ফেনী |
২০ জানুয়ারি, ২০২০ ইং | ৬ মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

| জাতীয়

প্রবাসীরাও স্যালুটের যোগ্য দাবিদার

natun feninatun feni
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৪:১১ অপরাহ্ণ, ২৬ জানুয়ারি ২০১৯

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চাকাকে পুরোদমে সক্রিয় করে রেখেছে আমাদের দেশের সোনালী সম্পদ প্রবাসীরা। প্রবাসীতো তারাই যারা নিজেদের পরিবার-পরিজন রেখে দুমুঠো অন্ন যোগানোর জন্য কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেদের আত্মনিয়োগ করে।

বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি বাড়ীর কয়েকজন সদস্য বিদেশে শ্রম বিনিয়োগ করে তাদের পরিবারের ভরণ-পোষণের ব্যয় ভার বহন করছে। এবং যাদের পরিবারের সদস্যরা প্রবাসে অবস্থান করছে তাদের পারিবারিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানও অন্যদের ছেয়ে মোটামুটি ভালো।

রেমিটেন্সে আমাদের মোট অভ্যন্তরীণ আয় বা জিডিপির ৩০ ভাগ। জাতীয় অর্থনীতির তাই অন্যতম চালিকাশক্তি এই রেমিটেন্স। মূলত বাংলাদেশের অর্থনীতি এ দেশের সূচনালগ্ন হতেই ছিল প্রধানত কৃষিভিত্তিক। বিগত কয়েক দশকে এ অর্থনীতি ব্যবসায় এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে পাল্টে ফেলেছে এদেশের শ্রমিক ভাই- বোনদের বিদেশ থেকে পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।

সবাই হয়ত সফল নন তবুও হতাশ নন কেউই। এরই ধারাবাহিকতা বিবেচনায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যে নতুন ধারার সূচনা হয়েছে তাকে অর্থনীতির ভাষায় ‘অদৃশ্য হাত’ মতবাদ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
সমপ্রতি জাতিসংঘ উন্নয়ন ও বাণিজ্য বিষয়ক সংস্থা (ইউএনসিটিএডি) কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয় যে হারে বাড়ছে তা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে এদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

আর এ জন্য প্রতিবেদনটিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পাশাপাশি কৃষি, রফতানি আয় এবং রেমিটেন্স প্রবাহের বর্তমান ধারা ধরে রাখার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। জনসংখ্যা রফতানি আমাদের অর্থনীতিতে অসামান্য ভূমিকা পালন করে। জনসংখ্যা সমস্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তরিত করার ক্ষেত্রেও জনসংখ্যা রফতানির অভাবনীয় অবদান রয়েছে।

বিশ্বমন্দা এবং স্থানীয় নানা সমস্যা সত্ত্বেও অর্থনীতির যে সেক্টর নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি তা হচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স। মূলত প্রবাসীদের কষ্টার্জিত রেমিটেন্স প্রবাহে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হওয়ার কারণেই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশ্ব মন্দার প্রভাব তেমন একটা অনুভূত হয়নি। এ সাফল্যের মূল কৃতিত্বের দাবিদার প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

আগামীতে বিশেষ করে মন্দা কাটিয়ে ওঠার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে লাখ লাখ শ্রমিকের দরকার হবে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই ২৬ মিলিয়ন দক্ষ শ্রমশক্তির প্রয়োজন হবে। পশ্চিম ইউরোপে ৪৬ মিলিয়ন দক্ষ জনশক্তির আবশ্যকতা দেখা দেবে। বর্তমান বিশ্বে মাত্র ১০ থেকে ২০ শতাংশ গ্রাজুয়েট আন্তর্জাতিকমানের চাকরি করার যোগ্যতা রাখে। ফলে আগামীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষিত জনশক্তির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেবে। সেই চাহিদা পূরণে এখনই আমাদের উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই জনসংখ্যা রফতানি নিশ্চিত বিনিয়োগ হিসাবে বিবেচিত। শুধু নিশ্চিত বিনিয়োগ নয়, নিরাপদ বিনিয়োগ হিসাবেও জনসংখ্যা রফতানিকে বিবেচনা করা যায়। রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়ানোর ক্ষেত্রে জনসংখ্যা রফতানির যেমন প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে, তেমনি বিদেশে কর্মরত জনশক্তির পারিশ্রমিক যাতে কাজ ও দক্ষতা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়, সেজন্যেও সরকারকে উদ্যোগী ভূমিকা রাখতে হবে।

বিশ্ব শ্রমবাজারে আজ আমাদের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত, চীন, নেপাল, ফিলিপাইন এবং শ্রীলংকা। তুলনামূলক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে সামপ্রতিক সময়ে এসব দেশের শ্রমিকরা আমাদের দেশের তুলনায় বেশি দক্ষ, কর্মঠ এবং কাজে নিষ্ঠাবান। আর এ কারণেই জনশক্তি আমদানিকারক দেশগুলো বাংলাদেশের পরিবর্তে উল্লেখিত দেশগুলোর দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ছে। এ জন্যেই শ্রমবাজারে আমাদের পাল্লা দিতে হলে অবশ্যই দক্ষ শ্রমিক তৈরি ও নিয়োগে সবচেয়ে বেশি মনোযোগী হতে হবে।

জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রার সঙ্গে সুষ্ঠু সমন্বয় সাধন করে সরকারের শক্তিশালী ভূমিকাই জনশক্তি রফতানিখাতকে আরো গতিশীল করতে পারে। জনসংখ্যা রফতানি কিভাবে বাড়ানো যায়, বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে নতুন করে ভাবতে হবে এবং যুগোপযোগী পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
বর্তমানে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগুচ্ছে বাংলাদেশ। এটা এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা। আর এই সমৃদ্ধির অর্থনীতি গড়তে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করছে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লাখো প্রাবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিটেন্স।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী সারা বিশ্বের ১৬২ দেশে আামদের প্রবাসী বাংলাদেশিরা রয়েছে। যাদের সংখ্যা ৮৯ লাখেরও বেশি। তবে বেসরকারি হিসাবে এই সংখ্যা এক কোটি বিশ লাখের কিছু বেশি। প্রতি বছর লাখেরও বেশি বাংলাদেশী নিজেদের আর্থিক সচ্ছলতা আনতে পরিবার-পরিজন ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে।

সেখানকার ভিন্ন পরিবেশে কষ্টকর জীবন-যাপনের মাধ্যমে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছে। শুধু এই নয়, বিদেশে নির্মাণ শিল্প থেকে শুরু করে কৃষি জমিসহ বিভিন্ন স’ানে দিন-রাত পরিশ্রম করে হাজার কোটি টাকা রেমিট্যান্স পাঠাছে তারা। আর এই রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা গতিশীল রাখতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করছে। প্রবাসে কর্মরত নাগরিকদের স্বদেশে প্রেরিত অর্থকে রেমিটেন্স বলে। তাদের অর্জিত অর্থের একটা অংশ তারা ব্যাংকের মাধ্যমে পরিবারের কাছে পাঠায়। এই অর্থ কেবল তাদের পরিবারের প্রয়োজনই মেটায় না, তাদের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি করে এবং নানা ক্ষেত্রে বিনিয়োগ হয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

স্বাধীনতার পরপরেই বাংলাদেশের মানুষ জীবিকা নির্বাহের তাগিদে প্রবাসে আসতে শুরু করেছিল, বিশেষ করে ১৯৭৬ এর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। কারণ সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশের পক্ষে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান করা সম্ভব ছিল না। ৮০’র দশকের শেষ ভাগে এসে এর পালে গতি পেল অর্থাৎ বিপুল পরিমাণে মানুষ বিদেশ যেতে আরম্ভ করলো। বিগত চল্লিশ বছরে যা এখন প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষের ঘরে পৌছেছে এবং প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আমরা প্রবাসীরা এখন বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠাই এবং তা দেশের মোট আয়ের প্রায় ১০ ভাগেরও বেশী! রেডিমেড গার্মেন্টসের পরে অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান সবচেয়ে বেশী অর্থাৎ দ্বিতীয় স্থান যা দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে রাখতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। প্রবাসীদের কারণে এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ রেকর্ড পরিমাপে আছে এবং যার পরিমাপ প্রায় ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

গ্রামীণ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবাসীদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশী। দেশ গঠনে বলিষ্ঠ ভূমিকা প্রদানকারী এসব প্রবাসীরা বরাবরই উপেক্ষিত হয়েছে। কারণ প্রবাসীদের সিংহভাগই নিজেদের উদ্যাগে বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছে। যদিও সরকারি বেসরকারি কিছু প্রচেষ্টা ছিল কিন্তু তা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য। তাই সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে নিজ উদ্যাগে পাড়ি দিয়েছেন বিশ্বের নানান প্রান্তে। আর পরিবার পরিজনের মায়া ত্যাগ করে মাথার ঘাম পায়ে পেলে তৈরি করে যাচ্ছে নিজের ও দেশের বর্ণিল সোনালী ভবিষ্যৎ। কিন্তু এসব মানুষের অনেকের খুব তিক্ত অভিজ্ঞতা সম্মুখীন হতে হয় বিদেশ পাড়ি দেওয়ার সময়। দেশী বিদেশী দালাল ও প্রতারকের কারণে অনেকে তাদের সহায় সম্বল হারিয়ে পথে বসে। তারপরেও তারা ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখে এবং সংগ্রাম চালিয়ে যায় সোনালী আগামীর আশায়। আর এভাবে দাঁড়িয়ে যায় একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি। কিন্তু যেসকল মানুষ এত কষ্ট করে দেশকে সামনে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছে তাদের প্রতি সরকার এখনো তেমন যতœবান বলে মনে হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত রাষ্ট্র তেমন কোন বিশেষায়িত ব্যবস্থা নেয়নি প্রবাসীদের কল্যাণে যার মাধ্যমে তাদের পরিবারের সুরক্ষা করা যায়।

রাষ্ট্র সকল মানুষের কাজের নিশ্চয়তা দিতে পারলে কোন মানুষ প্রবাস নামক কারাগার বরণ করতো না। অনেকক্ষেত্রে আমরা দেখি প্রবাসে কারো মৃত্যু হলে তার লাশ পর্যন্ত দেশে ফেরত পাঠাতে অনেক জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়, বিশেষ করে অর্থনৈতিক সমস্যা। দশজনের কাছ থেকে চাঁদা তুলে লাশের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হয়। একজন প্রবাসী হিসেবে যা অত্যন্ত লজ্জাকর, বেদনাদায়ক ও অনাকাংখীত। কারণ এ মানুষগুলো এত সংগ্রাম করলো নিজের ও দেশের জন্য অথচ রাষ্ট্র তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থাটুকু করতে পারলো না নিজ খরচে? অথবা যেসকল মানুষ বিদেশ আসতে প্রতারণার শিকার হচ্ছে তাদের সহযোগিতার জন্য অত্যন্ত একটি ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার পর্যন্ত খুলা গেল না?

টিভি রিপোর্টে দেখা যায় ফিলিপাইন আমাদের অর্ধেক জনবল বিদেশ পাঠিয়ে আমাদের দুইগুনের বেশী প্রবাসী আয় ঘরে তুলছে। কারণ তারা গুরুত্ব দেয় দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর উপর আর আমরা এখনো আছি আগের মতই কানামাছি ভৌঁ ভৌঁ যারে পারে তারে ছোঁ। দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য যদিও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু সরকারি উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে কিন্তু তা এখনো প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই কম তাই আরো বেশী সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলে প্রবাসীরা দেশের উন্নয়নে আরো বেশী ভূমিকা রাখতে পারবে। এবং তা দক্ষ শ্রমিক গঠনে ও প্রবাসী আয় বৃদ্ধিতে ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রবাসীদের ঘর বাড়ি নির্মাণে সরকারি ও বেসরকারি সহজ শর্তে তেমন কোন ব্যাংকের সহযোগিতা এখনো পাওয়া যায় না। যারা দেশের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে নিরলসভাবে অথচ তাদের পরিবারের কল্যাণে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋনের ব্যবস্থা পর্যন্ত নেই বললেই চলে।

এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে প্রবাসীদের নিয়ে নানান অরুচিকর ও অসম্মানজনক কথা বার্তা বলতে শোনা যায়। শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানী নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সর্বোপরি প্রবাসীদের দেশে বিদেশে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবিক ও যোগপুযোগী উদ্যোগ নিতে পারলে দেশের অগ্রগতিতে প্রবাসীরা আরো ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারবে। যথাযথ কর্তৃপক্ষ প্রবাসীদের কল্যাণে বিষয়সমূহ গুরুত্বসহকারে ভেবে দেখবে এমন প্রত্যাশা সকল প্রবাসীর।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিকভাবেই বিরাট বাণিজ্য বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের কল্যাণে এই মজুদ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে এই মজুদের মূল্যমান বেড়ে দাড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার কোটি বা ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বিশ্বের ৪০তম বৃহত্তম মজুদ।

বর্তমান সরকার প্রধান প্রবাসীদের মরণত্তোর ভাতা সহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যাতে স্পস্টভাবে বলা হয়েছে প্রবাসে অবস্থানরত কোনো ব্যক্তি দূর্ঘটনায় মারা গেলে তাদের পরিবারকে সন্তোষজনক পরিমাণ অর্থ সরকারের তহবিল থেকে প্রদান করা হবে। এবং তাদের লাশ সহজে দেশে আনার ব্যবস্থা করা হবে।

যারা দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখার জন্য এতো কঠোর প্ররিশ্রম করে যাচ্ছে তাদেরকেও আমাদের সম্মান করা উচিত। বাংলাদেশ প্রায় ১ কোটিরও অধিক প্রবাসে শ্রম বিনিয়োগ করার কারনে আমাদের দেশের অন্যরা সুযোগ সুবিধা ভালোই গ্রহণ করছেন। এখনও সাধারণ একটা সরকারি-বেসরকারী চাকুরী জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়ার পর আবেদন করে হাজার হাজার লোক যদিও লোক নেয়া হয় হয়তো হাজার খানেক বা তার চেয়েও কম। এমন প্রতিযোগিতায় প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশীরা দেশে থাকলে অংশ নিতে তখন কি হতো আমাদের?? প্রবাসে যাহা অবস্থান করে তারাতো সবাই অশিক্ষিত নয় যে দেশে চাকুরী জন্য আবেদন করতে পারবে না?

কেন প্রবাসীদের এমন চোখে দেখা হয়? তারাতো সম্মানের যোগ্য দাবিদার। প্রবাসীদের যেসব সন্তান স্কুল/মাদ্রসা, কলেজে পড়ে তাদের মাসিক বেতনের চিন্তাও করতে হয়না কোনো শিক্ষককে। কারণ মাস শেষে টাকা পাঠানোর পর সাথে সাথেই এসব টাকা পরিশোধ করে তারপর নিজেদের খাওয়া চিন্তা করে।

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া দেশের এক উপজেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মেয়েদের বিদেশীদের কাছে বিয়ে বসতে নিষেধ করেন। তিনি তার বক্তব্যে আরো বলেন, প্রবাসীরা বিয়ে করে দিনের পর দিনের শুশুর শাশুড়ীর কাছে শুধুমাত্র কাজের জন্য ফেলে রাখে। যদিও পরবর্তীতে তিনি তার এমন বক্তব্যের বিষয়ে অস্বীকৃতি জানান। যাহোক তিনি হয়তো ছাত্রীদের ভালোর উদ্দেশ্য বলতে গিয়ে এমন বলেছেন। তিনি প্রবাসীদের ছোট করতে চাননি। তারপরও প্রবাসীরা দেশের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির এমন বক্তব্য আশা করেননি বলে ফেসবুক সহ বিভিন্নভাবে এর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

আমি যতটুকু দেখেছি চারপােেশর অনেকেই প্রবাসে অবস্থান করে বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমেও অংশীদার স্থাপন করতে কুণ্ঠবোধ করেনা। তারাও যে বাংলাদেশের নাগরিক এটাও অনেকে মানতে নারাজ। কিন্তু দেখা যায় অনেকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতেই দেশে আগমন করে থাকেন৷ আমার বাড়ীর খোদ বিশের অধিক প্রবাসে অবস্থান করছে। ফাউন্ডেশন যেমন শক্ত করতে হলো সর্বস্তরের শাখা সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে হয়, ঠিক তেমনি একটি দেশকে উন্নতশীল ও সমৃদ্ধিশালী করতে হলে সকল কর্ম/পেশাকে সম্মান করতে হবে। কেননা এটি একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। প্রবাসীদের জানাই স্যালুট। আগামীর সুন্দর দিন অপেক্ষা করছে প্রবাসীদের।
লেখক: সংবাদকর্মী।

আপনার মতামত দিন

Android App
Android App
Android App
© Natun Feni. All rights reserved. Design by: UTSHA IT