ফেনী ফতেহপুর ওভারপাসের সুফল পাচ্ছে জনগন • নতুন ফেনীনতুন ফেনী ফেনী ফতেহপুর ওভারপাসের সুফল পাচ্ছে জনগন • নতুন ফেনী
 ফেনী |
১৮ জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ফেনী ফতেহপুর ওভারপাসের সুফল পাচ্ছে জনগন

হোসাইন আরমান, নিজস্ব প্রতিনিধিহোসাইন আরমান, নিজস্ব প্রতিনিধি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৬:১১ অপরাহ্ণ, ১২ জানুয়ারি ২০২১

ফেনীর ফতেহপুরে রেলওয়ে ওভারপাসের উপকার পাচ্ছেন পুরো দেশবাসী। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর ফতেহপুর এলাকাসহ কয়েক কিলোমিটার জুড়ে দীর্ঘদিন ধরে যানজট লেগেই থাকতো এবং অনেক সময় ট্রেনের সাথে সংঘর্ষ দুর্ঘটনার ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটতো।

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফতেহপুর রেল ক্রসিংয়ে যানজট ছিল নিত্য নৈমত্তিক ঘটনা। এ যানজটের কারণে যানবাহন ও পণ্যবাহী গাড়িগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হতো। ফেনী থেকে তিন ঘন্টার পথ অতিক্রম করতে কখনো কখনো ৬-১২ ঘন্টাও লেগে যেতো। এতে মানুষের সময় নষ্টসহ পণ্যবাহী যানবাহনের কাঁচামালের ব্যাপক ক্ষতি হতো। রেল লাইনের উপর দিয়ে গাড়ি যাওয়ার সময় ঝাঁকুনির ফলে গাড়ির ইঞ্জিন ও অনান্য যন্ত্রাংশের ক্ষতি হতো। দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকার কারনে যাত্রীদের ভ্রমনে একঘেয়েমী তৈরী হতো অনেকেই আবার গাড়িতে অসুস্থ্য হয়ে যেতো।

এসব সমস্যা নিরসনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর ফতেহপুর রেলক্রসিংয়ে ওভারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। ২০১২ সালে ওভারপাস নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ১৪ আগষ্ট গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ওভারপাসের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানার, এ ওভারপাস নির্মাণের ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়িগুলো দ্রুত গন্তব্যে চলে যাচ্ছেন। বর্তমানে নেই কোনো যানজট। এতে সময় যেমন সাশ্রয় হয়েছে, তেমনি মানুষের ভোগান্তি ও অনেক কমে গেছে। এবং এই স্থানে রেলের সাথে সংঘর্ষ আগে অনেক দুর্ঘটনা ঘটতো এখন সেটি প্রায় শূণ্যর কোঠায়।

একাধিক যাত্রী ও চালকের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফতেহপুর ওভারপাসের কারণে দীর্ঘ প্রায় ৩ থেকে ৪ বছর তীব্র যানজটের শিকার হয়েছে যাত্রীরা। এটি চালুর মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষ ভোগান্তী থেকে রক্ষা পাচ্ছে।

২০১৭ সালের ১৫ মে ও ২০ মে ফতেহপুর ওভারপাসের রাজধানী ঢাকামুখি দুটি লেন খুলে দেয় নির্মাণ কাজে দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার-ইন চিফ মেজর জেনারেল সিদ্দিকুর রহমান সরকার, নির্মাণ প্রতিষ্ঠান আল আমিন কনস্ট্রাকশনের চেয়ারম্যান কবির আহমদ প্রমূখ উপস্থিত থেকে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেন।

দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের ফেনী অংশের ফতেহপুরে রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ কাজ চলায় সড়কটিতে যানজটের সৃষ্টি হতো। এতে মহাভোগান্তিতে পড়েছেন গাড়ির চালক সহ যাতায়াতাকারীরা। নির্মাণ কাজের দীর্ঘসূত্রতায় মহাসড়কের এই অংশে নিত্য যানজট ছিল প্রতিদিনের ঘটনা। মহাসড়কটির ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফোর লেন এই এলাকায় এসে আধাকিলোমিটার সিঙ্গেল লেনে পরিণত হওয়ায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফতেহপুরে রেলওয়ে ওভারপাসটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের সহায়তায় আল আমিন কনস্ট্রাকশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করেছে।

তয়ন নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, এ স্থানটিতে এক সময় যানজট লেগেই থাকতো। মানুষের ভোগান্তির শেষ ছিল না। এ ওভারপাসটির কারণে মানুষ সে ভোগান্তি থেকে রেহাই পেয়েছে। সেতুটির জন্য ফেনীবাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট চির কৃতজ্ঞ থাকবে।

ঘুরতে আসা পর্যটক আবসার জানায়, ওভারপাসে দাড়িয়ে রেল লাইন দেখতে অনেক সুন্দর লাগে। এটি যেমন সুন্দর তেমনি আমাদের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

স্টারলাইন পরিবহনের পরিচালক মোঃ মাঈন উদ্দিন জানান, ওভার পাস হওয়ার আগে এই স্থানে লম্বা সময় বাস আটকে থাকার ফলে তাদের অনেক সময় নষ্ট হতো। মাঝে মাঝে বাসের সিডিউল বিপর্যয় ঘটতো। রেল লাইনের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় ঝাঁকুনির ফলে গাড়ির ক্ষতি হতো এই ক্ষতি সারানোর জন্য অতিরিক্ত অর্থ খরচ হতো। এখন ওভারপাস হওয়ার ফলে এসব সমস্যার সমাধান হয়েছে । যাত্রীরা এখন আনন্দের সাথে ভ্রমন করেন এবং আমাদের গাড়ি মেরামতে যে অতিরিক্ত অর্থ ব্যায় হতো সেটিও কমে এসেছে।

ফেনী মহিপাল হাইওয়ে থানার ভারপাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের এখানে প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকতো। দুর্ঘটনা হতো, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হতো। কিন্তু ওভার পাস হওয়ার পরে এখন তা আর হচ্ছে না। আমাদের এখানে দুর্ঘটনার হার কমে গেছে। মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে তার গন্তব্য পৌঁছাচ্ছে।

ফেনী জেলা প্রশাসক মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন , ‘এ ওভারপাসটি পুরো দেশবাসীর জন্য আশীর্বাদ। এর উপকার পাচ্ছে সারা দেশবাসী। ওভারপাসটির হওয়ার কারনে এ অঞ্চলে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে যানজট নিরসন হয়েছে। এবং এতে করে যাত্রীদের সময় নষ্ট হচ্ছেনা। পণ্যবাহী গাড়িগুলো দ্রুত সময়ের মধ্য গন্তব্য পৌছাতে পারছে । সর্বপরি আমাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে এটি ভূমিকা পালন করছে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে প্রকল্পটি নির্মাণ কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স শিপো পিবিএল’। নির্ধারিত মেয়াদে কাজ শেষ না করে কাজ ফেলে চলে যায় প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০১৭ সালে কাজটি দেয়া হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশনকে। সেনাবাহিনী আল আমিন কনস্ট্রাকশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করছে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে প্রকল্পটি নির্মাণ কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স শিপো পিবিএল’। নির্ধারিত মেয়াদে কাজ শেষ না করে কাজ ফেলে চলে যায় প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০১৭ সালে কাজটি দেয়া হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশনকে। ওভারপাসটির দৈর্ঘ্য ৮৬ দশমিক ৭৯ মিটার, অ্যাপ্রোচ রোড়ের দৈর্ঘ্য ৭৫৫ মিটার, এর মধ্যে ঢাকার দিকে ৩৪৭ মিটার, চট্টগ্রামের দিকে ৪০৮ মিটার, সর্বমোট গার্ডার ৩০টি, পিলার ৮টি, পাইল ৪৯০টি। প্রকল্প ব্যয় ১০৫ কোটি ৭ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।
সম্পাদনা:আরএইচ/এইচআর

আপনার মতামত দিন

Android App
Android App
Android App
© Natun Feni. All rights reserved. Design by: GS Tech Ltd.