‘খাদ্যাভাবে ২ কোটি মানুষ কিন্তু সংবাদমাধ্যম জুড়ে ট্রাম্প’ • নতুন ফেনীনতুন ফেনী ‘খাদ্যাভাবে ২ কোটি মানুষ কিন্তু সংবাদমাধ্যম জুড়ে ট্রাম্প’ • নতুন ফেনী
 ফেনী |
২৪ জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৯ শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

‘খাদ্যাভাবে ২ কোটি মানুষ কিন্তু সংবাদমাধ্যম জুড়ে ট্রাম্প’

রাশেদুল হাসানরাশেদুল হাসান
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:৪৭ অপরাহ্ণ, ২১ মে ২০১৭

নতুন ফেনী ডেস্ক>>
আফ্রিকার কয়েকটি দেশের অন্তত দুই কোটি মানুষ খাদ্যাভাবে দুর্ভিক্ষ ও মৃত্যুর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। অথচ সংবাদমাধ্যমগুলো শুধু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়ে ব্যস্ত। এ মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-র মহাপরিচালক ডেভিড বিসলি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেডেন্ট এ খবর জানিয়েছে।

ডব্লিউএফপির মহাপরিচালক বলেন, ‘আপনারা যদি এবিসি, সিবিএস, এনবিসি, ফক্স, সিএনএন খুলেন তাহলে ট্রাম্প ছাড়া কিছুই পাবেন না। ট্রাম্প, ট্রাম্প, ট্রাম্প, ট্রাম্প আর ট্রাম্প!’ সাউথ ক্যারোলিনার সাবেক এই গভর্নর জানান, ‘দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত ইয়েমেন, দক্ষিণ সুদান, সোমালিয়া ও নাইজেরিয়া। এগুলো ভুয়া খবর নয়। এটা বাস্তবতা।’ ডব্লিউএফপির মহাপরিচালক একজন রিপাবলিকান। তাকে নিয়োগ দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ সংস্থার সবচেয়ে বড় দাতা দেশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের সমালোচনায় সব সময় সরব। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ট্রাম্প জাতিসংঘকে ‘কিছু মানুষের একটি ক্লাব যারা একত্রিত হয়, কথাবার্তা বলে এবং ভালো কিছু সময় কাটায়’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। জাতিসংঘের মার্কিন দূত হিসেবে নিকি হ্যালিকে নিয়োগ দেওয়ার পর হোয়াইট হাউসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে আর্থিক সহযোগিতা কমিয়ে দেবে। কারণ সদস্য দেশগুলোর উন্নতি না হওয়ায় তিনি ‘হতাশ’।

রিপাবলিকানরাও ট্রাম্পের এই মনোভাবের পথেই হেঁটেছেন। জাতিসংঘে মার্কিন সহযোগিতা কমিয়ে আনার প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছেন। জাতিসংঘের মোট বাজেটের ২২ শতাংশ এবং শান্তিরক্ষার ২৮ শতাংশ আসে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক ডব্লিউএফপির কমিউনিকেশন কর্মকর্তা স্টিভ তারাবেলা জানান, ট্রাম্পের ‘আড়ম্বরপূর্ণ’ বক্তব্য উদ্বেগের। তবে এতে করে দুর্ভিক্ষবিরোধী কর্মসূচিতে কোনও প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, ‘কংগ্রেসে খাদ্য সহায়তায় সব দলের সমর্থন ছিল সব সময়।’

সম্প্রতি চলতি বছরের জন্য ৯৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খাদ্য সহযোগিতার জন্য বরাদ্দ করেছে মার্কিন কংগ্রেস। ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এই বরাদ্দ থাকবে।

তারাবেলা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় তারা ‘অনেক বেশি কৃতজ্ঞ’। তবে সমস্যা হচ্ছে বিভিন্ন সংস্থার কাছে  দ্রুত ত্রাণ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে। তিনি বলেন, ‘মানুষ এখনই মারা যাচ্ছে। এমন না যে,  আজ থেকে তিন মাস পর মারা যাবে।’ ডব্লিউএফপি ত্রাণ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তারাবেলা।

উদ্বেগের আরেকটি কারণ রয়েছে। তারাবেলা জানিয়েছেন, যদি এই সহযোগিতা নগদ অর্থ বা রেশনের খাবার আসে তাহলে কিছু সমস্যায় পড়তে হবে। তিনি জানান, এ বিষয়ে বিস্তারিত ঠিক করে যুক্তরাষ্ট্রের এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসআইডি)। এখনও তারা কিছু জানায়নি।

জাতিসংঘের মতে, দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে ইয়েমেন। দুর্ভিক্ষের হুমকিতে রয়েছেন দেশটির অন্তত ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ। ২১ লাখ শিশুসহ অন্তত ৩৩ লাখ মানুষ ভুগছেন অপুষ্টিতে। ৫ বছরের নিচের ৪ লাখ ৬০ হাজার শিশু অপুষ্টিজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। মোট নাগরিকের ৫৫ শতাংশই ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না। যত দিন যাচ্ছে, অবস্থা ততই শোচনীয় হয়ে পড়ছে।  ইয়েমেন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে ১ কোটি ৯০ লাখ নাগরিকের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। যা দেশটির মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের বেশি। অর্ধেকেরও বেশি মানুষের চিকিৎসা সুবিধা বন্ধ হয়ে গেছে।

দক্ষিণ সুদানের ইউনিটি স্টেটের ২টি কাউন্টিতে আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির সরকার ও জাতিসংঘের তিনটি সংস্থা মিলিতভাবে এ ঘোষণা দেয়। গত ৬ বছরের মধ্যে এটাই বিশ্বের কোথাও দুর্ভিক্ষ ঘোষণার প্রথম ঘটনা। জাতিসংঘ বলছে, দক্ষিণ সুদানে এক লাখ মানুষ খাদ্যাভাবের মধ্যে রয়েছেন। আরও এক লাখ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে। জাতিসংঘের মতে, দেশটির ৪০ লাখ লোকের জরুরি খাদ্য, কৃষি ও পুষ্টি সহায়তা প্রয়োজন।  যা দেশটির জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ।

ডিসেম্বর মাসে ৭৫ হাজার শিশু খাদ্যাভাবজনিত মৃত্যুঝুঁকিতে ছিল বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। নাইজেরিয়া ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের আরও ৭০ লাখ মানুষ খাদ্য অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, সমগ্র শাদ হ্রদ অঞ্চলকে সংকট থেকে উদ্ধার করতে অন্তত ১৫০ কোটি ডলার প্রয়োজন। যার অর্ধেকের বেশিই প্রয়োজন ধুঁকতে থাকা নাইজেরিয়ার জন্য। নয়তো স্রেফ খাদ্যাভাবে মারা যাবেন কয়েক লাখ মানুষ।

সোমালিয়া গত ২৫ বছরের মধ্যে টানা তৃতীয়বারের মতো দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ল। সবশেষ ছয় বছর আগে ২০১১ সালের দুর্ভিক্ষে দেশটিতে অন্তত ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষ মারা যায়। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির হিসেব বলছে, সোমালিয়ার ২ কোটি ৯০ লাখ মানুষ খাদ্য সংকটের মুখোমুখি। পানি সংকটে আছেন প্রায় ৬২ লাখ মানুষ।

দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির কারণে আফ্রিকার ওই তিনটি দেশ ও ইয়েমেনে প্রায় দুই কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থার প্রধান নির্বাহী স্টিফেন ও’ব্রেইন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জানিয়েছেন, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান ও ইয়েমেনে ক্ষুধা ‘বিপর্যয়’ এড়াতে মার্চের শেষ নাগাদ কমপক্ষে ৪.৪ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। কিন্তু সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় তহবিলের মাত্র ১০ শতাংশ  অর্থ পাওয়া গেছে। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

সম্পাদনা: আরএইচ

আপনার মতামত দিন

Android App
Android App
Android App
© Natun Feni. All rights reserved. Design by: GS Tech Ltd.