• Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850

২০ রানের আক্ষেপ

শরীফুল ইসলাম অপু
প্রকাশ : জুন ৭, ২০১৯ | সময় : ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ

ক্রিকেট বিশ্লেষকরা অনেকেই নিউজিল্যান্ডের সাথে ম্যাচটি টাইগারদের জন্য সাউথ আফ্রিকার সাথে জয়ী হওয়া ম্যাচ থেকেও কঠিন হবে বলে ম্যাচের আগেই মতামত দিয়েছিলেন । পারতপক্ষে হয়েছেও তাই ।

টস জিতে ওভালের নতুন পিচে প্রতিপক্ষ কে ব্যাট করতে পাঠানো কিউই অধিনায়ক উইলিয়াম এর সিদ্ধান্ত আমার কাছে যথার্থই মনে হয়েছে ।

দুই প্রান্ত থেকে দুই পেসার ফার্গুসন ও বোল্ট যেনো দলনেতার সিদ্ধান্তের যথার্থতা বুঝিয়ে দিলো । তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এর মুখে টাইগারদের দুই ওপেনার তামিম ও সৌম্য খোলস থেকেই বের হতে পারছিলো না । সৌম্য কিছুটা সাবলীল হলেও তামিমকে কালও অপ্রস্তুত মনে হয়েছে আমার কাছে। ৩৮ বল খেলে ২৪ রান করে আউট হবার বলে শট সিলেকশনই বলে দেয় তামিম নিজের স্বাভাবিক রূপে নেই । কিউই বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এর বিপক্ষে আগের ম্যাচের ভিত গড়ে দেয়া সাকিব-মুশফিক খেলছিলো বেশ সতর্কতার সাথেই । এই জুটি থাকাকালীন মনে হচ্ছিলো দলের স্কোর এভাবে আগালেও ২৭০ এর ঘরে যাবেই ।

কিন্তু শর্ট মিডঅফে ফিল্ডার এর হাতে রেখেই রান নিতে গিয়ে রান আউট মুশফিক । সেট হয়েও দলের সবচেয়ে ডিপেন্ডেবল ব্যাটসম্যান এর এমন তাড়াহুড়া দেখে আমি অবাকই হয়েছি । মূলত বড় স্কোর থেকে বাংলাদেশ ছিটকে যায় তখনই । তবে মিঠুনকে নিয়ে সাকিব খেলে যাচ্ছিলো নিজের স্টাইলেই, নিজের ক্যারিয়ারে ৪৪ তম অর্ধশতক এর পর কিছুটা অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার এর মাঝে । আগের দিনের শতরান না পাওয়ার আক্ষেপ কাল মিটাবে, এমনই ভাবছিলাম আমি । কিন্তু সেটি হলোনা দ্রুত রান তুলার তাগিদে। ৬৮ বলে ৬৪ রান করে সাকিব ফিরে গেলে মাহমুদউল্লাহ ও মিঠুন এর ব্যাটের দিকেই নজর থাকে । কিন্তু অত্যধিক বল মোকাবেলা করে সেট হয়েও মনোযোগ হারিয়ে সাজঘরে ফিরে যায় মিঠুন (৩৩ বলে ২৬) এবং মাহমুদউল্লাহ (৪১ বলে ২০) । মূলত এই জুটি থাকাকালীন সময়ে মানে ৩০ থেকে ৪০ ওভারের সময়টাতেই রানের গতিতে পিছিয়ে পরে বাংলাদেশ । এই সময়টাতে রানের চাকা একেবারেই মন্থর হয়ে পড়ে, আমার পর্যালোচনায় নূন্যতম ২০-২৫ রান আরও বেশী যোগ করা যেতো । তবে এই না হবার কৃতিত্ব দিতে হবে কিউই বোলারদেরও । ম্যাট হেনরির পাশাপাশি গ্র্যান্ডহোম ও স্যান্টনারও মেপে বল করেন । শেষ দিকে মিরাজ-মাশরাফি দ্রুত ফিরে গেলেও প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ব্যাট করতে নামা অলরাউন্ডার সাইফুদ্দিন এর ব্যাট চড়াও হয় কিউই বোলারদের উপর,তার ২৩ বলে ২৯ রানে ভর করে ২৪৪ রানের মাঝারি স্কোর পায় বাংলাদেশ । টাইগারদের ইনিংস শেষেই কেনো জানি মনে হচ্ছিলো রিয়াদ-মিঠুনের জুটিতে কম যোগ হওয়া ২০ রানের আক্ষেপ ছড়াবে ম্যাচ শেষে । তবে এদিন কিউই বোলারদের পাশাপাশি নজর কেড়েছে তাদের পুরো দলের ফিল্ডিংও ।

স্বল্প পুঁজি নিয়ে কিউইদের আটকে দেয়ার মিশনের শুরুতেই নিজের হাতেই বল তুলে নেয় মাশরাফি । এটিও আমার কাছে সঠিক মনে হয়নি । ডানহাতি ওপেনার এর বিপরীতে বাংলাদেশি অধিনায়ক বামহাতি সুইং পেইসার মুস্তাফিজকে আনলেই ভালো হতো বলে আমার ভাবনা । নড়াইল এক্সপ্রেসের গতিহীন শর্টবল গুলো একেবারেই অকার্যকর মনে হয়েছে আমার কাছে । গাপটিল এর চড়াও হয়ে ব্যাট চালানোতে খেই হারিয়ে বসে মাশরাফি-মিরাজ উভয়ই । এক্ষেত্রে আবারও ত্রাতার ভূমিকায় সেই সাকিবই । দুই ওপেনার গাপটিল ও মুনরোকে ফিরিয়ে দিয়ে দ্রুত ঘুরতে থাকা রানের চাকার লাগাম টেনে ধরে সে ।

এরপর উইলিয়ামস ও রজ টেলর বেশ দেখেশুনে খেলছিলেন । সিংগেল এর উপর জোর দিয়েই তারা উইকেট আগলে রাখছিলেন । এই জুটিই ম্যাচকে নিউজিল্যান্ডের দিকে অনেকটা নিয়ে যায় । উইলিয়ামস ও  টম লাথাম মিরাজের শিকার হয়ে ফিরে গেলে এবং ৯১ বলে ৮২ রান করে বিপদজনক হয়ে উঠা টেলরকে মোসাদ্দেক ফিরিয়ে দিলেই ম্যাচের নতুন মোড় নেয় । এই সময়ে নিউজিল্যান্ডের রানের চাকা মন্থর হয়ে যায় । শেষ দিকে গ্র্যান্ডহোম ও ম্যাট হেনরি কে ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচে নাটকীয়তার আভাস দেয় পেইস অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন । এখানে অধিনায়ক মাশরাফির বোলারদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহারের মন্ত্রটি কাজে দিয়েছে বলে আমার পর্যালোচনা । তবে বোলিং এর মতো ব্যাটিংয়েও দলের আস্থার প্রতিদান দেয় কিউই বোলাররা,দেখেশুনে খেলে দলের জয় নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করে এই টেলএন্ডাররা । ১৭ বল আগে ২ উইকেটে পরাজয় বরণ করলেও ২৪৪ রানের সংগ্রহে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করানোর ক্রেডিট পেতে পারে বাংলাদেশি বোলাররা। কেউ কেউ মুশফিকের ভুলে উইলিয়ামস এর সহজ রানআউট থেকে বেঁচে যাওয়াকে ম্যাচের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখতে পারেন । তবে আমি এটিকেই মূল হিসেবে ধরছিনা । এটি খেলারই অংশ, যদিও অভিজ্ঞ মুশফিকের কাছে এটি একেবারেই অপ্রত্যাশিত । আমার কাছে দুদলের পার্থক্যের মধ্যে কয়েকটি বিষয় নজরে এসেছে । কিউই বোলারদের মধ্যে পেসাররা উজ্জ্বল থাকলেও টাইগারদের স্পিনাররাই ছিলো বেশী কার্যকর । যদিও পেইস এটাকের মধ্যে সাইফুদ্দিন ছিলো বরাবরই ব্যতিক্রম । দুদলের মধ্যে ফিল্ডিংও কিছুটা পার্থক্য গড়ে দিয়েছে বলে আমার পর্যবেক্ষণ, কিউই ফিল্ডাররা বাংলাদেশ ইনিংসে নূন্যতম নিশ্চিত ২০ রান আটকিয়েছে । তবে আমার কাছে সবচেয়ে বেশী আক্ষেপ ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রিয়াদ-মিঠুনের জুটিতে ২০-২৫ রান কম হওয়াকে ঘিরেই । মূলত এই কম হওয়া রানই কিউই ব্যাটসম্যানদের রিল্যাক্সড মুডে খেলতে সহযোগিতা করেছে বলে আমার বিশ্লেষণ ।

ম্যাচের ফলাফল যাই হোক, বাংলাদেশ যে ধারাবাহিক ভাবে ভালো খেলছে এটিই আশার বিষয় । গত ম্যাচে সাউথ আফ্রিকার সাথে ব্যাটসম্যান রা বড় স্কোর করে দলে কন্ট্রিবিউশন করেছ , এই ম্যাচে সেটা না হলেও ব্যাটসম্যানদের রেখে যাওয়া মাঝারি পুঁজিকেই প্রতিপক্ষের জন্যে দেয়াল আকার ধারণ করিয়েছে টাইগার বোলাররা । এটাই সম্মিলিত প্রচেষ্টা । যেখানে দলের জন্যে সবাই একাট্টা হয়ে যায়, সেখানে স্বপ্ন দেখা অব্যাহত রাখা যেতেই পারে । বাংলাদেশ যে এখন বড় দল, নিজেদের খারাপ দিনে না হয় হারলো । ক্রিকেটে এমনটাই হবে । ভাগ্যও অনেক কিছু গড়ে দেয় এটাকেই মেনে নিতে হবে । পরের খেলাগুলোতেও ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ, এমন বার্তাই দিয়ে গেলো নিউজিল্যান্ডের সাথে পরাজয় বরণ করে নেয়ার ম্যাচেও ।
লেখক  : ক্রীড়া লেখক ও সংগঠক

আপনার মতামত দিন

error: Content is protected !!