সার্ভিসচার্জ ছাড়াই ঘরে ঔষধ পৌছে দিচ্ছে ‘হ্যালো ফেনী' • নতুন ফেনীনতুন ফেনী সার্ভিসচার্জ ছাড়াই ঘরে ঔষধ পৌছে দিচ্ছে ‘হ্যালো ফেনী' • নতুন ফেনী
 ফেনী |
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৪ আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সার্ভিসচার্জ ছাড়াই ঘরে ঔষধ পৌছে দিচ্ছে ‘হ্যালো ফেনী’

নুর উল্ল্যাহ কায়সারনুর উল্ল্যাহ কায়সার
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:৫৬ অপরাহ্ণ, ১৬ মে ২০২০

চলমান অচলাবস্থায় কোন রকমের সার্ভিস চার্জ ছাড়াই ঘরে প্রয়োজনীয় ঔষধ পৌছে দিচ্ছে ‘হ্যালো ফেনী’ নামের একটি সংগঠন। ২৬ মার্চ করোনা পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর ফেনীর ক্রীড়া সংগঠক শরীফুল ইসলাম অপু এ সেবা চালু করেন। তার মতে মানুষ খাবার পাবার পর ঔষধের জন্যই ঘর থেকে বের হোন। আর এতেই সর্বনাশা করোনার সংক্রমণে পড়তে পারেন। সরকার ও স্বেচ্ছাসেবীরা মানুষের ঘরে ঘরে খাবার পৌছে দিতে কাজ করছে। আমরা ঔষুধ পৌছে দিতে চেষ্টা করে যাচ্ছি। ফেসবুক পেইজে মেসেজ অথবা মোবাইলে কল করলেই ঘরে পৌছে যাচ্ছে প্রয়োজনীয় ঔষধ।

অপু জানান, দীর্ঘ দিন থেকে ফেনীবাসীর জন্য কিছু নিত্য প্রয়োজনীয় সার্ভিস সহজ করতে ওয়ান স্টপ সলিউশন ধরনের একটি প্রতিষ্ঠান করার ভাবনা ছিলো। এ জন্য সংযুক্ত করেছি সমমনা আরো কয়েকজন নিবেদিত স্বেচ্ছাসেবীকে। চলতি বছরের জুনে এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করার কথা ভাবছিলাম। কিন্তুু দেশজুড়ে কভিড-১৯ এর পাদুর্ভাবে সর্ব শ্রেনীর মানুষকে ঘরে থাকার নির্দেশনা আসে। ভাবলাম এ অচলাবস্থাতো আমাদের রক্ষার জন্য। তারপরও মানুষের কিছু প্রয়োজনীয়তা অনিবার্য। খাবার পাওয়ার পর মানুষ ঘর থেকে বের হবে শুধু ঔষধের জন্য। আর এতেই হতে পারে সর্বনাশ। তাই ৩১ মার্চ থেকেই আমরা হ্যালো ফেনী নাম দিয়ে শুধুমাত্র ঔষধ সরবরাহে সার্ভিসটি চালু করি। সকাল ১০টা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত সার্ভিসের সময়-সীমা নির্ধারণ করলেও রাষ্ট্রীয় আইন মেনে এখন সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই সেবা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এখন প্রতিদিনই ২০ থেকে ৫০টি কল আসছে আমাদের হটলাইন ও পেইজে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঔষুধ ডায়াবেটিস আর উচ্চ রক্ত চাপের। শুরুর দিকে সেবাটি শুধুমাত্র ফেনী শহর ও সদর এলাকায় সীমাবদ্ধ রাখা হলেও মানুষের প্রয়োজন, আবেগ আর মানবিকতায় এখন তা জেলার সীমা পেরিয়ে গেছে। প্রয়োজন বুঝে এখন হ্যালো ফেনীতে ঔষুধের পাশাপাশি নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যও সরবরাহ করছে ফেনীবাসীর ঘরে ঘরে। ঔষধ সরবরাহে কোন চার্জ না থাকলেও নিত্য প্রয়োজনীয় সদাইতে এখন যোগ করা হয়েছে সীমিত পরিমান সার্ভিস চার্জ।

অভিব্যাক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে অপু বলেন, বিদেশ থেকেও কল আসে ঔষধের জন্য। কিছুদিন আগে সৌদি আরব থেকে একজন কল দিয়ে বাবার ইনসুলিনটি ফুলগাজী উপজেলার একটি গ্রামে পৌছে দেয়ার জন্য অনুরোধ জানান। তার বাবা দু’বেলা ইনসুলিন না নিয়েই জীবন ঝুকি নিয়ে পড়ে আছেন। বাবার সুস্থ্যতার জন্য সন্তানের আবেগ আমরা দেখেছি। এ আবেগ দেখার সৌভাগ্য সবার হয়না। ঔষুধটা তাদের বাড়িতে পৌছে দিতে পেরে মনটা ভরে গেছে। এমন অহরহ ঘটনা হ্যালো ফেনীর এখন নিত্য ব্যাপার।

চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার বারৈয়ার হাট থেকে আমাদের হটলাইন ০১৯৪৫০০৯৫৯৬ নাম্বারে ফোন এলো। এক সন্তান তার মায়ের ঔষধটি স্থানীয় বাজারে না থাকায় কিনতে পারেন নি। মহাসড়কে পুলিশী ব্যারিকেট অতিক্রম করে রাতে ফেনীতে আসাও সম্ভব নয়। মাকে বাঁচাতে এ ঔষধটি তার এখনি প্রয়োজন। মায়ের ঔষধ বলে কথা। গুরুত্ব ও আবেগ দেখে ঝুঁকির মধ্যেও ফেনী জেলার সীমানা পেরিয়ে ওই এলাকায় ঔষধটি পৌছে দিতে হয়েছে।

সেবাগ্রহিতা গৃহবধু কামরুন নাহার বলেন, রাত ১০ টার দিকে ঘর তন্নতন্ন করে খুজেও মায়ের ডায়াবেটিসের ইনসুলিনটি পাওয়া যাচ্ছেনা। ঘরে থাকা ডিজিটাল যন্ত্রে পরিমাপ করে দেখতে পাই মায়ের ডায়াবেটিস ২২.৩। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপও। বাহিরে দোকানপাঠ ও ফার্মেসীও বন্ধ। উপায় না দেখে হ্যালো ফেনীকে কল দেই। ১১ টার মধ্যেই তাদের এক সদস্য ঘরের সামনে ইনসুলিন নিয়ে হাজির। হ্যালো ফেনীর জন্য প্রাণ খুলে দোয়া করি। এমন সার্ভিসটি ফেনীর জন্য নিয়মিত থাকুক।

হ্যালো ফেনীর উদ্যোক্তা শরীফুল ইসলাম অপু বলেন, শুরুতে ২টি মোটরসাইকেল ও ২টি বাই সাইকেল দিয়ে শুরু করি কার্যক্রম। কিন্তুু এখন দেখছি এটির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মানুষের প্রয়োজনীয়তা বুঝে আরো কিছু উদ্যোমী ব্যক্তিকে হ্যালো ফেনীতে সংযুক্ত করতে ইতোমধ্যেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মানুষের প্রয়োজন ও আমাদের সামর্থ বিবেচনা করে চাহিদা অনুযায়ী সার্ভিস সংযোজন করা হবে।
সম্পাদনা: এনকে/আরএইচ

আপনার মতামত দিন

Android App
Android App
Android App
© Natun Feni. All rights reserved. Design by: GS Tech Ltd.