ফ্রিল্যান্সিং এ সফল উদ্যোক্তা ফেনীর মেয়ে শারমীন • নতুন ফেনীনতুন ফেনী ফ্রিল্যান্সিং এ সফল উদ্যোক্তা ফেনীর মেয়ে শারমীন • নতুন ফেনী
 ফেনী |
২৯ জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ফ্রিল্যান্সিং এ সফল উদ্যোক্তা ফেনীর মেয়ে শারমীন

হোসাইন আরমান, সিনিয়র সাব এডিটরহোসাইন আরমান, সিনিয়র সাব এডিটর
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:৩৫ অপরাহ্ণ, ০৮ মার্চ ২০২১

সময়ের পরিবর্তনে বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে নারীর ভূমিকা এখন বহুমুখী। বিভিন্ন পেশায় পুরুষের পাশাপাশি নারীও সমান যোগ্যতায় এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে নারীর পেশার নিয়োজিত থাকা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এরকম পরিস্থিতিতে অনলাইনে আউটসোর্সিং হতে পারে নিশ্চিত আয়ের নির্ভরযোগ্য উপায়। প্রতিটি নারী তার যোগ্যতা ও প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে নিজস্ব আয়ে যাতে জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে তারই অনন্য নজির আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসে আয়।

ঘরে বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাজ করে দেওয়া এর পোশাকি নাম ‘ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং’। বেশ কয়েক বছর ধরে
বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের অনেকেই এ পেশায় সাফল্য পেয়েছেন। মুক্ত পেশাজীবী (ফ্রিল্যান্সার) হিসেবে নারীরাও আউটসোর্সিংয়ের কাজ করছেন। নারীদের অংশগ্রহণও এতে বাড়ছে ধীরে ধীরে। তেমনি একজন সফল উদ্যোক্তা নুজহাত আরা শারমীন।

শারমীন ফেনীর কদলগাজী রোড়ে বাবার বাড়ি।  সোনাগাজী উপজেলার ছাড়াইতকান্দি গ্রামে তার শশুরবাড়ি। বর্তমানে স্বামী-সন্তান নিয়ে থাকেন ঢাকার বারিধারায় । স্বামী মিজানুর রহমান একজন ব্যাবসায়ী। একমাত্র মেয়ে সৃষ্টি বয়স সাড়ে ৩ বছর। বাবা মরহুম এটি এম আব্দুল বাকী খান ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা, মা নিলুফর খান বাংলাদেশ বেতারের খবর পাঠক ছিলেন। বাবার সরকারি চাকুরি বদৌলতে ঘুরেছেন দেশের বিভিন্ন জায়গায়। শৈশব কেটেছে টাঙ্গাইল, গোপালগঞ্জ, বরগুনা, নরসিংদিতে । ফেনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ফেনী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি, পাস কোর্স শেষ করে উচ্চ শিক্ষা নিতে পাড়ি জমান সাইপ্রাসে। সেখান থেকে হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে ডিগ্রি নিয়ে ব্যাটেন রুজ গ্রুপের সিস্টার কনসার্ন ইনোটেলের সেলস ডিপার্টমেন্টে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ হিসেবে জয়েন করেন।

বেশিদিন চাকরি জীবনে ছিলেননা। দু-বছর পর চাকরি ছেড়ে দিয়ে শুরু করেন আউটসোর্সিং। অনলাইনেই আউটসোর্সিং এর কাজ শিখেন। ২০১৩ সালে স্বামী মিজানসহ প্রতিষ্ঠা করেন আউটসোর্সিং ফার্ম টিপিএস। একটি কম্পিউটারে দুজন মিলে কাজ করতো। অর্থনৈতিক সংকটের কারনে পুঁজি দেয়া সম্ভব হয়নি। ভালো কোন অফিস ছিলনা । জেনারেটরের পাশে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা কাজ করতে হয়েছে। কাজের তুলনায় জনবল কম বলে অনেক সময় ২৪ ঘন্টাও কাজ করতে হয়েছে। প্রতিষ্ঠান দেয়ার ১ সপ্তাহের মধ্যই প্রথম কাজ পান। প্রথম মাসে ২ হাজার ডলারের কাজ করেন। এর পর থেকে পরিশ্রম, দক্ষতা, একাগ্রতার সাথে পাল্লা দিয়ে ধীরে ধীরে পরিসর বাড়তে থাকে। জনবল বাড়ে, কাজ বাড়ে। বর্তমানে ২০ জন লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে এই কোম্পানির মাধ্যমে। তার মধ্য ৬ জন নারী।

শারমিন জানান, ২ বছর চাকরি করার পর মনে হলো নিজে কিছু করা উচিত। কিন্তু সামান্য পুঁজি দিয়ে কি করবো ভেবে পাচ্ছিনা তখনই আউটসোর্সিং শুরু করি। কারন এটি পুঁজি কম লাগে। এটি একটি স্বাধীন পেশা হলেও শুরুতে অনেক বেশি কাজের চাপ ছিলো কারন তখন আমাদের কোন কর্মী ‍ছিলনা । সব কাজ আমাদের ২ জনকেই করতে হতো। কাজের পাশাপাশি সংসারও সামলাতে হতো। আমার পরিবার বিশেষ করে আমার স্বামী আমাকে অনেক বেশি সহযোগিতা করেছিলো এখনো করছে। তাদের সহযোগীতার কারনে আজকের এই অবস্থানে আসা। আমি এখন ৬-৮ ঘন্টা কাজ করি। এই সময়টাই এখন আমার জন্য যথেষ্ট। আমাদের কোম্পানি অধিকাংশ কাজ পায় যুক্তরাষ্ট্রের রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলো থেকে। এখন মাসে ৮-১০ হাজার ডলারের অর্ডার ডেলিভারি দিয়ে থাকি। ভবিষৎতে এটি আরো বাড়বে।

তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলাম। যেমন- প্রথম আলো বন্ধুসভা, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র, অনুরনন আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র (ফেনী), আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ। অন্যায় দেখলে রুখে দাড়াতাম, যে কোন অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সামনে কাতারে ছিলাম। তখন থেকে দেশের জন্য, মানুষের জন্য কিছু করার প্রবল ইচ্চা জাগতো। এখন এই আউটসোর্সিং কোম্পানির মাধ্যমে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হচ্ছে তেমনি তরুণ-তরুণীদেরও কর্মসংস্থান করতে পেরেছি। স্বপ্ন আছে সামনে আরো বেশি মানুষকে এ পেশার সাথে সম্পৃক্ত করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখা।

নারী-পুরুষের বৈষম্য নিয়ে বলেন, আমি কখনো মনে করিনা কোন কাজ পুরুষ বা নারীর আলাদা হতে পারে। নারী-পুরুষ সবারই সব কাজ করতে দেয়া উচিত যদি সে করতে চায়। আমাকে দেখে আমার কাজিনরা অনুপ্রাণিত হয়ে তারাও আউটসোর্সিং কাজ শিখেছে, কোম্পানি দিয়েছে এবং সফল হয়েছে। এটি আমার জন্য খুবই আনন্দের এবং গর্বের বিষয়। চেস্টা থাকবে যেসব নারী উদ্যোক্তা হতে চায় তাদের পাশে দাড়াতে। তাদের স্বপ্নপূরনে সহযোগী হতে।

২০২০ সালে সৃষ্টি এন্টারটেইনমেন্ট নামে নতুন একটি এ্যাড ফার্ম করেছেন। এ প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে ‘বেনু’ নামে একটি নাটকও নির্মাণ করেছেন। যদিও এটি এখনো কোথাও প্রচার হয়নি। তিনি জানান ভবিষৎতে এই এ্যাড ফার্ম থেকে দর্শকদের সৃজনশীল কাজ উপহার দেয়ার চেস্টা করবে।
সম্পাদনা:আরএইচ/এইচআর

আপনার মতামত দিন

Android App
Android App
Android App
© Natun Feni. All rights reserved. Design by: GS Tech Ltd.