জামায়াত নেতা সুবহানের রায় যেকোনো দিন • নতুন ফেনীনতুন ফেনী জামায়াত নেতা সুবহানের রায় যেকোনো দিন • নতুন ফেনী
 ফেনী |
২৪ জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৯ শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জামায়াত নেতা সুবহানের রায় যেকোনো দিন

রাশেদুল হাসানরাশেদুল হাসান
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০২:০৮ অপরাহ্ণ, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৪
নতুন ফেনী ডেস্ক>>
একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে যেকোনো দিন ঘোষণা করা হবে মর্মে অপেক্ষমান (সিএভি) রাখা হয়েছে।বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষের পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন শেষে চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রেখে দেন। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম প্রায় সম্পন্ন হলো। দুই ট্রাইব্যুনালে এখন চারটি মামলা রায়ের জন্য অপেক্ষায় থাকলো।

গত ১৭ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ৮ কার্যদিবসে সুবহানের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী।
এর আগে গত ৫ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ও বৃহস্পতিবার আট কার্যদিবসে সুবহানের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, সুলতান মাহমুদ সীমন ও রেজিয়া সুলতানা চমন।  গত ৭ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুবহানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন দুই তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান ও মো. নূর হোসাইনসহ রাষ্ট্রপক্ষের ৩১ জন সাক্ষী। তাদের মধ্যে অভিযোগভিত্তিক ঘটনার ২৭ সাক্ষী হলেন- সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী আ ত ম শাহিদুজ্জামান নাসিম, শহীদপুত্র মুক্তিযোদ্ধা তহুরুল আলম মোল্লা, মো. আবু আসাদ, রুস্তম আলী, মো. ইসরাইল, কোরবান আলী, শহীদ জায়া জাহানারা বেগম, আশরাফ উদ্দিন মিয়া, মো. রিয়াজ উদ্দিন মন্ডল, সানোয়ারা খাতুন, মো. ফজলুর রহমান ফান্টু, আব্দুর রহমান সরদার, শহীদ পরিবারের সদস্য মো. আব্দুল মতিন, মো. আজিজুল সরদার, মমতাজ উদ্দিন মন্টু, আক্কাছ শেখ, শহীদপুত্র আলী রানা শেখ, আব্দুল আজিজ, নিজাম উদ্দিন খান, হোসেন সরদার, মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদপুত্র মো. শহিদুল্লাহ শহিদ, এসএম সামছুল আলম, মো. খোরশেদ আলম, শহীদপুত্র মো. সামছুল আলম, আবদুল বাতেন, মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. ফজলুল হক এবং এস কে শহীদুল্লাহ।

সুবহানের বিরুদ্ধে ৯ অভিযোগ
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে নয় অভিযোগের মধ্যে রয়েছে গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ষড়যন্ত্র অপরাধ।

অভিযোগ-১
১৯৭১ সালে মুহাম্মদ আবদুস সুবহান তার সহযোগী জামায়াতে ইসলামের নেতা ও বিহারীদের নিয়ে মসজিদে আশ্রয় নেয়া স্বাধীনতাকামী লোকদের অপহরণের পর হত্যা করেন।

অভিযোগ-২
১৯৭১ সালে ১৩ এপ্রিল তার নেতৃত্বে ও উপস্থিতিতে ঈশ্বরদী যুক্তিতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে লুটপাটসহ ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে ৫ জন নিরীহ-নিরস্ত্র লোককে হত্যা ও ৩ জনকে গুরুতর আহত করে।

অভিযোগ-৩
১৯৭১ সালে ১৬ মে ঈশ্বরদী অরণখোলা গরুর হাট থেকে ২ জন লোককে অপহরণ করে জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় (ঈশ্বরদী, পাবনায়) নিয়ে নির্যাতন করে।

অভিযোগ-৪
১৯৭১ সালে ২ মে তার নেতৃত্বে পাকিস্তানি আর্মিরা ঈশ্বরদী সাহাপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে অসংখ্য বাড়িঘরের মালামাল লুটপাট করে বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং বেশ কয়েকজন লোককে হত্যা করে।

অভিযোগ-৫
১৯৭১ সালে ১১ মে মাওলানা সোবহানের নেতৃত্বে ও উপস্থিতিতে পাকিস্তানী আর্মি পাবনা সদর থানাধীন কুলনিয়া ও দোগাছি  গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে ৭ জন নিরীহ-নিরস্ত্র ও স্বাধীনতাকামী লোককে হত্যা করে এবং কয়েকটি বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেয়।

অভিযোগ-৬
১৯৭১ সালে ১২ মে মওলানা সোবহানের নেতৃত্বে পাকিস্তানি আর্মিরএকটি বিরাট বহর সুজানগর থানাধীন সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে অভিযান চালিয়ে জ্ঞাত-অজ্ঞাত ৩-৪শ লোককে গণহত্যা করে। বিভিন্ন লোকজনের বাড়িঘরের মালামাল লুটপাট করে বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

অভিযোগ-৭
১৯৭১ সালের ২০ মে মওলানা সোবহানের নেতৃত্বে পাকিস্তানি আর্মিরা পাবনা সদর থানার ভাড়ারা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ১৮ জন নিরীহ লোককে অপহরণ করে। তাদের মধ্যে একজনকে  গ্রামের একটি স্কুলে হত্যা করে। অপর ১৭ জনকে পাবনা সদর নূরপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়ে আটক করে নির্যাতন করে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে আটঘরিয়া থানার দেবত্তোর বাজারের পাশে বাঁশবাগানে গুলি করে হত্যা করে। বাকীদের  কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ-৮
১৯৭১ সালে সেপ্টেম্বর মাসের  প্রথম সপ্তাহের যেকোনো দিন মাওলানা সোবহান রাজাকারদের নিয়ে আতাইকুলা থানার (সাবেক পাবনা সদর থানা) দুবলিয়া বাজার থেকে ২ জন স্বাধীনতাকামী লোককে অপহরণ করে কুচিয়ামাড়া গ্রামে একটি মন্দিরের ভেতরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে।

অভিযোগ-৯
১৯৭১ সালে ৩০ অক্টোবর মাওলানা সোবহান রাজাকারদের নিয়ে ঈশ্বরদী থানার বেতবাড়িয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি বাড়িতে লুটপাটসহ বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয় এবং ৪ জন লোককে অপহরণ করে নিয়ে হত্যা করে।

 উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সকালে টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্ত থেকে সুবহানকে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই রাতেই তাকে পাবনা কারাগারে নেওয়া হয়। ২৬ সেপ্টেম্বর পাবনা কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয় সুবহানকে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশনের আবেদন আমলে নিয়ে সুবহানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

সম্পাদনা: আরএইচ

আপনার মতামত দিন

Android App
Android App
Android App
© Natun Feni. All rights reserved. Design by: GS Tech Ltd.