অনিশ্চয়তায় জিমুনের শিক্ষা জীবন • নতুন ফেনীনতুন ফেনী অনিশ্চয়তায় জিমুনের শিক্ষা জীবন • নতুন ফেনী
 ফেনী |
২৪ জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৯ শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অনিশ্চয়তায় জিমুনের শিক্ষা জীবন

রাশেদুল হাসানরাশেদুল হাসান
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৩:৩৫ অপরাহ্ণ, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৪

নতুন ফেনী রিপোর্ট>>
ফেনীতে আলোচিত মা-ছেলে উদ্ধারের পর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে ছেলে মেহেদী ইসলাম জীমুনের শিক্ষা জীবন। ৩০ নভেম্বর আদালতে জিমুনের বাবা আবুল কালাম আজাদ ছেলের দায়িত্ব নেয়ার আবেদন করে। কিন্তু জিমুন তাকে চেনে না ও তার সাথে যাবেনা বলে দেন। এদিকে জিমুনের শিক্ষাজীবন নিয়ে দু:চিন্তায় আছেন প্রশাসনের কর্তাব্যাক্তি ও মানবাধিকার কর্মীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরের রামপুর এলাকার শাহিন একাডেমী সড়কের রুহুল আমীন ভূইয়ার মেয়ে জাহানারা বেগম রোজী। ফেনী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ফেনী সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাষ্টার্স শেষ হওয়ার পর ২০০০ সালে জাহান আরা বেগম রোজী ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের মঠবাড়িয়া গ্রামের ভূঞা বাড়ীর মৃত টুনু ভূইয়ার ছেলে আবুল কালাম আজাদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০০৩ সালে আজাদ-রোজীর সংসার আলো করে জন্ম নেয় শিশু সন্তান জিমুন। তার জন্মের পর আজাদ-রোজীর সংসার ভেঙ্গে যায়। পারিবারিক ভাবে ছেলের ভরণ-পোষণ ও সুষ্ঠুভাবে শিক্ষাজীবন পরিচালনার জন্য আবুল কালাম আজাদ ছেলে নিতে চাইলে বাধ সাধে রোজী। পরবর্তীতে ছেলেকে শহরের একটি স্কুলে নার্সারীতে ভর্তি করায় রোজী। এরপর স্বামী সংসারহারা মানসিকভাবে ভেঙ্গেপড়া রোজী ভাই শেরশাহের পরামর্শে ফেনী চলে আসে। এরপর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে সে। কয়েক বছর যাবত চিকিৎসার জন্য এখানে-সেখানে ছুটে নিরাশ হয়ে ঘরের মধ্যে রাখার চেষ্টা করে তাকে। জিমুনকে স্কুলে ভর্তি করালেও ছেলের জন্য মায়ের একরোখা টানে স্কুলে যেতে পারে না। এক সময় মায়ের সাথেই বন্ধি জীবন কাটাতে হয় জিমুনের। এদিকে বন্ধিজীবনের ৫ বছর পর স্থানীয় একটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শরিফুল ইসলাম তানভীর, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, ফেনী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: অসিম কুমার সাহা, ফেনী ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো: জাহাঙ্গীর আলমের পৃথক ৪ টি টিম ২ ঘন্টা শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে মা-ছেলেকে উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর থেকে ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে ৫ সদস্যের মেডিকেল টিম তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষনে চিকিৎসা দেয়।
ফেনী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অসিম কুমার সাহা বলেন, উদ্ধার হওয়া মা-ছেলে পুলিশের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে। মা রোজী সিজোফ্রেনিয়া ও ছেলে রিকেটস্ রোগে আক্রান্ত। সিজোফ্রেনিয়া একটি মানসিক রোগ। অন্যদিকে ভিটামিন ডি এর অভাবে রিকেটস্ রোগ হয়। এটি উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে ভালো হতে পারে।
বুধবার উন্নত চিকিৎসার জন্য আলোচিত মা-ছেলে জাহানারা বেগম রোজী ও মেহেদী ইসলাম জীমুনের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকের কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে মা-ছেলের দায়িত্ব নেবে কে এমন প্রশ্ন সর্বত্র মুনষের মুখে। ১০ বছর আগে ছেড়ে আসা আবুল কালাম আজাদ, মামা শেরশাহ নাকি মানবাধিকার সংগঠন। ফেনী মড়েল থানায় এনিয়ে বৈঠক করা হলেও অমিমাংশিত থেকে যাওয়ায় আদালতের দিকে তাকিয়ে আছে সবাই। মা-ছেলে উদ্ধারের পরদিন বৃহস্পতিবার ভাই শেরশাহকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হিউম্যান রাইটস এর ফেনী জেলা সভাপতি এডভোকেট সৈয়দ আবুল হোসেন। কিন্তু কের্টে থেকেও মামলার শুনানির সময় অজ্ঞাত কারণে আদালতে হাজির হননি তিনি। পরে আদালত তাদের সরকারী খরচে চিকিৎসা প্রদানের নির্দেশ দেন।
উদ্ধার অভিযানে পুলিশের সঙ্গে থাকা সাইফুদ্দিন রাশেদ জানান, জিমুন অত্যন্ত মেধাবী। ওই বাসার ভাড়াটিয়াদের সাথে কথা বলে যানা যায় বন্ধি জীবন কাাটলেও জিমুনের সমসাময়িক জ্ঞান অসাধারণ। সে নিয়মিত পত্রিকা ও বিভিন্ন সাময়িকী পড়ত। তিনি বলেন, দেয়ালে সে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত একটি দৃষ্টিনন্দন ক্যালেন্ডার এঁকেছে যা সবারই দৃষ্টিতে পড়েছে। উদ্ধারের পর তার বুদ্ধিদ্বিপ্ত কথায় সেদিন প্রশাসনের লোকজন ও উপস্থিত সাংবাদিকরা অবাক হয়েছেন বলে তিনি জানান।
পুলিশ সুপার রেজাউল হক পিপিএম জানান, আমরা আশা করছি আদালতের মাধ্যমে আলোচিত মা-ছেলের ভবিষ্যত নিয়ে একটি সঠিক নির্দেশনা পাব। তারা সুস্থ্য ও আদালতের রায় পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।
সম্পাদনা: আরএইচ/এনকে/এমইউপি

আপনার মতামত দিন

Android App
Android App
Android App
© Natun Feni. All rights reserved. Design by: GS Tech Ltd.