেতাকর্মীর দ্বারা সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে সাথে সাথে আমরা আ’লীগের সেই নেতাকর্মীকে যত বড় পদের অধিকারী হোক না কেনো তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি। আ’লীগের নেতাকর্মীরা কোন সন্ত্রাস কিংবা খারাপ কাজের সাথে জড়িত থাকে তাহলে সাথে সাথে তাদের বিচার করেছি। ঠিক তেমনিভাবে মানুষের মধ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছি। তাই সাধারণ মানুষ আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। সেটা নিয়েই আমরা সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।

নতুন ফেনী: উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর কোন ধরণের কাজকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন?
সোহেল চৌধুরী: উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর আমি প্রথমে প্রাধান্য দিয়েছি শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর। আমরা একটা জাতিকে যদি উন্নয়নের শিকড়ে নিতে হয়, উন্নত পর্যায়ে রুপান্তরিত করতে হয় তাহলে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। সেক্ষেত্রে শিক্ষা বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে হয়েছে। শিক্ষাঙ্গণ থেকে সন্ত্রাস, ইভটিজিং বন্ধ করতে হয়েছে। আগে শিক্ষাঙ্গণে অস্ত্রের ঝনঝনানি ছিলো। কিন্তু এখন শিক্ষাঙ্গণে আগের মতো অস্ত্রের ঝনঝনানি নেই। সেখানে এখন কাগজ কলম নিয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুল, কলেজে যায়। উন্নয়নে রাস্তাঘাট, ব্রীজ, কার্লভাট থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সু-ব্যবস্থা করার জন্য সেই দিকটি আমি লক্ষ করেছি এবং অবকাঠামোর অনেক উন্নয়ন করেছি। এরপর প্রবাসীদের ক্ষেত্রে আমি মনোযোগ দিয়েছি। কারণ আপনি জানেন, ছাগলনাইয়া উপজেলায় আমার ভাইয়েরা বেশির ভাগ প্রবাসী তারা বিদেশে থাকে। তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে এই উপজেলায় বসবাস করে। তাদের নিরাপত্তা সু-নিশ্চিত করার লক্ষে আমি কাজ করে যাচ্ছি। তারা যে পরিমাণ রেমিটেন্স বাংলাদেশে পাঠায় সেই ক্ষেত্রটা আমি লক্ষ রেখেছি। প্রত্যেকটা ব্যাংকের ম্যানেজারকে আমি বলে দিয়েছি যারা আমার প্রবাসীর মা-বোনেরা ব্যাংকে আসবে তাদেরকে যেনো ফাস্ট পায়োরিটি দেওয়া হয়। তাদেরকে টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে যেনো বিলম্বীত করা না হয়। তেমনিভাবে আমি পুলিশ প্রশাসনকে বলে দিয়েছি যদি কোন প্রবাসীর মা-বোনেরা টাকা নিতে আসে তারা যদি প্রশাসনের কোন সহযোগীতা চায় তাহলে পুলিশ প্রোটেকশন দিয়ে তাদেরকে বাড়িতে পৌঁছে দিতে। যার কারণে আজকে ছাগলনাইয়া উপজেলা একটি আধুনিক ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী উপজেলাতে রুপান্তরিত হয়েছে।

নতুন ফেনী: বিগত সময়ের উন্নয়ন সম্পর্কে জানতে চাই
সোহেল চৌধুরী: আপনি যে উন্নয়নের কথা প্রথমে আমি বলবো আজকে আপনি যে ভবনে বসে আছেন উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স এটা আমি মনে করি সারা বাংলাদেশের অনেক উপজেলায় হয়েছে। তারমধ্যে ছাগলনাইয়া উপজেলা সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যায়ে এই ভবন পেয়েছি। আমরা ৩৪ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বহুতল ভবণ নির্মাণ করেছি, ১২ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বহুতল ভবণ করেছি, ৬ টি স্কুল এন্ড কলেজে বহুতল ভবন করেছি, ৫ টি মাদ্রাসায় বহুতল ভবণ নির্মাণ করেছি। তেমনি আমরা ছাগলনাইয়া উপজেলার মধ্যে ৬৫ টি ব্রীজ করেছি ছোট ছোট যেটা আমাদের প্রকল্প উন্নয়ন কর্মকর্তার মাধ্যমে সম্পাদিত হয়ে থাকে। আমরা এই উপজেলায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ করতে যাচ্ছি। যেটা আন্ডার প্রসেস রয়েছে। উপজেলায় একটা মসজিদ কমপ্লেক্স করতে যাচ্ছি, যেটা ১৭ কোটি টাকা ব্যায়ে করা হবে। সেটার স্টিমিট আমরা অলরেডি পাঠিয়ে দিয়েছি। সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যায়ে উপজেলার মহামায়া টু পাঠাননগর মহামায়া ব্রীজ করতে যাচ্ছি। উপজেলাবাসীর প্রাণের দাবী ছিলো ব্রীজটা নির্মাণ করা। সেটার জন্য ১শ’১০ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং সয়েল টেস্ট হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর কিংবা জানুয়ারীর মধ্যে কাজ শুরু হবে ইনশাআল্লাহ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কটা আমরা প্রশস্ত করেছি। ছাগলনাইয়া থেকে মুহুরীগঞ্জ রাস্তাটা আমরা প্রশস্তকরণ করেছি। আমরা শতভাগ বিদ্যুতায়ন করতে পেরেছি। প্রত্যেকটা ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি। বিদ্যুতের আলোর মধ্যে আমার উপজেলার ছাত্র-ছাত্রী ভাই বোনেরা সুন্দরভাবে পড়ালেখা করছে। শিক্ষাক্ষেত্রে রেজাল্টে ফেনী জেলার মধ্যে আমরা একটা ভালো অবস্থানে আসতে পেরেছি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও আমরা ভালো অবস্থানে আছি। আব্দুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজে অনার্স মাস্টার্স আছে, সেখানেও আমরা ভালো অবস্থানে আছি। এছাড়াও ছাগলনাইয়া সরকারি কলেজে আমরা শিক্ষার গুনগত মান উন্নত করেছি। এবং আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু করার জন্য আবেদন করেছি। আমি বিশ্বাস করি আল্লাহর রহমতে যদি কোন কারণে এই ডিসেম্বরের মধ্যে না হয় তাহলে আগামী জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারীর মধ্যে হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

নতুন ফেনী: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ আসনে আ’লীগের প্রার্থী হতে চান অনেকে। আপনিও দলীয় মনোনয় প্রত্যাশি ছিলেন। কেন?
সোহেল চৌধুরী: আসলে আলাদা বলতে আমি সবসময় খেটে খাওয়া সাধারণ দুঃখী মানুষের সাথে থাকি। এই উপজেলায় আমার জন্ম, আমি এই উপজেলারই একজন গর্বিত সন্তান। আমি এই উপজেলার মানুষকে একা রেখে কখনো কোথাও যাইনা। মাঝেমধ্যে সচিবালয়ে কাজ থাকে বা আমার উর্ধ্বতন নেতৃত্বের সার্থে যোগাযোগ করার জন্য আমাকে দু-একদিনের জন্য ঢাকায় যেতে হয়। তখন আমি ঢাকায় যাই। মূলত এখন উপজেলা সাধারণ মানুষ, পরিবার-পরিজন নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। ছাগলনাইয়া উপজেলার যে স্থিতিশীলতা মানুষ স্বাভাবিকভাবে মনে করে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সরকারের সাথে সমন্বয় করে উন্নয়নের কাজগুলো আমরা নিয়ে এসেছি। আমি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম। কিন্তু এ আসনে ফেনীর অভিভাবক আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম নির্বাচনে আগ্রহের কথা জানালে আমিসহ দলীয় অপরাপর প্রার্থীরা তাকে সমর্থন দিয়ে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ থেকে বিরত থাকি। নাসিম ভাইকে দলীয় নমিনেশন দেওয়া হয়, নৌকা মার্কার প্রতীকে তাকেই আমি বিজয়ী করবো। এটাতে আমি বদ্ধপরিকর।

নতুন ফেনী: ছাগলনাইয়াসহ বাকী উপজেলায় আপনার কি কি উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে?
সোহেল চৌধুরী: আমি বিশেষ করে আমাদের সকল উন্নয়নগুলো মোটামুটি সম্পাদিত হয়েছে। ছাগলনাইয়া উপজেলাবাসী দীর্ঘ যুগ ধরে যে উন্নয়ন কর্মকা- থেকে বঞ্চিত ছিলো আজকে মোটামুটিভাবে সেই ক্ষুদা শেষ হয়ে আসছে। মূলত আমরা এক দিক থেকেই পিঁছিয়ে আছি। আমাদের এখানে কোন শিল্প কলকারখানা নেই। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যদি আ’লীগ সরকার আবার ক্ষমতায় আসে তাহলে আমরা এই শিল্প প্রতিষ্ঠানের দিকে নজর দিতে পারবো। আপনারা জানেন আমাদের ফেনী-১ আসনে অনেক শিল্পপতি রয়েছে। আমরা তাদের সাথে অনেকবার বসেছি। আজকে ফেনীতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যার কারণে তারাও চায় যে এখানে শিল্প কলকারখানা তৈরি হোক এবং ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরামে অনেক বেকারত্ব দূর হবে। যারা প্রবাসে অনেক দক্ষ তাদেরকেও আমরা এখানে নিয়ে এসে শিল্প কলকারখানায় কাজে লাগাবো।

নতুন ফেনী: অন্যান্য সময়ের চাইতে এই উপজেলার মানুষ এখন কতটা নিরাপদ?
সোহেল চৌধুরী: আমি মনে করি আল্লাহর রহমতে অন্যান্য সময়ের তুলনায় শতভাগ বলা ঠিক হবেনা। তবে ৯০ ভাগ মানুষ বিভিন্নভাবে এখন নিরাপদ আছে। ফেনী জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী ভাইয়ের নেতৃত্বে আমরা ফেনী জেলা আ’লীগ পরিবার ঐক্যবদ্ধ। মানুষের জান, মালের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য নিজাম ভাই আমাদেকে সবদিক থেকেই সহযোগীতা করে যাচ্ছেন। আজকে ছাগলনাইয়া উপজেলার সাড়ে তিনলক্ষ মানুষ নিরাপদ। বিভিন্ন ঈদ, পূজা ও মেলায় আমরা শতভাগ সফল। খালেদা জিয়ার শাসনামলে আমরা কোন বিদ্যুৎ পেতাম না। কিন্তু বিদ্যুতায়নের ক্ষেত্রেও আমরা শতভাগ সফল। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকতে গোপালগঞ্জে এক ঘন্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকতোনা। কিন্তু আ’লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফেনী-১ আসনের মানুষ শতভাগ বিদ্যুৎ পেয়েছি। তাই আমরা ফেনীবাসীর পক্ষ থেকে বঙ্গকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

নতুন ফেনী: আমরা চাই গণমানুষের সেবার মাধ্যমে আপনি কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করুন। সেই সাথে আমাদের সময় দেয়ার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
সোহেল চৌধুরী: নতুন ফেনী তথ্যের ফেরিওয়ালা হয়ে সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরবে বলে আমি আশা করছি। এবং আপনাদেরকে অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

আপনার মতামত দিন

error: Content is protected !!