• Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850

শুধুই কি খারাপ দিন !

শরীফুল ইসলাম অপু
প্রকাশ : জুন ১০, ২০১৯ | সময় : ৪:৪৫ অপরাহ্ণ

ইংল্যান্ডের সাথে ম্যাচটি স্বাভাবিক ভাবেই কঠিন হবে, এটা পূর্ব অনুমেয় । চলতি বিশ্বকাপে ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং এ সম্মিলিত দল হিসেবে মাঠে এবং মাঠের বাহিরে শক্তিশালী স্বাগতিকরাই । তাই এই দলের বিপক্ষে একটু না,অনেকটুকু সাবধানতা অবলম্বন করারই কথা। বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়া এই ম্যাচটিকে খারাপ দিন উল্লেখ করে ভুলে যেতে চাইছে সমর্থকরা । পেশাদার দল হিসেবে প্রতিটি ম্যাচ নতুন করে শুরু করবে বাংলাদেশ, এটাই স্বাভাবিক । তবে অপ্রাপ্তির খেলায় শুধু ‌‌’খারাপ দিন’ বলে এড়িয়ে যাওয়া যায়না, ভুল কৌশল গুলো শুধরে নেয়াটাও মঙ্গলজনক বলে মনে করি।

গত ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং নিলে কি কি হতো সেটার দায়ভার মাশরাফিকে একা দেয়াটা ক্রিকেট না বুঝার কারণ । এই সিদ্ধান্ত আসে টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে, যেখানে মাশরাফি ছাড়াও আছে কোচ স্টিভ রোডস, ম্যানেজার সুজন ও নির্বাচক কমিটির প্রতিনিধি হাবিবুল বাশার । পুরো ম্যানেজমেন্ট কি তবে পিচ ও দলের কন্ডিশন ভুল এনালাইসিস করেছেন ! আগে ব্যাট করলে কি হতো সেটা না হয় পরে ভাবলাম, তবে আগে বোলিং নেয়ার সিদ্বান্ত নেয়া হলো আসলে কোন যুক্তিতে । কার্ডিফে আগেরদিনের বৃষ্টিতে পিচ কিছুটা ভেজা থাকবে, বোলাররা পাবে বাড়তি সুবিধা । এরকম কিছুতো অবশ্যই ভেবেছে টাইগার থিংক ট্যাংক রা । কিন্তু দলে সেই সুবিধা নেয়ার মতো বোলার কে ছিলো । অভিজ্ঞতার দৃষ্টিতে মাশরাফিকেই নেয়ার কথা এই বাড়তি সুবিধা নেয়ার দায়িত্ব,অতটা ফিট কি আছেন ম্যাশ !! পেইসারদের সুবিধার কথা ভেবে যদি আগে বোলিং নেয়াও হয়,সেখানে আক্রমণ শুরু করা হলো স্পিন এটাক দিয়ে !! সাইফউদ্দিনকে আনা হলো আরোও পরে !

এই গুলো কৌশলগত সমস্যা মনে হয়েছে । সব খেলার আগেই এরকম নানা কৌশল থাকে, কখনও ক্লিক করে কখনও করেনা । তবে বিশ্বকাপ নিকট পূর্ববর্তী সময় থেকে ৩০০ বেশী কয়েকটি স্কোর করা দলকে কেনো আমরা ব্যাটিংয়ে পাঠাবো, এই কৌশল মোটেও বোধগম্য নয় ।

এদিন পুরো বোলিং ডিপার্টমেন্টকে নখদন্তহীন লেগেছে, এতোটাতো নই আমরা । এই দলটিই সাউথআফ্রিকা কে হারিয়েছে এবং নিউজিল্যান্ডের সামনে চোখে চোখ রেখে কথা বলেছে একদমই ফিল করেনি ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা । দলনায়কের বোলিং নিয়ে নানা পরিবর্তন-পরিকল্পনাও এদিন কাজে দেয়নি । এতে আপনি যে বার্তাটা নিতে পারেন সেটি হলো, অস্রগুলো কাজ না করলে অধিনায়কও অকার্যকর থাকেন । কিন্তু মাশরাফিকে দলে রাখার পিছনে বোর্ড প্রধানের বড় যুক্তিই হচ্ছে তার নেতৃত্ব ! যদিও এদিন কোন পেসারই সুবিধা করতে পারেনি,তবে আগের দুই ম্যাচেও সাইফুদ্দিন ছাড়া মুস্তাফিজ-মাশরাফি ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে । তাই রুবেল প্রসঙ্গ না চাইলেও চলেই আসে, সাধারণের মতে রুবেল খেললে হয়তো এমনটা ঘটতো না । আমি ঠিক এভাবে ভাবছিনা । রুবেল দলে থাকলেই ইংল্যান্ডের রান ৩০০ এর মধ্যেই থাকতো, এরকম ভাবাও ভুল । তবে যদি অধিনায়কের বাহিরে আপনি মাশরাফিকে ভাবেন, তবে রুবেল সেই জায়গায় দরজায় কড়া নাড়ছে বলেই মনে হয় আমার । কিন্তু একটি দল যখন কোন প্রতিযোগীতা শুরু করে, সেটি শেষ হওয়া পর্যন্ত সেটির জন্যে নির্বাচিত নেতাকে বাদ দেয়াটা সুখকর নাও হতে পারে । এবং মাশরাফির উপর সেই আস্থা রেখেই তাকে এই দলটি দেয়া হয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে, শুধুমাত্র এই বড় আসরকে কেন্দ্র করেই । সুতরাং মাশরাফি দলে থাকাটাই স্বস্তির, শেষ পর্যন্ত ।

ফিল্ডিংয়ে এদিন ভীষন ক্লান্ত লেগেছে পুরো দলকে । দিন ভালো না গেলে এরকমটা হতেই পারে । খারাপ দিনে সবই দোষ মনে হতে পারে । তবে প্রত্যেক দলের সাথেই আমাদের কৌশল নিশ্চয়ই একই হবেনা,তাই ইংলিশদের সাথে দলে দুটি পরিবর্তন কিছুটা প্রয়োজনীয় মনে হয়েছে আমার । মিঠুন এর জায়গায় লিটন, আর মোসাদ্দেককে রেস্ট দিয়ে একজন পেইসার বাড়িয়ে রুবেল কে রাখা যেতো । এগুলো আসলে দলীয় কৌশলের বিষয়ই,দল চাইলে এশিয়ার বাহিরের দলগুলোর সাথে ২-৩ টি ম্যাচ মাশরাফিকেওতো রেস্ট দেয়া যেতো ,এতে মাশরাফি নিজেও আরও কিছুটা ফিট হবার সুযোগ পেতো । টসে জিতে বাংলাদেশ যদি আগে ব্যাট করে ২৭০-২৮০ করতো,তবে কিছুটা প্রতিরোধ সৃষ্টি সম্ভব হতো হয়তো । আগের ম্যাচটিতে বোলাররা সেই বার্তা দিয়েছেও । আমরা ইংল্যান্ড দলের ব্যাটিং স্ট্রেন্থ জেনেও কেনো তাদেরকে সেরাটা করার সুযোগ করে দিলাম ! ব্যাটিংয়ে সাকিব বরাবরের মতোই নিজেকে ছাড়িয়ে গেছে, এছাড়া বাকিদের কে মনে হয়েছে এদিনই টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছে । এরকম বড় টার্গেট এর ম্যাচে অনেকগুলো ডট বল খুবই দৃষ্টিকটু লেগেছে । সাকিবের সাথে পাল্লা দিয়ে যদি আরেকজন চড়াও হতো তবে দলের স্কোর অনায়াসেই ৩০০ পার হতো,এতে মনোবল ঠিক জায়গায়ই থাকতো । শুরুতে রানের চাকা দ্রুত ঘুরানোর দায়িত্ব ছিলো স্টোক মেকার সৌম্যের হাতে, সে পারেনি সেটি । মুশফিক কিছুটা সঙ্গ দিলে সাকিব হয়তো স্বপ্ন দেখাতেও পারতো ।তবে সাকিবের এমন ফর্মে থাকাটা আমাদের জন্যে বেশ স্বস্তির,নিশ্চিত ভালো কোন বার্তা পেতে যাচ্ছে ক্রিকেটপ্রিয় বাঙালিরা ।

যাইহোক, সেমিফাইনালের হিসাব করা সমর্থকদের জন্যে হতাশাজনক কিছুই এখনো টিম বাংলাদেশ করেনি কিন্তু । সেমিফাইনালে যেতে হলে আমাদের প্রথম তিনটির মধ্যে একটিতে জিততে হতো, সেটি আমরা পেয়েছি । হয়তো আরও একটি জিততে পারতাম, তাহলে এগিয়ে থাকতাম । পরের তিনটি ম্যাচের মধ্যে দুটিতে জিততে হবে (শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্টইন্ডিজ) । শেষ তিনটি ম্যাচের মধ্যেও দুটিতে জিততে হবে (আফগানিস্তান ও পাকিস্তান) । সুতরাং স্বপ্ন দেখা এখনই শেষ নয় । কাঙ্ক্ষিত জয় গুলো পেয়ে গেলেই স্বপ্নের হিসাব-নিকাশ মিলে যাবে হয়তো, নয়তো নয় । বড় টুর্নামেন্টে কোন দলের সাথেই কৌশলে ভুল করা যাবেনা, এরকম জায়গায় ভুল করলে সেটি কাটিয়ে উঠা কঠিনই ।আগামীকাল শ্রীলঙ্কার সাথে ম্যাচে নিজেদের ছক অনুযায়ী খেলতে পারলেই সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে ইন শা আল্লাহ । একটি জয় আবার আমাদের খেলোয়াড়দের আত্নবিশ্বাস ফিরিয়ে আনবে বলেই আমার বিশ্বাস । যদিও সেমিফাইনালের অংকটি একেবারেই সহজতর নয় । ভালোবাসা সহ শুভকামনা রইলো টাইগারদের জন্যে ।
লেখক: ক্রীড়া লেখক ও সংগঠক

আপনার মতামত দিন

error: Content is protected !!