সোনাগাজীতে বনবিভাগের বিরুদ্ধে জায়গা দখলের অভিযোগ • নতুন ফেনীনতুন ফেনী সোনাগাজীতে বনবিভাগের বিরুদ্ধে জায়গা দখলের অভিযোগ • নতুন ফেনী
 ফেনী |
২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সোনাগাজীতে বনবিভাগের বিরুদ্ধে জায়গা দখলের অভিযোগ

শহর প্রতিনিধিশহর প্রতিনিধি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:৩২ অপরাহ্ণ, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার দক্ষিণ চরখন্দকার মৌজার বিভিন্ন ব্যক্তির মালিকানাধীন জমি সামাজিক বন বিভাগ দখলে নেয়ার পায়তারা করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ভূমি মালিকরা। শনিবার ক্ষতিগ্রস্থরা ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিজেদেরকে ভূমি মালিক দাবী করে বন বিভাগের বেআইনী হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলন আয়োজনকারীদের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে আইনজীবী এমদাদ হোসেন জানান, আমরা যথাক্রমে মাঈন উদ্দিন, নিজাম উদ্দিন, শাহানা আক্তার, জোসনারা বেগম, আছমা আক্তার, পেয়ারা আক্তার, তাহেরা বেগম ও রেজিয়া বেগম দক্ষিন চর খন্দকার মৌজার দিয়ারা জরিপী ২৬১নং খতিয়ানের ১১৮৩ দাগের ৮৩০ শতাংশ ভূমিতে আমাদের মৌরশ মৃত ফয়েজ আহাম্মদের ওয়ারিশ স্বরূপে মালিক দখলকার থাকাবস্থায় আমাদের নামে বিএস ৪৫৮নং খতিয়ান প্রস্তুুত ও প্রচারিত হয়।
আমরা যথাক্রমে ইস্রাফিল চৌধুরী, আবুল কালাম আজাদ চৌধুরী, একরামুল হক চৌধুরী ও জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী পূর্ব বর্ণিত দক্ষিণ চর খন্দকার মৌজার দিয়ারা ৩১৫ ও ৩১৮ নং খতিয়ানের ১৬৬৯ শতাংশ ভূমিতে যথাক্রমে বিগত ১০/০৭/১৯৮৯ইং তারিখের ৬১০৬, ৬১০৭, ৬১০৮নং ছাপকবলা মূলে এবং বিগত ১৭/০৮/১৯৮৯ইং তারিখের যথাক্রমে ৭৩৭৯, ৭৩৮০ ও ৭৩৮১ নং ছাপকবলামূলে মালিক দখলকার থাকাবস্থায় আমাদের নামে বি.এস ২৩২নং খতিয়ান প্রস্তুুত ও প্রচারিত হয়।

আমরা যথাক্রমে মজিবুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, ফয়েজুর রহমান ভূঁঞা, ফিরোজা আক্তারগনের মধ্যে মজিবুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, ফয়েজুর রহমান ভূঁঞা বর্ণিত চর খন্দকার মৌজার দিয়ারা ৩২১নং খতিয়ানের ৬০০ শতাংশ ভূমি বিগত ৩১/০৫/২০২ইং তারিখের ৩০৭৯নং ছাপকবলা মূলে মালিক দখলকার থাকাবস্থায় আমাদের নামে নামজারী জমাখারিজ ৫৭২নং খতিয়ান প্রস্তুুত ও প্রচারিত হয়।
আমাদের মধ্যে মজিবুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান ও ফিরোজা আক্তার বিগত ২৯/১১/২০১৭ইং তারিখের ৬৪১৩নং ছাপকবলা মূলে ৪০০ শতাংশ ভূমিতে মালিক দখলকার থাকাবস্থায় আমাদের নামে নামজারী জমাখারিজ ৫৫৩ নং খতিয়ান প্রস্তুুত ও প্রচারিত হয়।

আমাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান বিগত ১৬/০৪/২০১৯ইং তারিখের ২১৩০নং ছাপকবলা মূলে ৩৫০ শতাংশ এবং বিগত ১৮/০৩/২০১৯ইং তারিখের ১৪৫২নং ছাপকবলা মূলে ৭৭১.৫০ শতাংশ ভূমিতে মালিক দখলকার থাকাবস্থায় আমার নামে নামজারী জমাখারিজ ৫৮৫ ও ৫৮০নং খতিয়ান প্রস্তুুত ও প্রচারিত হয়।
আমাদের মধ্যে মো. মহসীন বর্ণিত দক্ষিণ চরখন্দকার মৌজার ১০০০ শতাংশ ভূমিতে খরিদসূত্রে/ওয়ারিশসূত্রে মালিক দখলকার আছি। আমরা উপরোক্ত বর্ণনা মতে (৮৩০+১৬৬৯+২১২১.৫০+১০০০)=৫৬২০.৫০ শতাংশ ভূমিতে মালিক দখলকার আছি এবং সরকারী কোষাগারে নিয়মিত খাজনাদি পরিশোধ করেন বলে দাবী করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, ওই মৌজায় অনেক খোজাখোজি করেও বন বিভাগের নামে কোন খতিয়ান পাওয়া যায়নি মর্মে রেকর্ডরুম শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার উম্মে তাহমিনা স্বাক্ষরিত বিগত ০৯/০৯/২০২০ইং তারিখের চার্চিং প্রাপ্তে সুস্পষ্টভাবে প্রতিয়মান হয়। তারপরও বন বিভাগের অতি উৎসাহী কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ আমাদের নিরঙ্কুশ মালিকীয় দখলীয় ভূমিতে আমাদের বৈধ প্রবেশাধিকারে বেআইনীভাবে বাধাগ্রস্থ করে যাচ্ছে।
বিগত ০৬/০২/২০২১ইং তারিখে আমাদের মালিকীয় ভূমিতে সাইনবোর্ড লাগানোর পর সোনাগাজী রেঞ্জ ও কথিত চর আবদুল্লাহ বিটের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ আমাদের সাইনবোর্ড ফেলে দেয়। বন বিভাগের একের পর এক বেআইনী পদক্ষেপের ফলে প্রকৃত ভূমি মালিকরা অসহায় হয়ে পড়েছে।

ভূক্তভোগীরা এ সময় বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ অনৈতিক সুবিধা হাসিলের অসৎ উদ্দেশ্যে দক্ষিণ চর খন্দকার মৌজার ভূমি নিয়ে বাড়াবাড়ি করছেন বলে দাবী করেন। তারা জানান, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা যোগসাজেশ করে দাগ খতিয়ান বিহীন ১০০ একর ভূমি বিগত ৩০/০৪/২০১৫ইং তারিখের বাংলাদেশ গেজেটে অন্তর্ভূক্ত করে রাখেন। মূলত দক্ষিণ চরখন্দকার মৌজায় বন বিভাগের বৈধ মালিকানাধীন কোন ভূমির অস্তিত্ব নাই বলেও দাবী করেন ক্ষতিগ্রস্থরা।
এমতাবস্থায় ভূক্তভোগীদের সম্পত্তি মাপঝোপ করে সীমানা চিহ্নিত করে দেয়ার জন্য বন বিভাগের নিকট আবেদন করলেও ওই দপ্তর কৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ দেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ভূমি মালিক কামরুল হোসেন টিপু, মো: মহসিন, আবুল কালাম আজাদ চৌধুরী ও মুকিব প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত দিন

Android App
Android App
Android App
© Natun Feni. All rights reserved. Design by: GS Tech Ltd.