Cheap Jerseys Wholesale Jerseys Cheap Jerseys Wholesale Jerseys Cheap Jerseys Cheap NFL Jerseys Wholesale Jerseys Wholesale Football Jerseys Wholesale Jerseys Wholesale NFL Jerseys Cheap NFL Jerseys Wholesale NFL Jerseys Cheap NHL Jerseys Wholesale NHL Jerseys Cheap NBA Jerseys Wholesale NBA Jerseys Cheap MLB Jerseys Wholesale MLB Jerseys Cheap College Jerseys Cheap NCAA Jerseys Wholesale College Jerseys Wholesale NCAA Jerseys Cheap Soccer Jerseys Wholesale Soccer Jerseys Cheap Soccer Jerseys Wholesale Soccer Jerseys
  • Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850

‘শীত নিদ্রায় বসন্ত’: ‘গণ’বৈশিষ্ট্য ও অন্যান্য তাৎপর্য

শাহাদাত মাহমুদ সিদ্দিকী
প্রকাশ : | সময় : ৩:৫৩ অপরাহ্ণ

‘স্বপ্নেরা পুড়ে ছাই হয়
চলে হাজার হাজার শ্বেত কবুতর হত্যার উল্লাস
চারদিকে দু:সহ চতুষ্পদী অন্ধকারে
লাঙলের ফলায় উঠে আসা খুলি
জানান দেয় অবিরাম
এখানে মানবতার চাষ হয় হররোজ।’
(শীত নিদ্রায় বসন্ত)

‘ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত’ বলে আমরা যখন কাব্য করছি। আমরা যখন ‘জাগ্রত বসন্ত দ্বারে’ শিরোনামে সাংবাদিকতা করছি। কিংবা বাসন্তী বাতাসের ডেউয়ে ভেসে আসা কোনো ঘ্রাণকে ‘বন্ধুর বাড়ীর’ ফুলের গন্ধ ভেবে কল্পনায় মদির হয়ে আছি।

তখন কি না একজন কবি এসে বলছেন- তোমরা কিসের বসন্ত বসন্ত আনন্দ করছো? এযে মিছে আনন্দ। এ কেবলই অভ্যাসের উৎসব। আনন্দের নয়। কারণ বসন্ত এখন শীতনিদ্রায়! এই যে ‘শীত নিদ্রায় বসন্ত’ শিরোনাম। বসন্তকে শীতনিদ্রায় স্রেফ কল্পনা করতে পারাই একটা চমকপ্রদ ব্যাপার।

কিন্তু ব্যাপারটা শুধুই কল্পনার নয়। ‘স্বপ্ন ভগ্ন’ কবিতায় তার কিছু কৈফিয়ত কবি দিয়েছেন।
‘এখানে মানুষ ছিল
ছিল তাদের হাতে বোনা শস্যক্ষেতে
বাতাসে দোল খাওয়া রোদ্দুর,

এই রাজপথে তখন মিছিল হতো
মিছিলে মানুষ ছিল
মুখে ছিল উদ্দাম শ্লোগান,

তারপর কেমন করে যেন
মানুষগুলো সব দালাল হয়ে গেলো
শ্লোগানগুলো বেঘোরে হারালো প্রাণ,

তারমানে এই হলো যে, কবির কাছে বসন্ত শুধুই প্রাকৃতিক ব্যাপার নয়। মানুষ, মানুষের বিষয়আশয় কিংবা মানুষের পৃথিবী নিরপেক্ষ কোনো ব্যাপার নয়। বসন্তকে বরণ করার মতো, গ্রহণ করার মতো মানুষের উপস্থিতিও বসন্ত আগমনের অনিবার্য শর্ত। গোলাপের সুন্দর হওয়ার জন্য যেমন ‘গোলাপের দিকে চেয়ে’ বলতে হয়, সুন্দর হও… শর্তটা তেমনই। এই শর্ত ‘দালাল’দের দিয়ে পূর্ণ করা স্বাভাবিকভাবেই অসম্ভব। সংগত কারণেই কবির ‘শীতনিদ্রায় বসন্ত’ উচ্চারণ যথোচিত।

তাই কবির অবস্থান এখানে শুধু চমকপ্রদই নয়, সেই সাথে কবিদের দ্রষ্টা পরিচয়ের আরো একবার সরব এবং ব্যঞ্জনাময় উপস্থিতি। ‘কেন আমি কবি? কেন প্রতিটি শব্দের জ্ঞাত অর্থের/ অতিরিক্ত অর্থ আমার জানা?'(কদর রাত্রির প্রার্থনা/আল মাহমুদ)

০২.
উপরের আলোচনা থেকে যে কেউ আরো একটি চমকপ্রদ ঘটনার আবিষ্কারক হয়ে উঠতে পারেন। সেটা হলো, শুধু আক্ষরিক অর্থে বেস্ট ওয়ার্ড ইন বেস্ট অর্ডার হলেই কবিতা হয় না। ওয়ার্ডকে প্রেক্ষাপট হজম করেই অর্ডারে আসতে হয়। এবং ওয়ার্ড তখনই শুধু বেস্ট হতে পারে যখন সে সেক্টারিয়ান না হয়ে সেই সময়ের ‘গণ’কে ধারণ করে। মোহাম্মদ সফিউল হকের কবিতা সেদিক থেকে আমাদের প্রচন্ড ঝাঁকুনি দিয়ে ওঠে। বসন্তের আবহমান বয়ানকে তিনি চ্যালেঞ্জ করেন। বলে উঠেন-
‘আর নয়-
ফুল পাখি কবিতা গান
রাষ্ট্রের সতীত্ব যখন ক্রন্দসী
সমাজের বিবেক যখন অনুভূতিহীন মৃত’

(শ্বাপদের শ্বাস হবো)

তিনি আর ফুল পাখি নিয়ে, দরবারি কবিতা গান নিয়ে পড়ে থাকতে চান না। রাষ্ট্রই যখন তার সতীত্ব নিয়ে ক্রন্দসী, সমাজের বিবেক যখন মরে ভুত, তখন এসব ফুল পাখি লতা পাতা নিয়ে পড়ে থাকার কোনো মানে হয় না।
‘আর তখন-
প্রায়শই মনে হয়
আর নয় বসে থাকা

ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত এই পৃথিবীর
একাকীত্ব বোধ করা প্রতিটি মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়াই।’
(বিদায় হে শূন্যতা)

০৩.
তারমানে এটা ক্লিয়ার যে, কবি এখানে অতীতের বসন্ত বয়ান থেকে নিজেকে বের করে এনেছেন। অতীতকে যাপন না করে কবি তার নিজের সময়কে যাপন করছেন নির্দ্বিধায়। একজন কবির এটাও সম্ভবত একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য যে, তিনি তার সময়কে তার দৃষ্টিতেই দেখবেন, অতীতের এবংকি মহৎ কোনো ডায়নোসরের দৃষ্টিতেও নয়। অতীত থেকে দৃষ্টিভঙ্গি হয়তো নেয়া যায়, শেখা যায়; কিন্তু দৃষ্টি নয়।

এক্ষেত্রে কবি মোহাম্মদ সফিউল হকের দৃষ্টির মুন্সিয়ানা দৃশ্যমান। আবহমান বসন্ত কাব্য তার দৃষ্টিকে আচ্ছন্ন করতে পারেনি মোটেই। পারলে উচ্চারণ করতে পারতেন না-
‘আমাদের কোনো কথা নেই
নিস্তব্দ নিঃশ্বাসে লুকিয়ে কেউ,
মাঘের প্রচন্ড শীতে ঝরে গেছে অশ্বত্থের পাতা
বসন্ত বাতাসের গানে বিসর্জনের ডেউ।

আমাদের আর কোনো স্বপ্ন নেই
নেই কোনো দহন অনুভব পাঁজরের খাঁজে,
সীমাবদ্ধতা দুঃশাসন আর অপসংস্কৃতিতে সয়লাব
বর্তমান ঝুলে আছে পাহাড় ও খাদের মাঝে।’
(আমাদের কোনো কথা নেই)

কিতাবজুড়ে এরকম অসংখ্য উচ্চারণ কবির কবিতাকে ‘গণ’-বৈশিষ্ট্যে উত্তীর্ণ করেছে। সেই সাথে সমকালীন জনতার অজস্র চোখের ভেতর দিয়ে তার বসন্ত দৃষ্টি হয়ে উঠেছে স্বচ্ছ ও স্বচ্ছন্দ…
ফাগুনে ‘আগুন রঙা কৃষ্ণচূড়া’র পরিবর্তে তিনি দেখে ফেলেন-
‘প্রতিদিনকার চোখের সামনেই
আমাদের অগণন শস্য যায় চুরি,
দেখি বাধ্য বশংবদ; অভ্যস্ত কানে
শুনি শিশুদের চিৎকার ভূরিভূরি।’
(প্রত্ম-সম্পর্কের জট)

০৪.
‘শীত নিদ্রায় বসন্ত’ কাব্যগ্রন্থের আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, এর কবিতাগুলোর অধিকাংশই মনে হয় আন্তঃসম্পর্কিত। যেন একটি সিস্টেম। যেন হরেক ফুলে গাঁথা একটি মালা। এর কোনো কবিতা আমাদের বসন্ত ভাবনাকে পুনর্গঠন করেছে। কোনোটি আমাদের বসন্ত উদ্ধারে স্বপ্ন দেখিয়েছে। কোনো আমাদের সাহস যুগিয়েছে। কোনোটি দিয়েছে পথনির্দেশ। কোনোটিতে নতুনের পথে অভিযানের আহবান।

যেমন ধরুন ‘থামো’ কবিতাটি।
কবি ‘শীতনিদ্রায় বসন্ত’ কথাটি আমাদের আতংকিত কিংবা আশাহত করতে বলেননি। আমাদের দৃষ্টিতে পরিচ্ছন্ন করতেই বলেছেন। সেটা খুব বোঝা যায় ‘থামো’তে…
‘মিথ্যাবাদী নেতা হতে আসিনি
আসিনি এই শীতে আগুন পোহাতে
কিংবা ছড়াতে উত্তাপ
বলতে এসেছি- থামো’…

কেন থামাতে চান কবি?
কারণ বসন্ত শীতনিদ্রায় বলে তিনি তার দায়িত্ব শেষ করতে চান না।
তিনি বসন্তের অভিমুখে বিজয় অভিযান চান।
থামো হুংকার সেই পথে তার পয়লা পদক্ষেপ।

তিনি জানেন-
‘রাজ্যপাট জুড়ে অন্তহীন সন্ত্রাস
খায় সত্যান্বেষী প্রতিভা মগজ মনন

তবুও জিন্দাদিল কিছু তরুণ যাত্রী
ভাসায় সাম্পান দরিয়ার নোনাজলে

শত্রুর সমুদ্রে সাম্পান ভাসিয়ে
আমিও রাখলাম জীবনবাজী।’
(অভিযান)

কবি স্বপ্ন দেখেন। আমাদেরও বলেন-
‘এসো স্বপ্ন বুনি
আবদ্ধ হই দৃঢ় সংকল্পে

উৎসর্গ করি নিজেকে
মানুষ ও মানবতার জন্য।’
(এসো স্বপ্ন বুনি)

সেই সাথে আমাদের উদার হতে বলেন। বলেন সত্য সুন্দর এবং আলোর ব্যাপারে নৈর্ব্যক্তিক হতে। যেন সত্যকে আলোকে আমরা দল মতের ঊর্ধ্বে উঠে স্বাগত জানাতে পারি। কবির ভাষায়-
‘আমার কোনো প্রযতœ নেই
অনামী প্রান্তর থেকে তাই-
আলো দেখলেই বলি, স্বাগতম।’
(বিচ্ছিন্ন সংলাপ)

কবি যেসব জিন্দাদিল তরুণ যাত্রীর সাথে ‘শত্রুর সমুদ্রে সাম্পান ভাসিয়ে’ জীবনবাজী রেখেছেন, তাদের কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দিতে চান না। তারা ব্যর্থ হলে পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা আমাদের বিশদ করে জানিয়ে দিয়েছেন-

তরুণরা ব্যর্থ হলে…
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গাধা চাষ
পাড়ার গুন্ডাদের ধরে ধরে করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক
সমস্ত পার্কগুলোতে বসে থাকে কিছু অসার পাথর
আচমকা কুকুর ঘোষণা দেয় সে-ই নগর পিতা
শকুনকে করা হয় জাতীয় পাখি।


তরুণরা ব্যর্থ হলে…
পর্দায় থাকেনা রূপালি ইলিশের ঝাঁক
মগের মুল্লুক হয় দেশ
বিরাজ করে মাৎসন্যায়
ফিরিঙ্গিরা দখল করে রাজধানীর সব অলিগলি।

সেই সাথে কুণ্ঠাহীনভাবে জানিয়েছেন তার স্বপ্নের গন্তব্য।
‘তারপর একদিন পৃথিবীটা যখন কবিদের হবে
দূর হবে অমানিশার ঘোর অন্ধকার রাত’
(পৃথিবীটা যখন কবিদের হবে)

সম্পাদনা: আরএইচ/এসএমএস

আপনার মতামত দিন