Cheap Jerseys Wholesale Jerseys Cheap Jerseys Wholesale Jerseys Cheap Jerseys Cheap NFL Jerseys Wholesale Jerseys Wholesale Football Jerseys Wholesale Jerseys Wholesale NFL Jerseys Cheap NFL Jerseys Wholesale NFL Jerseys Cheap NHL Jerseys Wholesale NHL Jerseys Cheap NBA Jerseys Wholesale NBA Jerseys Cheap MLB Jerseys Wholesale MLB Jerseys Cheap College Jerseys Cheap NCAA Jerseys Wholesale College Jerseys Wholesale NCAA Jerseys Cheap Soccer Jerseys Wholesale Soccer Jerseys Cheap Soccer Jerseys Wholesale Soccer Jerseys
  • Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850
  • Ad 850

অপরিকল্পিত খাল খনন; ধসে পড়ছে সড়ক

মিরসরাই প্রতিনিধি
প্রকাশ : | সময় : ৫:১৪ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত¡াবধানে অপরিকল্পিত খাল খননের কারণে প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক খালে ধসে পড়ছে। উপজেলার ১৩ নং মায়ানী ইউনিয়ন ও ১২ নং খইয়াছড়া ইউনিয়নের মধ্যবর্তী সাহেরখালী খালের পাশ দিয়ে যাওয়া শহীদ আবুল বশর সড়কের কাজীরহাট থেকে পশ্চিম ছাগলখাইয়া পর্যন্ত, কাজীরহাট থেকে পূর্ব ছাগলখাইয়া সড়কের অংশ ও কাজীরহাট থেকে কাজীরহাট মাদ্রাসার ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের ভয়াবহ ভাঙ্গণ দেখা দিয়েছে। সড়কে ভাঙ্গনের কারণে তিন ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের স্বাভাবিক চলাচল হুমকির মুখে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এমন আচরণে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন স্থানীয় এলজিইডি বিভাগও।

জানা গেছে, চলতি শুষ্ক মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড সীতাকুন্ডের তত্ত¡াবধানে মিরসরাইয়ে সাহেরখালী খালের ৪ কিলোমিটার, মঘাদিয়া খালের ২ কিলোমিটার এক’শ মিটার ও ডোমখালী খালের ৪ কিলোমিটার খনন কাজ করা হয়। খাল গুলো গড়ে ২২ মিটার চওড়া ও এক দশমিক ৪৯ মিটার করে গভীর করে কাটা হয়েছে বলে জানায় ঠিকাদার এস এম আবুল হোসেন। কিন্তু খালগুলো কাটতে গিয়ে খালের দুইপাশে তৈরি হওয়া সড়কের পাশে পর্যাপ্ত জায়গা না রাখায় বর্ষায় সড়কগুলো ভেঙ্গে খালে পড়ে যাচ্ছে। তাই খালের উন্নয়ন করতে গিয়ে সড়কের ক্ষতি হওয়ার দায় কার সাধারণ মানুষের মধ্যে এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

শহীদ আবুল বশর সড়কের কাজীরহাট থেকে ছাগলখাইয়া পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, সাহেরখালী খালে পশ্চিম অংশে কাজীরহাট থেকে পশ্চিম ছাগলখাইয়া পর্যন্ত কার্পেটিং করা সড়কের পাশ ভেঙ্গে খালে পড়ে গেছে। ছাগলখাইয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা সড়কের মাঝখান দিয়ে ধসে পড়েছে খালে। সড়কের আরো বিশাল এলাকায় জুড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। যে কোন সময় সেটি ভেঙ্গে খালে পড়বে। খালের পূর্ব পাশে কাজীরহাট থেকে পূর্ব ছাগলখাইয়া পর্যন্ত ধসে গেছে খালে বাঁধ। যেটি কয়েকশ মানুষের চলাচলের রাস্তা হিসেবেও ব্যবহার হয়। ওই অংশের বাঁধ ধসে পড়ায় কয়েক জায়গায় থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি খালে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে আছে। পশ্চিম ছাগলখাইয়া এলাকার বাসিন্দা নুরুল আলম, এমরান হোসেন মেম্বার জানান, খাল কাটার সময় ঠিকাদারকে বারবার বলার পরও সে সড়কের কথা বিবোচনা না করে এস্কেভেটার দিয়ে খাড়াখাড়ি ভাবে খাল খনন করেছে। আবার খাল খননের পর খালের পাড় না বেঁধে সে মাটি বিক্রি করে দিয়েছে। খাল খনন কাজের দায়িত্বে পানি উন্নয়ন বোর্ডে একজন কর্মকর্তা থাকলেও তিনি কখনও কাজের তদারকি করতে এলাকায় আসেননি। ফলে ঠিকাদার নিজের মতো করে খাল খনন করায় এখন সড়ক ভেঙ্গে খালে পড়ে যাচ্ছে।

ছাগলখাইয়া এলাকার ইউপি সদস্য মো.আজাদ জানান, ছাগলখাইয়ার এ সড়ক দিয়ে মায়ানী, পশ্চিম ছাগলখাইয়া, বড়–য়া পাড়ার কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাচল করে। সড়কটি এভাবে ভেঙ্গে পড়ে যাওয়ার কারণে এলাকা ছাত্রছাত্রী, সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়বে। এমন ভাবে সড়কটি ধসে পড়ছে সেটি পুনঃনির্মান করাও সম্ভব হবে না। একই অবস্থা কাজীরহাট মাদ্রাসা সড়কের। ওই সড়কের পশ্চিম পাশের বিশাল এলাকা জুড়ে ফসলি জমি বর্ষায় খালে ধসে পড়েছে। সড়কের পাশের মাটি সরে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। কামরুল হাসান শিবলু নামে এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলেন, বর্ষার পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল খনন অবশ্যই প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সড়কের ক্ষতি করে খাল খনন জনগনের জন্য কতটুকু লাভ হয়েছে। যে সড়কগুলো এখন খালে ভেঙ্গে পড়ছে সেগুলো মাত্র বছর দুয়েক আগে কোটি টাকা খরচ করে এলজিইডি থেকে কার্পেটিং করা হয়েছিল!

খাল খননের পর সড়ক ভেঙ্গে যাওয়ার বিষয়ে কথা বলতে খনন কাজের ঠিকাদার এসএম আবুল হোসেনের মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন। এরপর অনেকবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

খাল খনন কাজের দায়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ড (সীতাকুন্ড) উপ সহকারি প্রকৌশলী সুমন প্রমাণিক জানান, ঠিকাদার নিজে থেকে খাল খনন কাজ করিয়েছে। তিনি অন্যকাজে ব্যস্ত থাকায় খনন কাজ দেখতে ঠিক ভাবে আসতে পারেননি। তবে সড়ক ভেঙ্গে পড়ার বিষয়ে তিনি তেমন কিছু জানেন না। খনন কাজের মাটি সম্পর্কে বলেন, খালের ওই মাটিগুলো অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড অপরিকল্পিত ভাবে খাল খননের কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের খালের পাশে থাকা সড়কগুলো ধসে পড়ছে। খাল খনন এবং সড়ক দুইটিই জনগনের জন্য। কিন্তু একটি নষ্ট করে আরেকটির উন্নয়ন কতটুকু জনগনের উপকার হবে তা ভাবা প্রয়োজন। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানান।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (চট্টগ্রাম) সাব ডিভিশনাল প্রকৌশলী আবুল কাশেম ফজজুল হক জানান, ‘খাল খননের জন্য জায়গাও পাওয়া যায়না। এখন খাল খননের পর সড়ক ধসে গেলে তাতে আমাদের কি করার আছে? তবে খাল খননের পর সড়ক ধসে পড়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তিনি সড়কগুলো পরিদর্শন করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান’।
সম্পাদনা: আরএইচ/এনজেটি

আপনার মতামত দিন