• Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850

জুলিয়েট ছাড়া নি:সঙ্গ রোমিও

নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ : জুন ১১, ২০১৯ | সময় : ১:১৬ অপরাহ্ণ

‘রোমিও-জুলিয়েট’ ফেনীর আলোচিত ভিক্ষুক দম্পতি। ৫ জুন ঈদের দিন রোমিকে ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমান জুলিয়েট। স্ত্রী ও আদরের দুটি কন্যা সন্তানকে হারিয়ে নি:সঙ্গ রোমিও।

২০১৬ সালের শেষের দিকে কোল জুড়ে ফুটফুটে কন্যা সন্তান নিয়ে ফেনীতে আসেন মানসিক ভারসাম্যহীন আবু বক্কর সিদ্দীক ও আমেনা আক্তার। রাস্তার পাশে ফুটপাতে সংসার পাতে তারা। শহরের রাজাঝি দিঘীর পাড়ে কখনো বা কোন সরকারী অফিস আদালতের বারান্দায় দিন-রাত পার করেছেন তারা। স্ত্রী-সন্তানের প্রতি ভালোবাসা দেখে স্থানীয়রা তাদের নাম দেয় ‘রোমি-জুলিয়েট’। একদিন তাদের আদরের সন্তানটি চুরি হয়ে যায়। নিজের সন্তানকে হারিয়ে উদভ্রান্ত হয়ে যাযাবর জীবন যাপন করছে থাকেন ‘রোমিও-জুলিয়েট’।

২০১৭ সালের ১৫ মে। শহরের শিশুনিকেতন স্কুল মার্কেটের বারান্দায় আরো একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেয় ‘রোমিও জুলিয়েট’ দম্পতি। স্থানীয়রা নাম দেয় আনিসা আক্তার রানী। পুনরায় সন্তান পেয়ে তাদের আনন্দের আর সীমা থাকে না। মানুষের সহযোগিতায় আস্তে আস্তে বেড়ে উঠতে থাকে রানী। কিন্তু তাদের সংসারে আবারো কালো মেঘের ঘনঘটা। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে রানী। পরে স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম তাকে আধুনিক সদস হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখনে চিকিৎসাধিন অবস্থায় ২৫ ডিসেম্বর রানী মারা যায়। পরে তাকে পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

ওই দিন হাসপাতালে হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। মৃত সন্তানকে কোল থেকে কিছুতেই নামাতে দিচ্ছেন না আমেনা আক্তার। অপর দিকে কবর দেয়ার সময় আবু বক্কর সিদ্দিক সন্তানকে রেখে দিতে বার বার অনুরোধ করেন।

ফেনী পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাহতাব উদ্দিন মুন্না জানান, শুনেছি ঈদের কয়েকদিন আগে মহিপালে মালবাহী ট্রাকের সাথে ধাক্কা খেয়ে আমেনা আক্তার গুরুতর অসুস্থ হয়। পরে তাকে কে বা কাহারা একটি ভ্যানগাড়ীতে রেখে চলে যায়। সেখানে তার মৃত্য হলে ঈদের দিন পৌঁর কবরস্থানে মেয়ের পাশে সমাহিত করা হয়।

তিনি আরো বলেন, স্ত্রী মারা যাওয়ার পর নি:সঙ্গ আবু বক্কর সিদ্দিককে সেলুনে নিয়ে চুল কেটে গোসল করিয়ে নতুন জামা কাপড় কিনে দেন তিনি। পরে তাকে বুঝিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে অনুরোধ জানান। পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে সিদ্দিককে একটি রিক্সা ও থাকার লেপ-তোষক ও থাকার জায়গা করে দেন তিনি।

জানতে চাইলে আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, ফেনী শহরতলীর বাহিপুরের আবদুল আজিজ ও কদ বানুর ৫ সন্তানের মধ্যে কনিষ্ট সন্তান সে। পিতা আবদুল আজিজের কোন কন্য সন্তান না থাকায় ছোটবেলা থেকে আমেনা আক্তারকে লালন-পালন করেন। ভারসাম্যহীন সেই আমেনার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে সিদ্দিকের। পরে বিয়ে করে সংসার পাতে দু’ জন। যার কারণে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঘর থেকে বের করে দেয়।
সম্পাদনা: আরএইচ/এনজেটি

আপনার মতামত দিন

error: Content is protected !!