মোঃ কামরুল হাসান >>
শিক্ষা ক্ষেত্রে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন ছাগলনাইয়া সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু হানিফ। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে শিক্ষার মশাল হাতে নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে চলেছেন। সে আলোয় আলোকিত করেছে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে।
সূত্র জানায়, ১৯৫৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর কুমিল্লার ব্রাক্ষ্মনপাড়া উপজেলার শশীদল গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত মফিজ উদ্দিন শাহ ও সৈয়দা আছমাতের নেছার ঘর আলোকিত করে জন্ম নেয় প্রফেসর আবু হানিফ। জন্মের পর সে পরিবারের সবাইর আদর, স্নেহ ও ভালোবাসায় বেড়ে উঠে। আবু হানিফ তার বাবা মায়ের আদরের একমাত্র সন্তান।
ছোট থেকেই আবু হানিফ ছিলো অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের। এলাকার সমবয়সী থেকে শুরু করে কারো সাথে ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হতো না। এমনকি রাজনীতির সাথেও নয়। সবসময় হাসি মাখাময় মুখে থাকতো। বাবার ব্যবসায়ীক কারনে তিনি কুমিল্লার দেবিদ্বারে পড়াশুনা করেন। তিনি ১৯৭০ সালে ভুনাইঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেনী পাশ করেন। ১৯৭৫ সালে রেয়াজ উদ্দিন মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১ম গ্রেডে মেট্রিক পাশ করেন। তিনি এই স্কুলে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেনী পর্যন্ত সবসময় প্রথম স্থান অর্জন করতো।
এরপর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ১৯৭৭ সালে সফলার সাথে একই গ্রেডে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন। সেখান থেকে উচ্চতর শিক্ষা অর্জন করে নিজের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন পূরনের জন্য চলে যান সুদূর ঢাকায়। ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমে রসায়ন বিভাগে ভর্তি হন। পরের বছর একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিভাগ পরিবর্তন করে ইতিহাস নিয়ে অধ্যয়ন শুরু করেন। সেখান থেকে ১৯৮২ সালে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করেন। ১৯৮৬ সালে দেবিদ্বার সরকারি কলেজে ইতিহাস প্রভাষক হিসেবে চাকুরীতে প্রথম যোগদান করেন। সেখানে ইতিহাস প্রভাষক হিসেবে ১৪ বছর সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর মাদারীপুর সরকারি নাজিম উদ্দিন কলেজ, লক্ষীপুর সরকারি মহিলা কলেজ, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ, চাঁদপুর সরকারি কলেজ, চট্টগ্রাম সরকারি কলেযে অধ্যাপনা করেন। একই কলেজে ২০১০ সালে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়ে আরো ৪ বছর কর্মরত ছিলেন।
সর্বশেষ ২০১৪ সালে অধ্যক্ষ হিসেবে ছাগলনাইয়া সরকারি কলেজে যোগদান করে বর্তমানেও সুনামের সাথে কর্মরত আছেন। প্রফেসর মোঃ আবু হানিফ শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ২০০২ সালে কুমিল্লার দেবিদ্বারে কফিল উদ্দিন স্মৃতি পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৭ সালে শেরে বাংলা একে ফজলুল হক স্মৃতি সম্মাননা পদকে ভূষিত হন। ২০১৮ সালে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে ছাগলনাইয়া উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন। পাশাপাশি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন পুরস্কার লাভ করেন তিনি।
এছাড়াও তিনি মুক্তিযুদ্বের উপর বিভিন্ন প্রবন্ধ রচনা করেন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস সংগ্রাম কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। আবু হানিফ পারিবারিক জীবনে স্ত্রী, এক ছেলে ও তিন কন্যা সন্তানের জনক। একমাত্র ছেলে পড়াশুনা শেষ করে বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসএসএফ’র দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। বড় মেয়ে এমবিবিএস ডাক্তার, মেঝো মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে অধ্যয়নরত এবং ছোট মেয়ে দেবিদ্বার পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেনীতে পড়াশুনা করছেন।
তার সহধর্মিণী জাহানারা বেগম দেবিদ্বারে একটি বেসরকারি কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। এব্যাপারে প্রফেসর মোঃ আবু হানিফ নতুন ফেনী’কে বলেন, তার মা সৈয়দা আছমাতের নেসা’র অবদানে তিনি আজ এতদূর পথ পাড়ি দিয়ে এসেছেন। তিনি যতদিন কর্মময় জীবনে থাকবেন ততদিন শিক্ষাঙ্গনের জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সম্পাদনা: আরএইচ/এমকেএইচ







