ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘো্পাল ইউনিয়নের মুহুরীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।আজ শুক্রবার (২২ জুলাই) বিকেলে একটি বিক্ষোভ মিছিল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে স্কুল প্রাঙ্গনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। এতে এলাকাবাসী, স্কুলের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রায় ২ হাজারের অধিক লোক ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করে।
মানববন্ধনের বক্তারা বলেন, কয়েক প্রজন্ম ধরে এই এলাকার ছেলে-মেয়েরা এখানে পড়োলেখা করেছে। এটা আমাদের আবেগের জায়গা। একটি কুচক্রি মহল এসআলম গ্রুপের সাথে যোগ হয়ে এই স্কুল সরানোর চেস্টা করছে। এখান থেকে অন্যত্র স্কুল সরিয়ে নিলে এতে আমাদের এলাকার ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা গ্রহনে অসুবিধা সৃষ্টি হবে। এলাকার সকল শ্রেণির মানুষের মতামত উপেক্ষা করে এস আলম গ্রুপ স্কুলটি সরিয়ে নিতে চায়। প্রয়োজনে প্রাণ যাবে, তবুও আমরা কোনোভাবেই এ স্কুল সরাতে দিব না।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, এই স্কুলের সাথে আমাদের আবেগ, উচ্ছ্বাস, স্মৃতির জড়িত। আমাদের আবেগে কাউকে আঘাত করতে দেবো না।এই স্কুল স্থানান্তর হলেও আবার একই অবকাঠমো গড়ে উঠবে কিনা সেই ব্যাপারে সন্দেহ আছে। আমি স্থানীয় সংসদ সদস্য শিরিন আখতার, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী এবং ফেনী জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এটি আমাদের অন্তরের দাবি এই স্কুল এখানেই থাকবে। আর যদি স্কুল সরিয়ে দেয়া হয় তাহলে আমরা দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে প্রতিবাদ জানাবো, স্মারকলিপি দিবো।
স্থানীয় বাসিন্দা ও স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী মুজিবুল কাইয়ুম আরমান বলেন, আমি এ স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী। শত শত শিক্ষক শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর বাধা উপেক্ষা করে এখানে স্টীল ফ্যাক্টরী করা গণবিরোধী কাজ। আমরা আমাদের প্রাণের স্কুল কিছুতেই স্থানান্তর হতে দিবো না।
জানা যায়, ১৯৬৭ সালে এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী ছাগলনাইয়া মুহুরীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় অন্যত্র স্থানান্তর করে সেখানে স্টিল মিল তৈরি করতে চায় এস আলম শিল্প গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইউনিটেক্স। এ লক্ষ্যে তারা স্কুলের আশেপাশের জায়গাগুলো কৌশলে কিনে নেয় এবং সেখানে কাজ শুরু করেছে। এখন স্কুলের দেড় একর জায়গা দখলের জন্য তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে। সেখান থেকে স্কুলটি সরিয়ে ১ কি. মি. দূরে স্থানান্তর করে দিবে বলছে এসআলম গ্রুপ। তবে তাদের এই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ এলাকাবসী।
সমাবেশে স্থানীয় সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনসমূহের মধ্যে চৌধুরী পাড়া সততা সংঘ, ছয় ঘরিয়া সমাজ কল্যাণ সংঘ, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও নোয়াপাড়া সমাজ কল্যাণ সংঘ অংশগ্রহণ করে।







