Cheap Jerseys Wholesale Jerseys Cheap Jerseys Wholesale Jerseys Cheap Jerseys Cheap NFL Jerseys Wholesale Jerseys Wholesale Football Jerseys Wholesale Jerseys Wholesale NFL Jerseys Cheap NFL Jerseys Wholesale NFL Jerseys Cheap NHL Jerseys Wholesale NHL Jerseys Cheap NBA Jerseys Wholesale NBA Jerseys Cheap MLB Jerseys Wholesale MLB Jerseys Cheap College Jerseys Cheap NCAA Jerseys Wholesale College Jerseys Wholesale NCAA Jerseys Cheap Soccer Jerseys Wholesale Soccer Jerseys Cheap Soccer Jerseys Wholesale Soccer Jerseys
  • Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850

একযুগ ধরে বন্ধ চরকালিদার কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়

নতুন ফেনী
প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৯ | সময় : ২:০৪ অপরাহ্ণ

দক্ষিণ চর কালিদাশ। ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদ নগর ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন একটি গ্রাম। চরে জেগে ওঠা গ্রামটিকে পৃথক করে দিয়েছে ফেনী নদী। গ্রামের দক্ষিণে মিরসরাই উপজেলার ধুম ইউনিয়নের মোবারক ঘোনা গ্রাম ছাড়া বাকী তিন দিকই নদী বেষ্টিত। এ গ্রামের অধিকাংশ মানুষের প্রধান পেশা কৃষিকাজ।

গ্রামের ৪ শতাধিক পরিবার মিলে প্রায় তিন হাজার মানুষের বসবাস। একানে নেই প্রাথমিক বিদ্যালয়, নেই কোন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিতে কোমলমতি শিশুদের নিয়ে দুই থেকে তিন কিলোমিটার দূরে পার্শ্ববর্তী মিরসরাই উপজেলার শুক্রবারের বাজার অথবা শান্তিরহাটে যেতে হয় তাদের।

প্রায় একযুগ ধরে বন্ধ রয়েছে এ গ্রামের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চরকালিদার কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। এ এলাকার শিশুদের কয়েক কিলোমিটার দূরে মিরসরাই উপজেলার উত্তর মোবারক ঘোনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ স্থানীয় কয়েকটি কিন্ডারগার্টেনে। ফলে প্রাথমিকের গন্ডি পেরুনোর আগেই ঝরে পড়ছে শত শত-শিশু। অসুস্থ্য, দূর্বল অথবা শারিরিক প্রতিবন্ধি শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার সুযোগ।

সরে জমিন গিয়ে দেখা যায়, ঝোপ-জঙ্গলে ডাকা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে চরকালিদাস গ্রামের শিক্ষার এ বাতিঘর। বিদ্যালয়ের চারটি কক্ষে যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে চেয়ার, টেবিল, আলমারিসহ আসবাবপত্র। শিক্ষার্থীদের বসার টেবিল সে কবে উই পোকায় খেয়ে ফেলেছে। কালো ব্লাকবোর্ডে অনেক দিন দাগ পড়েনি সাদা চকের।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৩ সালে মরহুম হাজী রুহুল আমিন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির অনুদানে ২৪ শতাংশ জায়গা স্থাপিত হয় চরকালিদাস কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠাতার ছেলে সিরাজ উদ্দিনের স্ত্রী জাহেদা আক্তার রুমাকে প্রাধান শিক্ষক করে ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে বিদ্যালয়টি যাত্রা শুরু করে। তার সাথে শুরু থেকে স্থানীয় যুবক জামাল উদ্দিন, নাছিমা আক্তার ও খাদিজা আক্তার সম্পূর্ণ অবৈতনিকভাবে শিক্ষা দেন এ যুগেরও বেশি সময় ধরে।

পরবর্তীতে ২০০৬ সালে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল আমীন ও প্রধান শিক্ষক জাহেদা আক্তার রুমা মৃত্যুবরণ করলে স্কুলটি বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় যুবককরা কয়েকবার বিদ্যালয়টি চালু করার উদ্যোগ নিলেও কোন সুফল মেলেনি এখানকার মানুষের।

স্কুল আঙ্গিনায় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সৃষ্ট ঝটলায় কথা হয় চরকালিদার গ্রামের আনোয়ার হোসেনের শিশু সন্তান রায়হান হোসেনের সাথে। পার্শ্ববর্তী মিরসরাই উপজেলার আনোয়ারা বেগম সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস ওয়ানে পড়ে। বিদ্যালয় অনেক দূরে হওয়ায় হেটে যেতে কষ্ট হয় বলে জানা সে।

উত্তর সোনাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যায়ের দ্বিতীয় শ্রেনিতে পড়া একই গ্রামের মাইন উদ্দিনের মেয়ে নাহিদা আক্তার প্রীতি। স্কুল অনেক দূর হওয়া নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে না বলে জানায় সে।

একই গ্রামের এসএসসি পরীক্ষার্থী মৃত আমিন মেস্তরীর ছেলে মীর মোহাম্মদ রাপি। পার্শ্ববর্তী মেহেরুন নেছা ফয়েজ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় শাখা থেকে পরীক্ষা দেকে সে। গ্রাম থেকে অনেক দূরে গিয়ে আমাদের পড়া-লেখা করতে হয়।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম হাজী রুহুল আমিনের ছেলে মজিবুল হক জানান, পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে স্কুলটি দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে। সরকারী সহযোগিতা স্কুলটি পুনরায় চালু হলে এ গ্রামের শিক্ষা বঞ্চিত শিশুরা শিক্ষার সুযোগ পাবে। সরকারী অনুদানে অবকাঠামোগত সমস্যা থাকলে আমরা স্কুলের জন্য আরো জায়গা দান করবো।

একই এলাকার মহিউদ্দিন বলেন, স্কুলটি পুনরায় চালু করতে এলাকাবাসী যে কোন ধরণের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে। আমরা চাই স্কুলটি পুনরায় চালু হোক। আমাদের সন্তানরা শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাক।

স্থানীয় ষাটোর্ধ রুহুল আমিন জানান, এ গ্রামের সরকারী সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এখানে স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্রতো দূরের হাটা-চলার একমাত্র সড়কটিও পড়ে রয়েছে অযত্ম-অবহেলায়। প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কে বর্ষাকালে কাদা-পানির মধ্যে চলাচল করতে হয় এ গ্রামে মানুষদের। ভোট এলে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের পা পড়ে এ এলাকায়। প্রতিশ্রুতি দেয় কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুর রহমান জানান, ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারী সবগুলো কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারী করণ করা হয়েছে। নতুন করেন সরকারী করণের কোন নির্দেশনা নেই। তারপরও কোন প্রকল্পের মাধ্যমে স্কুলটিকে চালু করা যায় কিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ আমরা চেষ্টা করবো।

ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা ছিলোনা। বিষয়টি উদঘটনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, স্কুলটি পুনরায় চালুর ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সম্পাদনা: আরএইচ/এনজেটি

আপনার মতামত দিন

error: Content is protected !!