ফেনীতে মাদ্রাসার ছাদ থেকে পড়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যু • নতুন ফেনীনতুন ফেনী ফেনীতে মাদ্রাসার ছাদ থেকে পড়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যু • নতুন ফেনী
 ফেনী |
১০ ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ফেনীতে মাদ্রাসার ছাদ থেকে পড়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধিনিজস্ব প্রতিনিধি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:৪৯ অপরাহ্ণ, ২১ মে ২০২২

ফেনীর একটি বেসরকারি হাফেজি মাদ্রাসা ভবনের ষষ্ঠতলা থেকে পড়ে এক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ভোর চারটার দিকে শহরের পুলিশ লাইনসের বিপরীতে মেজবাউল কোরআন ওয়াস সুন্নাহ মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফেনী সদর মডেল থানার পুলিশ ওই ছাত্রের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।


নিহত ওই মাদ্রাসাছাত্রের নাম মো. ইসরাফিল ইফাদ (১৪)। সে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথ ইউনিয়নের সাতঘরিয়া গ্রামের প্রবাসী মো. ইয়াছিনের ছেলে। তার পরিবার ফেনী শহরে ভাড়া বাসায় থাকেন।

পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইসরাফিল ইফাদ গত চার বছর থেকে এ মাদ্রাসায় হেফজ বিভাগের ছাত্র ছিল। ইতিমধ্যে সে ২৬ পারা পর্যন্ত মুখস্থ করেছে। ওই মাদ্রাসা ভবনের চতুর্থ তলায় একটি বিশাল কক্ষে চারজন শিক্ষক ও ৮০ জন শিক্ষার্থী একসঙ্গে থাকত। ভবনের পঞ্চম তলায় ওয়াশরুম। ষষ্ঠতলা নির্মাণাধীন, শুধু ছাদ হয়েছে। তবে ষষ্ঠতলার ছাদের চারপাশে চার ফুট উঁচু লোহার রেলিং দেওয়া আছে।
ইসরাফিল ইফাদের স্বজন মো. ইলিয়াছ জানান, প্রায় ১৩-১৪ দিন আগে মাদ্রাসাটির এক শিক্ষক ইসরাফিলকে বাজার থেকে ডিম কেনার জন্য ৫০০ টাকা দেন। নিজের পকেটে থাকা আরও কিছু টাকাসহ শিক্ষকের দেওয়া টাকাগুলো হারিয়ে ফেলে সে। টাকা হারিয়ে ওই দিন সে মাদ্রাসায় ফিরে যায়নি। নিখোঁজের খবর পেয়ে তার মা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। খুঁজে পেয়ে তিনি ইসরাফিলকে বাসায় নিয়ে যান। এরপর ১৪ মে তাকে আবার মাদ্রাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মাদ্রাসার শিক্ষকেরা তাকে রাখতে চাননি। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে মুচলেকা দিয়ে তাকে মাদ্রাসায় রেখে আসা হয়।

মাদ্রাসাটির শিক্ষার্থীরা জানান, আজ শনিবার ভোর পৌনে চারটার দিকে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ঘুম থেকে উঠে পঞ্চম তলায় ওয়াশরুমে যান। ফজরের নামাজের পরই হেফজ বিভাগের ক্লাস শুরু হওয়ার কথা। ইসরাফিল ও তার এক বন্ধু ওয়াশরুম থেকে বের হওয়ার পর ছয়তলায় শুকোতে দেওয়া জামাকাপড় আনার জন্য যেতে চায়। তবে ছয়তলার সিঁড়ি অন্ধকার দেখে ওই বন্ধু আর যায়নি। ইসরাফিল একাই ছয়তলায় যায়। এরপর মাদ্রাসা ভবনটির নিচে তাঁর লাশ পাওয়া যায়। মাদ্রাসার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হওয়া ফুটেজে তাকে শুধু একা ছাদে উঠতে দেখা গেছে। কীভাবে সে নিচে পড়েছে তা কেউ বলতে পারেননি।
মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হাফেজ মো. ইউনুছ মোবাইল ফোনে বলেন, পাঁচদিন আগে ইস্রাফিল মাদরাসা থেকে চলে গেলে শুক্রবার বিকেলে ফের তার মা রেখে যায়। তার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তাকে রাখতে অস্বীকৃতি জানালেও তার মা রেখে যায়। একপর্যায়ে শনিবার ভোরে পড়ার সময় তাকে ক্লাসে দেখতে না পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর বাড়ির মালিক হাজি রিয়াজ উদ্দিন তাকে খবর দেন একজন ছাত্রের মরদেহ ভবনের পাশে রাস্তায় পড়ে আছে। পরে ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পুলিশের পাশাপাশি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

ফেনী সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুর রহিম সরকার বলেন, মাদ্রাসা ছাত্র নিহতের ঘটনায় মামলা প্রক্রীয়াধিন রয়েছে।.

আপনার মতামত দিন

Android App
Android App
Android App
© Natun Feni. All rights reserved. Design by: GS Tech Ltd.