Cheap Jerseys Wholesale Jerseys Cheap Jerseys Wholesale Jerseys Cheap Jerseys Cheap NFL Jerseys Wholesale Jerseys Wholesale Football Jerseys Wholesale Jerseys Wholesale NFL Jerseys Cheap NFL Jerseys Wholesale NFL Jerseys Cheap NHL Jerseys Wholesale NHL Jerseys Cheap NBA Jerseys Wholesale NBA Jerseys Cheap MLB Jerseys Wholesale MLB Jerseys Cheap College Jerseys Cheap NCAA Jerseys Wholesale College Jerseys Wholesale NCAA Jerseys Cheap Soccer Jerseys Wholesale Soccer Jerseys Cheap Soccer Jerseys Wholesale Soccer Jerseys
  • Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850

নুসরাতের স্মৃতি খুঁজে ফেরেন স্বজনরা

নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ : মে ১০, ২০১৯ | সময় : ৪:৫৭ পূর্বাহ্ণ

ফেনীর সোনাগাজীতে যৌন নিপীড়নের পর আগুনে পুড়িয়ে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার এক মাস পূর্ণ হলো আজ শুক্রবার। এক মাস আগের মর্মান্তিক সেই ঘটনা ভোলেনি কেউ। এখনো কাটেনি পরিবার, স্বজন ও সহপাঠীদের শোক। নুসরাতের সঙ্গে কাটানো সুখ-দুঃখের বিভিন্ন মুহূর্তের স্মৃতি এখনো তাদের কাঁদায়, ওইসব স্মৃতি প্রতিনিয়ত খুঁজে ফেরেন স্বজন ও সহপাঠীরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নুসরাতের বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, কয়েকজন সহপাঠী এবং প্রতিবেশী নারীরা এসেছেন নুসরাতের মায়ের সঙ্গে দেখা করতে। ভেতরের ওই ঘরটি থেকে ভেসে আসছিল মৃদু কান্নার আওয়াজ। ঘরটিতে গিয়ে নুসরাতের মা শিরিন আক্তারকে মেয়ের স্মৃতি হাতড়ে কান্নাকাটি করতে দেখা যায়। নুসরাতের শয়নকক্ষে তার টেবিলে সাজানো বই-পত্র এবং আলনায় থাকা কাপড়-চোপড় সেই আগের মতোই রয়েছে সাজানো। বাবা বাড়িতে নেই, বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান গতকালই এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সোনাগাজীর বক্তার মুন্সি শাখায় যোগ দিয়েছেন।

কথা হয় নুসরাতের ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বোন নুসরাত ছাড়া আমাদের পরিবার শূন্য। আমাদের ঘরে অনেক সম্পদ না থাকলেও সে আমাদের ঘর আলোকিত করে রাখত।

নুসরাতের স্মৃতি মনে পড়লে রাতে ঘুম আসে না। আমার সঙ্গে কতইনা দুষ্টুমি করত বোন আমার। ’
রায়হান আরও বলেন, ‘আমার মা এখনো বোনের (নুসরাত) জন্য কেঁদে কেঁদে বুক ভাসান। আর আব্বার (এ কে এম মুসা) বোবাকান্না দেখে বুকটা ফেটে যায়। ’

নুসরাতের খুব কাছের বন্ধু ছিল নিশাত, ফুর্তি, সাথী ও তামান্না। নিশাত ও ফুর্তির সঙ্গে নুসরাতের হাজারো স্মৃতি। নুসরাত তার সুখ-দুঃখের সবকিছুই ভাগাভাগি করত তাদের সঙ্গে। মোবাইল ফোনে নিশাত বলেন, ‘আমাদের খুব কাছের বান্ধবী ছিল নুসরাত। তার সঙ্গে অনেক স্মৃতি, যা এখনো অমলিন। দেখা হলেই আমাদের দুজনকে (নিশাত ও ফুর্তি) নাম ধরে না ডেকে “আই লাভ ইউ” বলে সম্বোধন করত নুসরাত। আর কোনো কারণে দুই-এক দিন মাদ্রাসায় না আসলে “আই মিস ইউ” বলে জড়িয়ে ধরত নুসরাত। ’

নুসরাতের আরেক ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ফুর্তি বলেন, ‘নুসরাত শিক্ষা দিয়ে গেছে কীভাবে প্রতিবাদ করতে হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন অসংখ্য নুসরাত নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। এখনো অসংখ্য সিরাজ স্কুল-মাদ্রাসায় ঘাপটি মেরে বসে আছে। নুসরাতের খুনিদের বিচারের মাধ্যমে এই নুসরাতরা (নির্যাতিতরা) কিছুটা হলেও মুক্তি পাবে। ’

নুসরাতের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় গিয়ে কথা হয় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মো. হোসাইনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘নুসরাত অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে তাকে দেখতে যাই। এমন একটি নিষ্পাপ মেয়ের ওপর কীভাবে এমন নৃশংসতা চালিয়েছে তা ভাবতেই শিউরে উঠি। নুসরাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করছি।

এদিকে নুসরাত হত্যার তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত সুপার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘নুসরাত হত্যার ক্লু অল্প সময়ের মধ্যে উদঘটিত হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে শতভাগ আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। আদালতে ১২ আসামি জবানবন্দি দিয়েছে। অন্য আসামিদের জবানবন্দি নেওয়ার কাজ চলছে। চলতি মাসের মধ্যেই অভিযোগপত্র দাখিল করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী। ’

গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাতকে যৌন নিপীড়নের দায়ে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে আটক করে পুলিশ। পরে ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ার পর মারা যান নুসরাত।
সম্পাদনাঃ আরএইচ/ এনজেটি

আপনার মতামত দিন

error: Content is protected !!