ফেনী |
৮ আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ২৪ শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

দলীয় নেতাদের আক্রোশের শিকার ফরহাদনগরে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর

সদর প্রতিনিধিসদর প্রতিনিধি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:০৪ অপরাহ্ণ, ৩১ জুলাই ২০২০

ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি গঠনকে সামনে রেখে ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদনগর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সৈয়দ জাহাঙ্গীরকে নিয়ে গণমাধ্যমে হঠাৎ কাল্পনিক, মিথ্যা ও বানোয়াট খবর প্রকাশ হয়েছে। এ নিয়ে দলীয় নেতা ও কর্মীদের মাঝে মিশ প্রক্রিয়া সৃষ্টি করাতে স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও দলীয় প্রতিপক্ষ নানা ভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে। এর সাথে জামায়াত সমর্থিত এক সাংবাদিক একাকার হয়ে জাহাঙ্গীর ও তার পরিবারকে হেয় প্রতিপন্ন করতে কাল্পনিক খবর প্রচার করার অভিযোগ উঠেছে।

বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর জানান, আমার বাবা হাজী সৈয়দ আহাম্মদ মেম্বার আমৃত্যু মানুষের সেবা করে গেছেন। মানুষের বিপদে-আপদে এগিয়ে এসে সহযোগিতা করা আমাদের রক্তে মিশে গেছে। যার কারণে আমি এবং আমার ভাইয়েরা যে যেখানে রয়েছি সেখানেই মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতায় মিশে আছি। আমার ভাই আবুল বাশার বিকম ভোর বাজার পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে ২০১৭ সাল থেকে ৪ বার সভাপতি হয়ে আসছেন। তাকে ভোটে পরাজিত করতে না পেরে স্থানীয় একটি মহল বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। ষড়যন্ত্রকারীদের মাঝে আওয়ামীলীগের সাথে আমার দলীয় লোকজনও রয়েছে।

আমি ছোটবেলা থেকেই শহীদ জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ি। ১৯৯৭ সালে সরকারী বিরোধী আন্দোলনে সক্রীয় ভূমিকার কারণে পরবর্তী প্রায় ৩ বছর এলাকায় আসতে পারিনি। ২০০২ সালে ফরহাদনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও ২০০৫ সালে সভাপতির দায়িত্ব পালন করি। ২০১০ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়কের দায়িত্ব পালন করি। পরে ২০১২ সালে ইউনিয়ন যুবদলের কমিটিতে আমি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলে নিজদলীয় পরাজিত পক্ষ আমার উপর ক্ষুব্দ। তারা বর্তমান সরকার দলীয়দের সাথে আতাত করে নানাভাবে আমাকে ও আমার পরিবারকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা অব্যাহত রাখলেও সাধারণ মানুষ আমাদের পক্ষে থাকায় সফল হতে পারেনি। আমাকে ধমাতে না পেরে অন্তত ৫টি মিথ্যা ও ভুয়া মামলায় আসামী করে হয়রানী করতেছে।

ফরহাদনগরে চলমান করোনা পরিস্থিতিতে জেলা কৃষক দলের উদ্যোগে ত্রাণ ও ইফতার বিতরণ করার সময় স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও আমার নিজদলীয় প্রতিপক্ষ ছাত্রলীগকে দিয়ে আমাদের উপর হামলা চালিয়ে আমাদের মোবাইল, টাকাপয়সা ও বিতরণযোগ্য পণ্য ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবীতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আমগীর ও জেলা বিএনপি, যুবদল বিবৃতি দেয়। ঘটনাটিকে প্রতিপক্ষের লোকজন নারী ক্যালেঙ্কারী বলে স্থানীয় দৈনিক অজেয় বাংলাতে প্রচার করে। পরে ওই দৈনিকপত্রিকাটি তাদের ভুল বুঝতে পেরে প্রতিবাদ প্রকাশ করেছে।
দলীয় ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ষড়যন্ত্র করে সফল হতে না পেরে ১৯ জুলাই আমাকে জড়িয়ে ফরহাদনগরে বিএনপি নেতার ১ হাজার শতক জমি জবর দখলের চেষ্টা শিরোনামে খবর প্রকাশ করা হয়। যা পুরোপুরি কাল্পনিক ও মিথ্যা। এর সাথে আমি ও আমার পরিবারের কোন সম্পর্ক নেই। পরে ২৮ জুলাই ফেনীর সেই জাহাঙ্গীরের নানা অপকর্মে বিব্রত বিএনপি নেতারা শিরোনামে আরো একটি বানোয়াট খবর প্রচার করা হয়। মূলত আমার ব্যক্তিগত ইমেজ, সামাজিক অবস্থান ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডকে বিতর্কিত করার লক্ষ্যে এসব খবর প্রকাশ করে ঘোলা পানিতে মাছ ধরার চেষ্টা করছে জনবিচ্ছিন্ন একটি চক্র।
জাহাঙ্গীর তার বিরুদ্ধে আনিত সকল বানোয়াট ও কাল্পনিক খবরগুলোর প্রকৃত তদন্ত করতে জেলা বিএনপির কাছে দাবী জানান এবং সত্য ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর।
ফরহাদনগর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক আবুল হোসেন কমান্ডার ও পাশ্ববর্তী ছনুয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক এডভোকেট ইউছুপ আলমগীর জানান, জাহাঙ্গীর তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন জিয়ার সৈনিক। ছাত্র জীবন থেকে সে দলীয় প্রশ্নে আপোষহীন ছিলো। আগামীতে ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিতে তাকে ঠেকাতে হঠাৎ নিজ দলীয় একটি গ্রæপ তার বিরুদ্ধে নারী ক্যালেংকারী, ভূমি দখলদার বলে কুৎসাহ রটাচ্ছে। দলের দুর্দিনে এসব উদ্যোমী কর্মীদের দলীয় কর্মকান্ড থেকে বিরত রাখতে দলের ভেতর ও বাহির থেকে ষড়যন্ত্র চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার জানান, গত কিছুদিন ফরহাদনগর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর প্রচার হয়ে আসছে। আমরা অভিযোগগুলো তদন্ত করতে একটি কমিটি করেছি। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া গেলে বিষয়টি পরিস্কার হওয়া যাবে।

সম্পাদনা: এনকে

আপনার মতামত দিন

Android App
Android App
Android App
© Natun Feni. All rights reserved. Design by: GS Tech Ltd.