• Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850

এই বাংলাদেশ কাঁদাবে আবার !

নতুন ফেনী
প্রকাশ : জুন ৪, ২০১৯ | সময় : ১:৫৩ অপরাহ্ণ

হেডলাইন দেখে কেউ কেউ ভুরু কুচকাতেও পারেন । দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে যে নামটির জয় জয়কার, সেই বাংলাদেশ আবার কাঁদাবে কথাটি প্রথম পড়ায় দৃষ্টিকটু মনে হতেই পারে । লিখার একেবারে শেষদিকে হয়তো মিলিয়ে নিতে পারবেন কিছুটা ।

২ জুন ২০১৯ দিনটি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটের সামগ্রিক দৃষ্টিতে এটি অনন্য একটি ম্যাচ । একেতো বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ তার উপর আয়ারল্যান্ডে সিরিজ জয়ের পর ক্রিকেটপ্রিয় দেশবাসীর আখাংকার পাহাড় জমা । তাই বিশ্বমঞ্চে কেমন করবে অতি সম্প্রতি নিজেদের প্রমান করে আসা এই বাংলাদেশ,সেটি নিয়ে ছিলো চাপা উৎকণ্ঠা । সেই উৎকণ্ঠাকে টিম পারফরম্যান্স এর মাধ্যমে উড়িয়ে দিয়ে শক্তিশালী সাউথআফ্রিকা হারিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করলো টাইগাররা । যদিও শুরুতে ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিলোনা,টসে হেরে শুরু হয় খেলার মিশন । কোশলী সাউথ আফ্রিকা বাংলাদেশকে ব্যাট করতে পাঠায় ভিন্ন পরিকল্পনায় । বিশ্বকাপের পুর্বের খেলা গুলোয় এশিয়ার দেশগুলোর ছোট স্কোর হয়তো আফ্রিকানদের স্বপ্ন দেখিয়েছে । তবে টাইগাররা এদিন ছিলো ভিন্ন ও ভীষন সুসংগঠিত । ৩৩০ রানের ইনিংসকে যদি আপনি গভীর ভাবে পর্যালোচনা করেন তাহলে আপনি এই বার্তাটিই পাবেন । নেই কোন শতরান অথবা অতি দানবীয় কোন ইনিংস,বরং ব্যাট করা প্রায় সবারই আছে স্পর্শ । এমন দিন তাই এক অনবদ্য বাংলাদেশেরই বার্তা দিলো ক্রিকেট বিশ্বকে । তামিম সৌম্যের শুরুটা ঠিক যেমন চাওয়া তেমনই হয়েছে,তামিম এর ধরে খেলার সাথে সৌম্যের কাধে ছিলো রানের চাকা সচল রাখার ।

এরপরে যে দুজন বড় স্কোরের ভিত গড়ে দিলো তারা চমকিত কেউ নয়,দলের আস্থার দুই সেরা নায়ক মুশফিক ও সাকিব । আমি মনে করি উইকেট ধরে রেখে রানরেট ঠিক রাখতে তাদের পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাট চালিয়ে যাওয়াটা ছিলো ম্যাচের মুল স্থাপক। শেষ দিকে মাহমুদুল্লাহ ও মোসাদ্দেক যেনো ছক বাধা পরিকল্পনার ষোল আনাই পূর্ন করলো । রান তাড়া করার অভিজ্ঞতায় আফ্রিকা কম যায়না, সেভাবেই যেনো খেলছিলো তাদের দুই অপেনার । বিশেষ করে ডি-কক ক্রমাগত সেট হচ্ছিলেন,যা টাইগারদের জন্যে বড় চিন্তার কারন হচ্ছিলো । ভুল বুঝাবুঝিতে রান আউট হয়ে ফিরে যায় এই প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান । তারপরও লড়াইটা সমানে সমান ধরে রাখছিলো ডেভিড মিলার,ভ্যান ডার ডুসেন রা । কিন্তু পেইস এটাকের মুস্তাফিজ আর সাইফুদ্দিন এর আঘাত বাংলাদেশ শিবিরে সস্তি ফেরায় । ম্যাচের গুরুত্বপুর্ন সময়ে পরপর দুই উইকেট নিয়ে নিজের উড়ন্ত শুরুর বার্তা দিলো তরুন অলরাউন্ডার সাইফ । একটু গভিরে দেখলে দেখা যায় ম্যাচ যখন দৌদুল্যমান অথবা কিছুটা আফ্রিকান শিবিরের দিকে হেলে যাচ্ছে, তখনই সাইফের মেডেন সহ উইকেট প্রাপ্তি ম্যাচের ফলাফলে খুবই গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রেখেছে বলে আমি মনে করি । শেষ পেরেকটা মুস্তাফিজ মারলো ডুমিনিকে ফিরিয়ে দিয়ে,ততক্ষনে জয়োল্লাস শুরু । শুধু সময়ের অপেক্ষা । অনেক পাওয়ার এই ম্যাচে দলের সেরা প্লেয়ার সাকিবই ম্যাচ সেরা ।

শুরুতে যা বলছিলাম, সম্মিলিত এমন জেগে উঠা বাংলাদেশ ক্রিকেট খুবই কম দেখেছে । যে বিশাল প্রত্যাশার পাহার নিয়ে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েছে টাইগাররা,শুরুতে এমন জয় যেনো প্রত্যাশার তীব্রতা আরো বাড়িয়ে দিলো । সেমি-ফাইনাল এর ছক একে রাখা এদেশের কোটি প্রান যেনো সেটিতে আরো প্রলেপ দিয়ে নিলো । যেটির প্রতি ভালোবাসা বেশী বেড়ে যায়,সেটির অপ্রাপ্তিতে যন্ত্রনাও অত্যধিক । তাই আমার মানসপটে বারবার ফিরে ফিরে আসে এশিয়া কাপ ফাইনাল,গত বিশ্বকাপ এর কোয়ার্টার ফাইনাল বা আরো কিছু সিরিজের ফাইনাল । যেগুলো চোখের জলে ভাসিয়েছে এদেশের ক্রীড়া প্রেমীদের । তাই আমি বলবো এই দলটা বিশ্বকাপ এ যতটুকুই যাক,এই দলটা এদেশের ক্রিকেটকে অন্য যায়গায় নিয়ে যাবে এটা সুনিশ্চিত । তাই সব প্রত্যাশাকে এক পাশে রেখে বরং টাইগারদের ক্রিকেট উপভোগ করুন, বিশ্বমঞ্চে তাদের গর্জনে সামিল হয়ে খেলাটাকে সবার আগে উপভোগ করুন ।
লেখক: ক্রীড়া লেখক ও সংগঠক

আপনার মতামত দিন

error: Content is protected !!